উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন সময়ের দাবি

 

শেখ উল্লাস

 

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত ইত্যাদি সব ধরনের সম্পর্কের মধ্যেই হৃদ্যতা ও শান্তি জড়িত থাকেআবার এটাও বলা চলে, শান্তির জন্যই সম্পর্ক তৈরি করা হয়আর সম্পর্ক দেশে দেশে বা প্রতিবেশী দেশের সাথে হলে সেখানে সহ-অবস্থানের কার্যক্রমের দিকগুলো আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় বর্তমান মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতের সাথে বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনায় উঠে এসেছেএই সম্পর্ককে দু'দেশের  কোটি কোটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর আজ সময় এসেছেভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিশেষ করে ত্রিপুরা-আসাম-মেঘালয়ের সাধারণ মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষদের সহযোগিতায় অকৃপণ হস্তে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেনবিশেষ করে ত্রিপুরা রাজ্যের বাঙালি জনগোষ্ঠী যাদের অনেকের পৈত্রিক নিবাস এদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-নোয়াখালি বা সিলেটতাদের অবদানের কথা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হ'তে চললেও ত্রিপুরাবাসীর অবদানের কথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খুব কমই স্বীকার বা স্মরণ করা হয়েছেঅথচ ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় কেন্দ্রীয় রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ার কারণেই হোক আর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসাবেই হোক ত্রিপুরা রাজ্য বড়বেশি অবহেলিত, অর্থনৈতিক দিক দিয়েও অনেক পিছিয়েএই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ-আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা রাজধানী আগরতলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ত্রিপুরার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে  ত্রিপুরাবাসীর অবদানের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাংলাদেশেরও কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখা দরকার বলে অভিজ্ঞ মহল বিবেচনা করেন

এদেশের শান্তিকামী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি আজ আশা করছে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মনিশংকর আয়ারের গেল সপ্তাহের ঢাকা সফর ফলপ্রসু হবে এবং উত্তর পূর্ব ভারতের জনগণ, ব্যবসায়ী ও সরকারি পর্যায়ও একটি সম্পর্ক তৈরি হ'বে সময়ের প্রয়োজনে

মণিশংকর আয়ার ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেনতারা ১৪ জুলাই পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের নীতিনির্ধারক ও ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেনএ সময় ভারতীয় প্রতিনিধিদল স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, '৪৭ এর দেশ বিভাগের পর, এমনকি '৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ও এ অঞ্চলের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিলঅথচ স্বাধীনতার পর এ সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরেছে বিভিন্ন সময় এবং হিংসা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়ানো হয়েছেভারত বিরোধী শক্তিগুলো যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়াতে চায়, ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করে, সমাজের শান্তি বিনষ্ট করতে চায় তারাই এ জন্য দায়ীআবার ভারতের রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল, ক্ষমতায় শুধু টিকে থাকতে চেয়েছে তারাও এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে গেছে

সাধারণ মানুষের প্রয়োজন আর বাস্তবতাকে কতদিন অস্বীকার করে চলা যায়? তাই সময়ের প্রয়োজনেই ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে সম্পর্কন্নোয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে ভারত সফরে গিয়ে চারটি চুক্তি ও একটি যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দু'দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত গড়েছেন অপরদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের  একাধিক মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা ঢাকায় এসে দু'দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেনএছাড়া, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা থেকেও বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ যতবেশি বিনিয়োগ করতে পারে ততই কমতে পারে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিভারতের ওই অঞ্চলটিতে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যক সুবিধার নানা সম্ভাবনা রয়েছেতবে সেখানে পণ্য রপ্তানীর জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সম্মুখীন হতে হয় নানা সমস্যারভারতের এক একটি রাজ্যের আছে, একেক ধরনের শুল্ক কাঠামোসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই দু-দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতা ও দক্ষতা প্রমাণ করতে হ'বে, - শুধুমাত্র দু'দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে ঘটনাক্রমে দু'দেশেই এখন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক দল - আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় ইন্দিরা কংগ্রেস

দু'দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ আন্তরিক হলে এক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারেযত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন দু'দেশের অভিন্ন অবস্থানে থাকার জন্য এ সম্পর্ক জরুরি দু'দেশের আছে হাজারো কিলোমিটারের অভিন্ন সীমান্ত, কোটি কোটি বাঙালি-অবাঙালি জনগোষ্ঠীর একই সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষ বোস, সাধক কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী সুকান্ত ভট্টাচার্য্যসহ এমনি আরো কত কিছু দু'দেশের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতাই শান্তি ও সম্পর্কের পূর্ব শর্তএকবিংশ শতাব্দীর আজকের এ লগ্নে যখন 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা 'বিশ্বগ্রাম' এর ধারণা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে তখন উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর সাথে সম্পর্ককে নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করতে পারেন নাযারা করেন তারা নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষের বন্ধু বা শান্তির সৈনিক নয়, তারা আলোর পথের যাত্রী নন বরং সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ

