কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা
দেশগুলোর মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বকে পরমাণুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রায় এক বছরের মধ্যে এই প্রথম কাস্ত্রোকে টেলিভিশনে দেখা গেল।
কাস্ত্রো বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
একে কেন্দ্র করেই পরমাণুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন,
'আমার
ধারণা,
যুদ্ধের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আগুন নিয়ে খেলছে।'
ইরানে হামলা চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে
বলেও সতর্ক করে দেন ফিদেল কাস্ত্রো।
তিনি বলেন,
ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
ইরাক যুদ্ধে তাদের সেই প্রতিরোধের মধ্যে পড়তে হয়নি।
কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামপ্রতিক ঘটনা নিয়ে আয়োজিত
'রাউন্ড
টেবিল'
নামের একটি টক শোতে ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়।
এতে ৮৩ বছর বয়সী কাস্ত্রোকে বেশ সুস্থ দেখা গেছে।
তবে তিনি ধীরে ধীরে কথা বলছিলেন।
এ সময় কাস্ত্রো গাঢ় নীল রঙের ট্র্যাক স্যুট ও সার্ট পড়া ছিলেন।
তাঁর পাশে তিনজন শিক্ষাবিদকেও দেখা গেছে।
তবে সাক্ষাৎকারটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে কাস্ত্রো পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ জাহাজ
'চেওনান'
ডুবে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন।
তাঁর মতে,
যুক্তরাষ্ট্র ওই জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে এর জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করছে।
সমপ্রতি তিনি হাভানায় জাতীয় বিজ্ঞান কেন্দ্র
'ন্যাশনাল
সেন্টার অব সায়েন্টিফিক ইনভেষ্টিগেশন'
পরিদর্শন করেন।
চার বছরের মধ্যে ওই প্রথম তিনি জনসমক্ষে আসেন।
তাঁর এ পরিদর্শনের ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়।
কাস্ত্রোর বিজ্ঞান কেন্দ্র পরিদর্শনের কয়েকটি চিত্র সরকারি ওয়েবসাইটে
প্রকাশ করেন তার ছেলে আলেক্স।
এ ছাড়া কেন্দ্রের একজন কর্মী গোপনে মুঠোফোনে চারটি ছবি তুলেছেন।
তিনি সেগুলো দুজন সাংবাদিকের বুগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ধারণা করা হয়,
বিজ্ঞান কেন্দ্র পরিদর্শনের দিন সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়।