জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন।
বিশ্বজুড়ে শিশুরা যেভাবে সংঘর্ষের শিকার ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর
ক্রীড়নকে পরিণত হচ্ছে তা রোধ করতে নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরিকালীন
ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের আরজি জানালেন জাতিসংঘের প্রবীণ
কর্মকর্তারা।
উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বা সামরিক বাহিনী যারা শিশুদেরকে তাদের বাহিনীতে
নিযুক্ত করছে বা তাদের যৌন নিপীড়নে বাধ্য করছে,
পঙ্গু করে দিচ্ছে,
এমনকি সংঘর্ষে শিশুদেরকে হত্যা পর্যন্ত করতে দ্বিধা করছে না,
তার বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি
করা হয়েছে।
এমনকি এ সকল উগ্রপন্থী সংগঠনসমূহের নেতাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির
সুপারিশ পর্যন্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাদের অন্যতম হলেন শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী
ও ভারতের অতুল খারে।
জাতিসংঘ এই প্রথম চিহ্নিত করলো শিশুদেরকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারকারী
সংগঠনগুলোকে।
গত মাসে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উল্লেখ
করে ১৬টি সামরিক গোষ্ঠী ও উগ্রপন্থী সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আফ্রিকা,
এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই সংগঠনগুলোকে এ ধরনের অনৈতিক
কার্যকলাপে মদদ দিয়ে চলেছে।
এমনকি নেপালও শিশুদেরকে সামরিক বাহিনীতে নিযুক্তির অভিযোগ করেছে গত ৫
বছর ধরে।
শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন -
'একদিকে
চিহ্নিতকরণ ও ধিক্কার দেয়ার প্রক্রিয়া,
একই সঙ্গে ক্রমাগত নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির
প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
এ ধরনের নিন্দনীয় কার্যকলাপ রোধ করা ও অন্যান্যদেরকেও ভবিষ্যতে কোনরকম
শিশুঘাতী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবার ক্ষেত্রে নিবৃত্ত করার জন্য তা
কার্যকরী হতে পারে।'
জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৫ সদস্যের
ক্ষমতাশালী কমিটির কাছে তার এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
তার আরো পর্যবেক্ষণ হলো,
এই সংগঠনগুলোর বেশিরভাগই রাষ্ট্রের অধীন নয়,
যাদেরকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর কাছে আবেদন জানান শিশুদের স্বার্থে এই
প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানোর জন্য।
জাতিসংঘের নিরাপত্তামূলক অভিযানের সহকারী মহাসচিব অতুল খারে সমস্যার
গুরুত্ব তুলে ধরে নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন,
নয়টি শান্তিরক্ষা অভিযানে শিশু সুরক্ষা উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন।
লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনীর পক্ষে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া
হয়েছে।
আফগানিস্তানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরী করার পদক্ষেপ গৃহীত
হয়েছে।
ইউনিসেফের উপঅধিকর্তা হিল্ডে জনসন নিরাপত্তা পরিষদে তার ভাষণে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন।
উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ক্রমাগত বিদ্যালয়গুলোকে নিশানা করছে যা এক
অভাবনীয় বাস্তবতা।
নিরাপত্তা পরিষদের আহুত বিতর্ক সভা থেকে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে,
কিছু সংগঠন স্বেচ্ছাচারে শিশুদেরকে আইন বহির্ভূত সামরিক কার্যকলাপে
নিয়োজিত করছে ও তাদেরকে নিপীড়ন করছে।
এদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও ক্রমশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
একই সাথে নিষেধাজ্ঞা কায়েম করতে হবে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করার
অপরাধে যারা শিশুদেরকে সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত করেছে।
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে তাদের নিজ নিজ
দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে,
আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার সহায়তা গ্রহণ করে এবং ফৌজদারি আদালতে
এদেরকে দোষী সাব্যস্ত করতে হবে।
ইতোমধ্যে মধ্য আফ্রিকার ৬টি দেশ তথাকথিত এন ডিজা মিনা ঘোষণার অঙ্গীকার
অনুসারে শিশুদেরকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত
নিয়েছে।
ক্যামেরন,
চাদ,
মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র,
নাইজার,
নাইজেরিয়া এবং সুদান যৌথভাবে অঙ্গীকার করেছে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি
অনুসারে শিশু অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ গৃহীত হবে।
দেশে দেশে সশস্ত্র সংঘর্ষের বলি যাতে আর কোন শিশু না হয়,
তার সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে জাতিসংঘকেই।
নাবালক কিশোর-কিশোরীদের হাতে অস্ত্র নয়,
তারা পাক সুস্থ পরিবেশ।