                

বহুমাত্রিক কোন্দলের নিয়ন্ত্রক শুদ্ধি অভিযান

 

সংলাপ

 

'দল' শব্দটির প্রথম ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে গবেষণা ছাড়া তা বলা কঠিন'দল' শব্দের আগে যখন থেকে রাজনৈতিক শব্দটি বসিয়ে দেয়া হল তখন থেকেই বহুল ব্যবহৃত শব্দের তালিকায় উঠে এসেছিল এ 'দল' শব্দটি, তা গবেষণা ছাড়াই বলে দেয়া যায় আর এই 'দল' শব্দের আগে রাজনৈতিক শব্দ বসে যাবার পর থেকেই দেখা গেল রাজনীতিতে 'দল বিচরণ করা শুরু করলো একা নয়, - তার একটি জমজ ভাইকে নিয়ে, যার নাম কোন্দল'দল' আর 'কোন্দল' যেন একটি জমজ শব্দ জোড়া'দল' আছে কিন্তু কোন্দল নাই এটা অসম্ভব কোন্দল আছে আর 'দল' নেই এটি অবাস্তব নীরব কোন্দল, সরব কোন্দল, রক্তপাত শূন্য কোন্দল, রক্তপাতময় কোন্দল, সশস্ত্র কোন্দল, নিরস্ত্র কোন্দল, সাময়িক কোন্দল, স্থায়ী কোন্দল, থেমে থেমে কোন্দল, লাগাতার কোন্দল, কেন্দ্রীয় কোন্দল, আঞ্চলিক কোন্দল, প্রকাশ্য কোন্দল, গোপন কোন্দল, বিকেন্দ্রিক কোন্দল, ত্রিকেন্দ্রিক কোন্দল, এমনকি রয়েছে বহুকেন্দ্রিক কোন্দল ইত্যাদি রকমারি কোন্দলে ভারি হয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলি কোন্দলের আবার রয়েছে সহজাত সংক্রামক ক্ষমতা দল থেকে দলে উপদলে সহযোগী ও সহভোগী দলের, বলে-সবলে ছড়িয়ে পড়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে কোন্দলের গত ৩৮ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রামাণ্য ইতিহাস দলিল পড়তে গেলে তা যদি প্রকাশ করতে হয় ১০ খন্ডে, সে ক্ষেত্রে একই সংখ্যক রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দলের প্রামাণ্য দলিল প্রকাশ করতে লাগবে ১০০ খন্ড দল থাকলে কোন্দল থাকবেই এটাই যেন স্বাভাবিক প্রকাশ্যে না হলেও অপ্রকাশ্যে দলের নেতারা এটা স্বীকার করে থাকেন বড় দল হলে তো কথাই নেই সে রাজনৈতিক দলই হোক, ছাত্র সংগঠনই হোক, হোক না কৃষক শ্রমীক বা যে  কোন পেশাজীবী সংগঠন দল ক্ষমতাশীল আবার ওই দলটিই কোন্দলহীন, এটা হতেই পারে না এবং হয়ও না যেমন হয়না একই সাথে ঘরটি আলোময় এবং অন্ধকারময়। (কু) ঐতিহ্যের ধারা ধরে অতীতের সকল ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মতো বর্তমান ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-এর মধ্যেও কোন্দল রয়েছে কখনও নিরব কখনও সরব সংক্রমণ ধারার আওয়ামী লীগ-এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলিও এই কোন্দল  ব্যাধিতে আক্রান্ত বেপরোয়া তারুণ্য, টেন্ডার উৎসারিত কাঁচা টাকার নোট, বাণিজ্যের বিনিয়োগশূন্য নগদ লাভ আর অনুষ্ঠান চাঁদাবাজি ক্ষমতাশীল অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিয়ে যায় সশস্ত্র সংঘাতে এ অভিজ্ঞতা এদেশের ক্ষমতাশীল প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের ইতিহাস থেকে নেয়া

