|
উগ্রবাদ
সন্ত্রাসের ভিত্তি
সংলাপ
প্রতিবেদক
॥
অনুসন্ধিৎসুদের
ভিতরে কিছু প্রশ্ন জেগেছে।
মুম্বইয়ে
সন্ত্রাস ঘটানোর প্রায় চার মাস ধরে জঙ্গিরা সব কিছু পরিমাপ করে গেছে তাদের
পরিকল্পনামাফিক।
এনেছে
অস্ত্রশস্ত্র।
এমনকি
দুটি হোটেলে তারা সাজিয়ে নিয়েছিল নিজস্ব কন্ট্রোলরুমও।
এখন
প্রশ্ন,
এত রাইফেল,
গুলি,
গ্রেনেড ও
অন্যান্য বিস্ফোরক নিয়ে নৌসেনা,
পুলিশ,
গোয়েন্দা সকলের
দৃষ্টি এড়িয়ে কীভাবে তারা শহরে ঢুকে আস্তানা গেড়ে বসল?
স্বাভাবিকভাবেই
সন্দেহ জাগছে,
গোয়েন্দা ও
পুলিশবাহিনীর কিছু লোক সাহায্য করেছে এই সব জঙ্গিকে।
ভারতের
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অভিযোগ,
প্রচুর অর্থের
বিনিময়ে স্থানীয় নজরদারি বাহিনীর বেশ কিছু লোককে নিজেদের প্রয়োজনে লাগিয়েছে
এই সব জঙ্গি।
এই খানে ভারতের
রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের একাংশের অপরিসীম ক্ষমতার লোভ ও দুর্নীতিগ্রস্ততার
নগ্ন ছবিটি প্রকট হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার জন্য কিছু রাজনৈতিক নেতা যেমন যে-কোনও অপরাধের সঙ্গে
জড়িয়ে পড়তে পারে,
তেমনি অর্থের
লোভে সমস্ত ন্যায়নীতি ও মানবিকতাকে বিসর্জন দিতে কুণ্ঠিত বোধ করে না
প্রশাসনিক স্তরের কিছু মানুষ।
বিশ্বায়নের যুগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ প্রায় সারা পৃথিবীতে রপ্তানি করেছে
সন্ত্রাসবাদ।
আর,
সন্ত্রাসবাদ
অর্থের জোরে সুবিধেমতো ব্যবহার করেছে উগ্রবাদী রাজনীতিকে,
কখনও ধর্ম ও
সামপ্রদায়িকতাকে,
কখনও-বা
ভাষা-সংস্কৃতি আর প্রাদেশিকতাকে।
সামরিক
বাহিনীর কর্মীরাও কেউ কেউ এই অর্থলোভের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে।
সমপ্রতি
আমরা জেনেছি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুরোহিতের কথা,
যিনি
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অংশ নিয়েছেন মালেগাঁও বিস্ফোরণে।
সমস্ত দেশের তথা
সমগ্র বিশ্বে উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসবাদীরা আদর্শগতভাবে এক।
ধর্মীয়
পরিচয় নির্বিশেষে তারা একই শ্রেণীর স্বার্থরক্ষা করে চলে।
তাই,
বি জে পি-র এক
শীর্ষনেতা গোপনে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী পাকিস্তানপন্থী
গোলাম আজমের সঙ্গে।
বাবরি
মসজিদ ধ্বংসের পর মার্কিন সরকারের কর্মকর্তা বৈঠক করেন বি জে পি নেতার সঙ্গে।
বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত রেখে চলে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা।
ভারত,
বাংলাদেশ বা
পাকিস্তানের উগ্রবাদীরা মার্কিন মুলুকে যায় মার্কিন সরকারের টাকায়।
তাই,
আই এস আই বা
লস্কর-ই-তৈবা হোক আর আল কায়দাই হোক,
তাদের সঙ্গে
মুম্বইয়ের স্থানীয় উগ্রবাদী জঙ্গিদের যোগাযোগ থাকা কিছুমাত্র অসম্ভব নয়।
আদৌ
অসম্ভব নয় স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীর লোকদের জড়িত থাকাও।
পৃথিবীর প্রায়
প্রত্যেক দেশের সরকার যেমন উপর্যুপরি সন্ত্রাস উৎখাতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ
হচ্ছে অথবা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তেমনি প্রকট হচ্ছে গোয়েন্দাবাহিনীর
চূড়ান্ত ব্যর্থতা।
আর এর
জন্য মূলত দায়ী রাজনৈতিক নেতারাই।
তাদের
কাছে এখন সন্ত্রাস হয়ে উঠেছে ভোটের লড়াইয়ের প্রধান উপকরণ।
আসলে,
সরকার বা
বিরোধীপক্ষ কেউই তেমন আন্তরিক নয় সন্ত্রাস দমনে।
সেই
সংবেদনশীলতা এবং দক্ষতা নেই ওই সব রাজনৈতিক নেতার।
মাঝখান
থেকে প্রাণ যাচ্ছে নিরপরাধ মানুষের,
ধসে পড়ে দেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
তাদেরকে
কে বোঝাবে এই ট্রাজেডি শুধুমাত্র মুম্বইয়ের নয়,
সারা বিশ্বের।
তাই,
অবিলম্বে
তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসুক কারা সেই সব মানবতার শত্রু,
যারা মদত
জুগিয়ে যাচ্ছে জঙ্গিদের।
জানানো
হোক বিশ্বের মানুষকে।
নির্বাচন নয়,
অর্থনৈতিক
সঙ্কট ও জাতীয় নিরাপত্তাই হোক এখন বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সরকারের অন্যতম
মুখ্য কর্মসূচি।
|