ইইউ'র
২৭টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রীরা গত ১৩ জুলাই ব্রাসেলসে অর্থ এবং আর্থিক
তত্ত্বাবধানসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে একটি সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন এবং বেশ
কিছু ক্ষেত্রে মতৈক্যে পৌঁছেছেন।
তথ্য মাধ্যমের ধারণা,
অর্থ এবং আর্থিক তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে ইইউ একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
আর্থিক শৃংখলা জোরদার করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা
আর্থিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা জোরালো করার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।
তারা একমত হয়েছেন যে,
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আর্থিক বাজেটের পারস্পরিক যাচাই ব্যবস্থা
কার্যকর করবেন।
এর প্রধান লক্ষ্যে হলো : প্রতিটি সদস্য দেশ প্রতি বছরের প্রথম ছ'
মাসের মধ্যে আগামী বছরের আর্থিক বাজেট অন্যান্য সদস্য দেশ এবং ইইউ'র
কাছে উত্থাপন করতে হ'বে।
বিভিন্ন সদস্য দেশ এবং ইইউ যৌথভাবে বিভিন্ন দেশের আর্থিক বাজেট যাচাই
করবে এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানাবে।
যাতে আর্থিক সংকট এড়ানো যায়।
ইইউ'র
অর্থ ও মুদ্রা বিষয়ক সদস্যগুলো রেন সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক
সম্মেলনে বলেছেন,
বর্তমানে ইইউ'র
সদস্য দেশের সামনে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে বাজারের আস্থা
পুনরুদ্ধার করা যায়।
ঘাটতিতে সদস্য দেশের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলো বাজারের আস্থা জোরদার
করায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা এ বিষয়ে মতৈক্যে
পৌঁছতে পারেননি।
ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ আর্থিক বাজেটকে প্রথমে নিজ দেশের পার্লামেন্টে
উত্থাপন করে যাচাই করার কথা মনে করে।
ইইউ'র
'স্থিতিশীল
ও বর্ধিত ইশতেহারের'
মানদন্ড জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এবারের সম্মেলনে
বিভিন্ন সদস্য দেশের অর্থ মন্ত্রীরা ফিনল্যান্ড,
সাইপ্রাস,
ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়া'র
অন্তবর্তীকালীন আর্থিক ঘাটতি'র
ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন।
এ প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এ চারটি দেশ খুব সম্ভবত ঘাটতি'র
জন্য আর্থিক শাস্তি পাবে।
'স্থিতিশীল
ও বর্ধিত ইশতেহারে'
বলা হয়েছে,
ইইউ'র
সদস্য দেশের আর্থিক ঘাটতি সংশ্লিষ্ট দেশের জিডিপি'র
৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।
তবে বর্তমানে ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে শুধু লুক্সেমবার্গ,
এস্তোনিয়া ও সুইডেন এ তিন দেশের ঘাটতি এ নির্ধারিত মানদণ্ড অতিক্রম করে
নি।
তথ্য মাধ্যম মনে করে,
ইইউ'র
শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো অর্থ
ব্যবস্থা সুসংহত করে ইইউ'র
দৃঢ়তা প্রকাশ করা এবং আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশের ঘাটতি স্বাভাবিক
মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করার প্রতি হুঁশিয়ারি দেয়া।
সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা ইইউ'র
পালাক্রমিক চেয়ারম্যান দেশ বেলজিয়ামের অর্থ মন্ত্রীকে ইউরোপীয়
পার্লামেন্টের সঙ্গে ইইউ'র
আর্থিক তত্ত্বাবধান সংস্থা স্থাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আগামী
সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ের ওপর ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইইউ'র
অভ্যন্তরীণ বাজার এবং আর্থিক সেবা বিষয়ক সদস্য মাইকেল বার্নিয়ার বলেছেন,
বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্ট আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ব্যাংকিং,
বীমা ও শেয়ার বাজারে ইইউ'র
তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ক্রমাগতভাবে স্পষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রধান মতভেদ হলো আর্থিক তত্ত্বাবধান সংস্থাকে
কতটা ক্ষমতা দেয়া যায় তা নিয়ে ইইউ আশা করে সংস্থাগুলো আরো বেশি
তত্ত্বাবধান ক্ষমতা পাবে।
তবে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ এর বিরোধিতা করেছে।
আর্থিক তত্ত্বাবধান জোরদার এবং বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার
একটি অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন যে,
তথ্য মাধ্যম ব্যাংকের
'চাপ
পরীক্ষার'
ফলাফল প্রকাশ করবে।
গ্রীসের ঋণ সংকট ইউরোপের আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজারের উদ্বেগ হলো আর্থিক সংকট বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ইউরো এলাকায়
ছড়িয়ে পড়া নিয়ে এর ফলে নতুন একটি আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ ইউরোপের ৯১টি ব্যাংকের ওপর ধারাবাহিক চাপ পরীক্ষা
করছে।
যাতে অর্থনীতি মন্দার পরিবেশে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকের মোকাবিলার
সামর্থ্য পরীক্ষা করা যায়।
বিভিন্ন দেশের অর্থ মন্ত্রীরা চলতি মাসের ২৩ তারিখে এ চাপ পরীক্ষার
ফলাফল প্রকাশে রাজি হয়েছেন।
যাতে বাজারকে জানানো যায় যে,
ইউরোপের আর্থিক ব্যবস্থা সুস্থ আছে।