বর্তমান ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতি মাসেই অভিজ্ঞতার পাতায় সংযোজন করে চলেছে নতুন নতুন ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের পাতায় ফলাও করে প্রকাশিত ছাত্র লীগের কোন্দলের  সশস্ত্র সংঘর্ষের খবরে দেশবাসি অবাক না হ'বারই কথা নতুন করে এ নিয়ে ভাববার কিছু ছিল না ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে এরূপ অজস্র সংঘর্ষের খবর জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিয়মিত যারা চোখ বুলিয়ে থাকেন দৈনিকের পাতায় আর চোখ রাখেন টিভির খবরে তাদের কাছে ছাত্রলীগের এবারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষগুলোর ঘটনার দু'টি বিশেষত্ব ধরা পড়বে ছাত্রলীগসহ অতীতের ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘর্ষগুলি ঘটতো কমিটি গঠন, টেন্ডার দখলের মতো নগদ স্বার্থসংশ্লিষ্ট উপস্থিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে সময়ের বিচারে এসব সংঘাতকে অভিহিত করা যেত বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ বলে কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগের ঘটে যাওয়া সশস্ত্র সংঘর্ষগুলোকে নিবিড় পর্যালোচনার আওতায় এনে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে অগ্রহণযোগ্য দৃশ্যমান ইস্যুর চেয়ে রহস্যময় অদৃশ্য ইস্যুই যেন কাজ করছে এসব সংঘাতের মূলে এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ নয়, কোন একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার আওতায় রিমোটকন্ট্রোল এর নিয়ন্ত্রণে যেন দেশজুড়ে ঘটে চলছে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ একের পর এক

সংঘর্ষগুলোর অপর যে বিশেষত্বটি চোখে পড়তে বাধ্য তা হচ্ছে এর নির্মমতা অকল্পনীয় পাশবিকতা যা অতীতে কখনও ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত হ'তে হ'লে তন্ন তন্ন করে দেখে যেতে হবে অতীতের সবকটি অনুরূপ সংঘর্ষ সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘর্ষের যে বিবরণ উঠে এসেছে পত্রপত্রিকার পাতায় আর যে সব ছবি দেখা গেছে পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের পর্দায় তা রীতিমত লোমহর্ষক তিন তলা আর চার তলার ছাদ থেকে সহকর্মীদের মেরে ফেলে দেয়া এটা কোন ক্রমেই স্রেফ অন্তর দলীয় কোন্দলের ফসল হতে পারে না কেবল যা হতে পারে তার ধারণা পেতে চাইলে বিবেচনায় নিতে হবে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ এর দ্বিতীয় শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তি দলীয় সাধারণ সম্পাদক, দলের মুখপাত্র, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একটি চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে ছাত্রলীগের নজিরবিহীন অস্বাভাবিক সশস্ত্র  সংঘাত অনুসন্ধানে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সৈয়দ আশরাফ কয়েক মাস আগে বলেছিলেন 'ছাত্রলীগে শিবির ঢুকে পড়েছে' ছাত্রলীগে শিবির ঢুকে পড়েছে নাকি শিবিরই এখন ছাত্রলীগ করছে, নাকি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নীরবে কাজ করে কেন্দ্র এবং জেলা উপজেলা পর্যায়ে শিবির সংগঠকরাই ছাত্রলীগ চালাচ্ছে তা ব্যাপক গোয়েন্দা অনুসন্ধানই বলবে অন্তত সময়মতো বলে দেবেই একদিন

বর্তমানে দাঁড়িয়ে কয়েক মাস আগেও শীর্ষস্থানীয় জামাত নেতাদের দেয়া একটি বক্তব্যকে গভীর ভাবে বিবেচনায় নিতেই হবে পত্র পত্রিকায় উঠে আসা ছাত্রলীগের সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ এর পতন এর জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট আর কারো দরকার হবে না ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠনের অর্ন্তদলীয় কোন্দল কোন ক্ষমতাশীল দলের অকাল ক্ষমতাচ্যুতির কারণ ঘটেছে ইতোপূর্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির একটিও নেই প্রশ্ন হচ্ছে, জামাত নেতারা তা'হলে এ কথা বললেন কি করে? এরূপ ভবিষ্যৎবাণী করলেন কিসের ভিত্তিতে? এ প্রশ্নের উত্তর সহজেই অনুমেয়।  কিন্তু অনুমানের ওপর প্রতিকার চলে না এর প্রামাণ্য উত্তর শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে খুঁড়ে বের করতে হবে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগকেই তাদের ক্ষমতার স্বার্থে এবং তার চেয়েও বেশি এই দেশের স্বার্থে।                      

 

শক্তির জয় সাময়িক সত্যের জয় আজীবন

 

 

সংলাপ

 

জামাত-শিবিরের রাজনীতি বিষাক্ত করেছে দেশের পরিবেশ নিজস্ব মতাদর্শের বাইরের ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের ওপর ইসলামি ছাত্রশিবিরের কর্মকান্ড আবারো সামনে এনেছে তাদের উগ্রপন্থী রাজনীতির নগ্ন বীভৎস, পৈশাচিক চেহারাটাকে শিবিরসহ তাদের অভিভাবক সংগঠন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত স্বাধীনতাবিরোধী জামাতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলেও কোনো সরকারই শেষ পর্যন্ত সে পথে হাঁটেনি রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃশংসভাবে ছাত্র হত্যা এবং রগ কাটার বীভৎস তাণ্ডব এবং গত ২৭ জুন হরতালকে কেন্দ্র করে নিরীহ পথচারীকে আগুনে পুড়িয়ে মারায় দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গণদাবিতে পরিণত করেছে সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই দাবি নিষিদ্ধ হোক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দেশের মানুষের সোচ্চার দাবি ইসলামি ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা হোক পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক

যতদূর জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডে শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি কঠোর হস্তে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সারাদেশে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে প্রাথমিক একটি তালিকা নিয়েই অভিযান শুরু হয়েছে যেখানে জামাত-শিবিরের ঘাঁটি আছে সেখানেই অভিযান চলবে এবং উৎখাত করা হবে শিবিরকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জামাত-শিবিরের অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে

সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে বৈঠকে জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী উগ্রবাদী নেতাকর্মীদের তালিকা করে গ্রেফতার করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে এছাড়া জামাত-শিবির আগে যে সব হিংসাত্বক ঘটনা ঘটিয়েছে সে সব ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখতে বলা হয়েছে জামাতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপরও সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সারা দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টির বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে জামাত-শিবির মাঠে নেমেছে বলে দাবি করেছেন অভিজ্ঞমহল শিবিরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন ও সূর্যসেন হলে শিবিরের যে সংখ্যা কর্মী রয়েছে তারা যে কোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে অপরদিকে শিবিরের কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেয়া হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে শিবির

জামাত-শিবিরের অপকর্ম প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর সময় যতো এগিয়ে আসছে জামাত-শিবির ততো মরিয়া হয়ে ওঠেছে এদের কর্মকাণ্ডে জামাত-শিবির রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে জনমত জোরালো হচ্ছে জনমতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও প্রশাসন এদের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিক এটাই গণ-দাবি এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলো রাজনৈতিকভাবে এদের প্রতিহত করুক এটাই দেশবাসী চায় বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর দ্বারপ্রান্তে

জামাত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ হোক- সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীলদের পক্ষ থেকে এ দাবি জোরালো হচ্ছে জামাত-শিবির মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা অপরাধ করেছে

তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে তাতে জনগণের বলিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে এ দেশের জনগণ সচেতন হয়েছে সেভাবে জামাত-শিবিরের হিংস্র কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও জনগণ সচেতন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাক এটাই গণ-মানুষের দাবি এ দেশের মানুষ তাদের হিংস্র কার্যকলাপ এবং রগকাটার রাজনীতি, ধর্মকে ভিন্ন খাতে ব্যবহারের কার্যকলাপে জাতি অতিষ্ঠ এটাকে প্রতিরোধ, প্রতিহত করা ছাড়া জাতির সামনে আর কোনো পথ নেই।           

 

গণ-মানুষের কাঠগড়ায় ভারতীয় রেল মন্ত্রক

 

সংলাপ

 

সস্তা চমকের আশায় মানুষের জীবন নিয়ে এক বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন ভারতের রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিগত পনেরো মাস ধরে শিলান্যাস ছাড়া আর কোনো ক্ষেত্রে তার ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন না মমতা ব্যানার্জি গণ-মানুষ বলছে, রেলমন্ত্রীর এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে রেলের সামগ্রিক পরিকাঠামো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সম্প্রতি গভীর রাতেই ওপার বাংলায় বীরভুমের সাঁইথিয়া স্টেশনে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা উত্তরাঞ্চল এক্সপ্রেস ও বনাঞ্চল এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনেরও বেশি যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে দু'মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দেড় শতাধিক যাত্রীর মমতা ব্যানার্জির আমলে ঘটে গেছে শতাধিক ছোট বড় দুর্ঘটনা বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছে অনেক ট্রেন একদিকে নতুন নতুন ট্রেন ঘোষণা আর শিলান্যাস করে মানুষকে প্রতারণা করছেন মমতা ব্যানার্জি অপরদিকে যাত্রী সুরক্ষার ব্যবস্থা যথাযথ না করে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছেন মৃত্যুর মুখে

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে ভারতজুড়ে গণ-মানুষের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন মমতা ব্যানার্জি সারা ভারতে রেলমন্ত্রক প্রতিদিন ৯ হাজার যাত্রীবাহী ট্রেন চালায় দৈনিক মোট যাত্রীর সংখ্যা ২ কোটি অভিযোগ উঠেছে এই বিশাল যাত্রী পরিষেবা দেখভাল করার জন্য বিন্দুমাত্র সময় দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেন না রেলমন্ত্রী খাদ্য, সুরক্ষা, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের নামে একদল পেটোয়া বুদ্ধিজীবীকে হাজার হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ করেছেন রেলমন্ত্রী তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যান না সংসদে উপস্থিত হন না তিনি রেলভবনে বসে কাজ দেখতে চান না তার একমাত্র লক্ষ্য ওপার বাংলা পশ্চিমবঙ্গের মহাকরণ তাই কলকাতায় বসে তুঘলকী খেয়াল অনুসারে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন নতুন নতুন রুটের কথা ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী এসবই রাজনৈতিক চমক দেয়ার জন্য রেল লাইনের আধুনিকীকরণ না করে ট্রেনের গতি বাড়ানো সম্ভব নয় সিগন্যাল ব্যবস্থাকে আরো উন্নত না করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয় কিন্তু সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ভারতের রেলমন্ত্রী এই পনেরো মাসে পনেরো'শ ঘোষণা করেছেন জমি অধিগ্রহণ না করেই প্রকল্পের শিলান্যাস করছেন অর্থের বরাদ্দ না করেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন রেলের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট ৯৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে এক বছরে মমতার আমলেই খালি হয়েছে ২২ হাজার পদ স্বভাবতঃ কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে সব মিলিয়ে রেলমন্ত্রীর খেয়াল মেটাতে গোটা পরিকাঠামো নড়বড়ে অবস্থায় এসব সত্ত্বেও নাকি রেলমন্ত্রী নির্বিকার জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে নাশকতার পরেও রেলের পক্ষ থেকে এ কাজে এখনও বিশেষ উদ্যোগ দেখছে না যাত্রীরা বরং জ্ঞানেশ্বরীর নাশকতার জন্য ওপার বাংলার সরকারকে দায়ী করতেই তিনি বেশি ব্যস্ত রেলের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন কমিটি বা কমিশনের কোনো সুপারিশকেই আমল দিচ্ছে না রেলমন্ত্রক

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে বিহার, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, আসাম, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক দুর্ঘটনা সামনে এনে দিয়েছে রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থার বেহাল রূপটিকে এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ জনগণের চাহিদা হলো রেলের যাত্রী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হোক দুর্ঘটনার কয়েকদিন পর তার কারণ অনুসন্ধানকে চাপা দেয়া হয় ফলে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিকার হয় না সাঁইথিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি খুঁজে বের করা হয়নি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ রেলমন্ত্রকের যদি এই তদন্তের সাধ্য না থাকে তাহলে সিবিআই'র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করুক রেল, এই আওয়াজ উঠেছে অভিজ্ঞমহল থেকে অন্যান্য দুর্ঘটনাগুলোরও কারণ অনুসন্ধানে ব্যবস্থা নেয়া ভারতের রেলমন্ত্রকই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত বলে ভারতীয় বিশেষজ্ঞমহল অভিমত প্রকাশ করা শুরু করেছেন।            

      

ঢাকা সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে চমক  

 

শফিকুল ইসলাম

 

ঢাকা সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে চমক আসতে পারে রাজধানীর ভৌগোলিক সীমারেখা বিভক্ত হ'তে পারে চার ভাগে রাজধানীতে বসবাসরত বিপুল জনগোষ্ঠির নাগরিক সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে

ঢাকা সিটি করপোরেশন ভেঙে চার ভাগ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে

সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই ঢাকা মহানগর বিভক্ত হতে পারে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে প্রতিটি এলাকায় নির্বাচিত হবেন আলাদা মেয়র সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত নাগরিকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি এমন বিশাল নগরীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে একাধিক মেয়রের প্রয়োজন অনুভব করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তারা এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু হবে

এছাড়াও সিটি করপোরেশনের মেয়রের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগেরও চিন্তাভাবনা চলছে অন্তর্বর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসককে নিয়ে যাতে রাজনৈতিক মহলে কোন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ না হয় সে বিষয়টিও সরকারের চিন্তাভাবনায় রয়েছে সব মহলে পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে এমন কাউকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবছে সরকার

বহু আগে থেকে, ঢাকা নগরবাসীর সংখ্যা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে তাতে একজন মেয়রের পক্ষে সব সামলানো অনেকটাই কঠিন হ'য়ে পড়ছে নাগরিক সেবাকে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার চিন্তাভাবনা থেকেই রাজধানীকে চার ভাগে বিভক্ত করা সময়ের দাবি বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন

ঢাকার ভবিষ্যৎ মেয়রদের পদমর্যাদার বিষয়টি নিয়েও নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা চলছে বর্তমানে ঢাকার মেয়র পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় আসীন চার ভাগে বিভক্ত রাজধানীর মেয়রেরা মন্ত্রী না কি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলে রাজনৈতিক মহলে কী ধরনের সাড়া মিলবে সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্টরা ভাবছেন

 

২৭টি দেশের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন

 

জয়ন্ত

 

ইইউ'র ২৭টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রীরা গত ১৩ জুলাই ব্রাসেলসে অর্থ এবং আর্থিক তত্ত্বাবধানসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে একটি সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে মতৈক্যে পৌঁছেছেন তথ্য মাধ্যমের ধারণা, অর্থ এবং আর্থিক তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে ইইউ একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে

আর্থিক শৃংখলা জোরদার করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা আর্থিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা জোরালো করার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন তারা একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আর্থিক বাজেটের পারস্পরিক যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করবেন

এর প্রধান লক্ষ্যে হলো : প্রতিটি সদস্য দেশ প্রতি বছরের প্রথম ছ' মাসের মধ্যে আগামী বছরের আর্থিক বাজেট অন্যান্য সদস্য দেশ এবং ইইউ'র কাছে উত্থাপন করতে হ'বে বিভিন্ন সদস্য দেশ এবং ইইউ যৌথভাবে বিভিন্ন দেশের আর্থিক বাজেট যাচাই করবে এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানাবে যাতে আর্থিক সংকট এড়ানো যায়

ইইউ'র অর্থ ও মুদ্রা বিষয়ক সদস্যগুলো রেন সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, বর্তমানে ইইউ'র সদস্য দেশের সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায় ঘাটতিতে সদস্য দেশের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলো বাজারের আস্থা জোরদার করায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তবে এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছতে পারেননি ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ আর্থিক বাজেটকে প্রথমে নিজ দেশের পার্লামেন্টে উত্থাপন করে যাচাই করার কথা মনে করে

ইইউ''স্থিতিশীল ও বর্ধিত ইশতেহারের' মানদন্ড জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সদস্য দেশের অর্থ মন্ত্রীরা ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়া'র অন্তবর্তীকালীন আর্থিক ঘাটতি'র ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এ চারটি দেশ খুব সম্ভবত ঘাটতি'র জন্য আর্থিক শাস্তি পাবে'স্থিতিশীল ও বর্ধিত ইশতেহারে' বলা হয়েছে, ইইউ'র সদস্য দেশের আর্থিক ঘাটতি সংশ্লিষ্ট দেশের জিডিপি'র ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারবে না তবে বর্তমানে ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে শুধু লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া ও সুইডেন এ তিন দেশের ঘাটতি এ নির্ধারিত মানদণ্ড অতিক্রম করে নি তথ্য মাধ্যম মনে করে, ইইউ'র শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো অর্থ ব্যবস্থা সুসংহত করে ইইউ'র দৃঢ়তা প্রকাশ করা এবং আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশের ঘাটতি স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করার প্রতি হুঁশিয়ারি দেয়া

সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা ইইউ'র পালাক্রমিক চেয়ারম্যান দেশ বেলজিয়ামের অর্থ মন্ত্রীকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে ইইউ'র আর্থিক তত্ত্বাবধান সংস্থা স্থাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আগামী সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ের ওপর ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ইইউ'র অভ্যন্তরীণ বাজার এবং আর্থিক সেবা বিষয়ক সদস্য মাইকেল বার্নিয়ার বলেছেন, বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্ট আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে ব্যাংকিং, বীমা ও শেয়ার বাজারে ইইউ'র তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ক্রমাগতভাবে স্পষ্ট হচ্ছে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রধান মতভেদ হলো আর্থিক তত্ত্বাবধান সংস্থাকে কতটা ক্ষমতা দেয়া যায় তা নিয়ে ইইউ আশা করে সংস্থাগুলো আরো বেশি তত্ত্বাবধান ক্ষমতা পাবে তবে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ এর বিরোধিতা করেছে

আর্থিক তত্ত্বাবধান জোরদার এবং বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন যে, তথ্য মাধ্যম ব্যাংকের 'চাপ পরীক্ষার' ফলাফল প্রকাশ করবে গ্রীসের ঋণ সংকট ইউরোপের আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বাজারের উদ্বেগ হলো আর্থিক সংকট বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ইউরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এর ফলে নতুন একটি আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে এ পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ ইউরোপের ৯১টি ব্যাংকের ওপর ধারাবাহিক চাপ পরীক্ষা করছে যাতে অর্থনীতি মন্দার পরিবেশে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকের মোকাবিলার সামর্থ্য পরীক্ষা করা যায় বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা চলতি মাসের ২৩ তারিখে এ চাপ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে রাজি হয়েছেন যাতে বাজারকে জানানো যায় যে, ইউরোপের আর্থিক ব্যবস্থা সুস্থ আছে

 

ফ্রান্সে বোরখা নিষিদ্ধ!

 

সংলাপ

 

ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেশটিতে প্রকাশ্যে নারীদের মুখমন্ডল ঢাকা বোরখা পরা নিষিদ্ধ বিল সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে বাস্তিল দিবসের প্রাক্কালে মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সহজেই বিলটি পাস হয়েছে ৫৭৭ আসনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে তিনশ' ৩৫ টি আর বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র একটি

১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দূর্গ পতনের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো ফ্রান্সকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তোলা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি পাস হওয়ার পর এবার তা সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে উঠবে এবং সেখানেও বিলটি অনূমোদন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

বিলটিতে সরকারি অফিস-আদালত, যানবাহন, রাস্তা-ঘাট, মার্কেট, ব্যক্তিগত মালিকাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিনোদন কেন্দ্র সহ সব ধরনের জনসমাগমস্থলে বোরখা পরা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি প্রকাশ্যে নেকাব ও বোরখা পরা নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করলে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়

বিলটি পাসের পর ছয় মাস মুসলিম নারীদের এ বিষয়ে সচেতন করার কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে এ সময়ের পর কেউ প্রকাশ্যে মুখ ঢাকা বোরখা পরে বের হ'লে তাকে একশ ৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে আর যে সব পুরুষ ধর্মীয় কারণে তাদের স্ত্রী ও কন্যাদের নেকাব ও বোরখা পরতে চাপ দেবে তাদেরকে ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা ও এক বছরের জেল দেয়ার বিধান হচ্ছে ফ্রান্সে ৫০ লাখ মুসলমান বসবাস করছেন তাদের মধ্যে দুই লাখেরও কম মহিলা বোরখা ব্যবহার করেন

 

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আগুন নিয়ে খেলছে

 

সংলাপ

 

কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বকে পরমাণুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রায় এক বছরের মধ্যে এই প্রথম কাস্ত্রোকে টেলিভিশনে দেখা গেল

কাস্ত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একে কেন্দ্র করেই পরমাণুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে তিনি বলেন, 'আমার ধারণা, যুদ্ধের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আগুন নিয়ে খেলছে'

ইরানে হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলেও সতর্ক করে দেন ফিদেল কাস্ত্রো তিনি বলেন, ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে ইরাক যুদ্ধে তাদের সেই প্রতিরোধের মধ্যে পড়তে হয়নি

কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামপ্রতিক ঘটনা নিয়ে আয়োজিত 'রাউন্ড টেবিল' নামের একটি টক শোতে ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয় এতে ৮৩ বছর বয়সী কাস্ত্রোকে বেশ সুস্থ দেখা গেছে তবে তিনি ধীরে ধীরে কথা বলছিলেন এ সময় কাস্ত্রো গাঢ় নীল রঙের ট্র্যাক স্যুট ও সার্ট পড়া ছিলেন তাঁর পাশে তিনজন শিক্ষাবিদকেও দেখা গেছে তবে সাক্ষাৎকারটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি

সাক্ষাৎকারে কাস্ত্রো পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ জাহাজ 'চেওনান' ডুবে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ওই জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে এর জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করছে সমপ্রতি তিনি হাভানায় জাতীয় বিজ্ঞান কেন্দ্র 'ন্যাশনাল সেন্টার অব সায়েন্টিফিক ইনভেষ্টিগেশন' পরিদর্শন করেন চার বছরের মধ্যে ওই প্রথম তিনি জনসমক্ষে আসেন তাঁর এ পরিদর্শনের ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা রক্ষা করা হয় কাস্ত্রোর বিজ্ঞান কেন্দ্র পরিদর্শনের কয়েকটি চিত্র সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন তার ছেলে আলেক্স এ ছাড়া কেন্দ্রের একজন কর্মী গোপনে মুঠোফোনে চারটি ছবি তুলেছেন তিনি সেগুলো দুজন সাংবাদিকের বুগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন ধারণা করা হয়, বিজ্ঞান কেন্দ্র পরিদর্শনের দিন সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়

 

অস্ত্র ব্যবসায়ে অ্যামনেস্টির নিন্দা

 

সংলাপ

 

অস্ত্র ব্যবসায়ে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কঠোর ভাষায় বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর নিন্দা করেছে অ্যামনেস্টি বলেছে, অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবসার কারণে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লংঘন এবং যুদ্ধ অপরাধ বাড়ছে আজ প্রকাশিত অ্যামনেস্টির এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃটিশ, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং মার্কিন পরিবহন কোম্পানিগুলো এমন সব দেশে অস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে যেখানে ওসব অস্ত্র মানবাধিকার লংঘন এবং সহিংসতার কাজে ব্যবহার হতে পারে

এদিকে, বৃটেন ও জার্মানি গুচ্ছ বোমার ব্যবহার ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করছে অথচ, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ ও জার্মান কোম্পানিগুলো এ ধরনের অস্ত্র পাকিস্তানে রফতানি করেছে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মেশিনগান এবং এন্টি এয়ারক্র্যাফট গানের যন্ত্রাংশের একটি চালান বুলগেরিয়া থেকে ফ্রান্স ও কেনিয়া হয়ে কংগোতে যায় এবং সেখানকার যুদ্ধে ব্যবহার হয় অ্যামনেস্টি বলছে, কংগোতে ২ লাখ বিশ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে সেখানে মানবাধিকার লংঘনের মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে, আর এসব অস্ত্র পরিবহন বন্ধে ব্যর্থতার জন্য বুলগেরিয়া, ফ্রান্স এবং কেনিয়ার সরকার দায়ী জাতিসংঘ যখন অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আলোচনার কথা বলছে তখন অ্যামনেস্টির এ প্রতিবেদন কিছুটা হলেও বিশ্ববিবেককে নাড়া দেবে বলে চিন্তাবিদরা আশা করছেন

 

পাকিস্তান অস্থিতিশীল

 

সাদি

 

পাকিস্তানের উপর চীনের প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে বলে অভিজ্ঞমহল মতামত দিচ্ছেন আগামী বছরগুলোতে দু'দেশের সামরিক ও পরমাণু ক্ষেত্রে বোঝাপড়াও ক্রমশ আরো গভীর হ'বে এটা ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে তুলবে এই ধারণা একটি ভারতীয় 'থিঙ্ক ট্যাঙ্ক' নয়াদিল্লিস্থ 'ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিস' নামে সংস্থা বলেছে, কালে কালে পাক সরকার ও সেদেশের সেনা চীনের উপর বেশি বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার ব্যাপারে ভারতকে সতর্ক হ'তে হ'বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি

ভারত ও আমেরিকার আপত্তি উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে যে কোনও পরিস্থিতিতে সামরিক সাহায্য ও দু'টি ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু চুল্লি তৈরির যে চুক্তি চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে হয়েছে, তা ইসলামাবাদকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে

ভবিষ্যতে পাকিস্তান আরো ভঙ্গুর, অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে ওই সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পাকিস্তানে একাধিক ক্ষুদ্র, তবে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম গোষ্ঠী আছে যাদের সঙ্গে পাক তালিবানের সংঘর্ষ হ'লে তা পাকিস্তানকে ছোট ছোট 'পকেটে' ভেঙে দিতে পারে বলেও মনে করছে ওই 'থিঙ্ক ট্যাঙ্ক' এই প্রক্রিয়াটিকে 'লেবাননাইজেশন' বলে উল্লেখ করেছে তারা অথবা এমনও হতে পারে যে পাকিস্তান ভেঙে টুকরো টুকরো হ'য়ে অনেকগুলো ছোট ছোট রাষ্ট্রে বিভক্ত হ'য়ে গেল সম্প্রতি পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে যে ভয়ানক তালিবানি হামলা হয়েছে, তা ওই প্রতিবেদনের বক্তব্যকেই ঠিক বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন প্রতিবেদনটিতে এও বলা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে উঠবে পাক সমাজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হ'য়ে যাবে বালুচিস্তান, সিন্ধু, উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ প্রভৃতি প্রদেশগুলোও রেহাই পাবে না