|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
ইরানের অপহৃত পরমাণু বিজ্ঞানী মুক্ত
সংলাপ ॥
এদিকে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনের প্রধান আলাউদ্দিন বুরুজার্দি বলেছেন, কোনো দেশের নাগরিক অপহরণ করাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, অন্য দেশের নাগরিক অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে অপহরণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই অপমানিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আলাউদ্দিন বুরুজার্দি বলেন, ইরানের নাগরিককে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিৎ। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী ব্যর্থ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে না যে, ইরান পরমাণু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিনী সব পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ'র হাতে অপহৃত ইরানী বিশেষজ্ঞ শাহরাম আমিরি দেশে ফিরে বলেছেন, তিনি পাঁচ কোটি ডলার ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমিরি তেহরান বিমানবন্দরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার অপহরণকে কেন্দ্র করে মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ইরানে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তাকে বিশাল অংকের অর্থের পাশাপাশি ইউরোপের একটি দেশে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তাকে অপহরণের প্রথম দিন থেকে সিএনএন নিউজ চ্যানেলকে দশ মিনিটের সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য এক কোটি ডলার ঘুষ প্রস্তাব করা হয় বলে আমিরি জানিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন যে দাবি করেছেন, আমিরি তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, 'আমাকে অপহরণের পর মানবাধিকারের ধ্বজাধারী বলে দাবি করা একজন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক আমাকে স্বাধীন বলে দাবি করায় আমি বিস্মিত হয়েছি।' হিলারি গত মঙ্গলবার দাবি করেছে, আমিরি মুক্ত এবং যে কোন সময় দেশে ফিরে যেতে পারেন। আমিরির পরিবারকে ইরান সরকার চাপের মুখে রাখার পর তিনি ইরানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে যে দাবি করেছে, তিনি তাও প্রত্যাখ্যান করেন। আমিরি বলেন, 'এ দাবি একেবারেই অসত্য। তিনি অপহৃত হওয়ার পর থেকে ইরানি কর্মকর্তারা তার পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন।
সংস্কৃতির বিকৃতি ঠেকাতে প্রবাসী
সংলাপ ॥
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির বিকৃতি ঘটছে। এহেন পরিস্থিতি থেকে ঐতিহ্যমন্ডিত বাঙালি সংস্কৃতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী বাঙালিদেরকে আরো সজাগ হতে হবে। এ ব্যাপারে জাতীয়ভিত্তিক মাধ্যম গুলোর কর্মকর্তাগণের দায়িত্ব অপরিসীম। বিদেশী সংস্কৃতি অবলম্বনে যে সব নাটক অথবা চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে সে সবে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপূরক তেমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক অনুষ্ঠানেই নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট টিভিগুলোতে প্রচারিত অধিকাংশ নাটকে ভাষার বিকৃতি ঘটছে প্রায় সময়ই। বাংলাদেশের সব ক'টি জেলা ও উপজেলাতে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার স্বার্থে শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব অডিটরিয়াম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের তরফ থেকে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পেশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাঙালিদের ভাবমূর্তি বিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে। একাত্তরের চেতনায় প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে বাঙালিদের ভাবমূর্তি আবারো সুসহংত হবে। বিশ্বের যেসব শহরে বাঙালিরা বাস করছেন সেখানে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারকে নিতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজকে বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে এ উদ্যোগের প্রয়োজন জরুরি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও এ ব্যাপারে যাবতীয় সহায়তা দিয়ে যাক এটাই জাতির প্রত্যাশা। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুজ্জ্বল রেখে যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাস অবহিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকেও বিভিন্ন কর্মসূচী নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা কতটা জোরদার ছিল তা আজ সর্বজনবিদিত। সে বিষয়টি স্মরণে রেখে বাংলাদেশের শিল্পীদের বর্তমানে আরো অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে এবং সরকারী সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবাসীদের সক্রিয় অবিস্মরণীয় ভূমিকা যেমন চিরজাগ্রত রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে, তেমনিভাবে এখনও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সচল রাখতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মহিমান্বিত করতে প্রতিটি প্রবাসীর ভূমিকা অনাদিকাল স্মরণীয় করে রাখতে প্রবাসীরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিকৃতি ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকুক এবং বেশি লাভবান হোক মাতৃভূমি- এটাই প্রবাসীদের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা।
বিশ্বকাপ ২০১৪ ব্রাজিলে
সংলাপ ॥
বিশ্বকাপ ফুটবল
শুরুর আগেই উঠেছিল বিতর্ক।
বলা
হচ্ছিল আয়োজক হিসেবে ব্যর্থ হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা! সন্ত্রাসী হামলার
হুমকিও ছিল।
কিন্তু
শেষ পর্যন্ত রোববার সফলভাবেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপ।
প্রথমবারের মতো আয়োজক হয়েই সফল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভাঙলো
মিলন মেলা।
চার বছর
পর দেখা হবে সাম্বা নৃত্যের দেশ ব্রাজিলে।
১৯৫০
সালের পর
একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রাজিলই খেলেছে সব বিশ্বকাপ। সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপও জিতেছে তারা। ইতালি চারবার। তিনবার জার্মানি। দু'বার উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড একবার করে বিশ্বকাপ নিয়ে গিয়েছিল ঘরে। ১৯৩০ সাল উরুগুয়ে থেকে যাত্রা শুরু হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের। প্রথমবার ট্রফি জেতে স্বাগতিকরা। চার বছর পর শিরোপা জেতে স্বাগতিক ইতালি। ফাইনালে তারা ২-১ গোলে হারায় সাবেক চেকোসলাভিয়াকে। বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা শুরু ব্রাজিলের। চারবছর পর আবার শিরোপা জেতে তারা। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ যায় ইংল্যান্ডের ঘরে। এরপর আবারো ব্রাজিল। ১৯৭০ সালেও জেতে ব্রাজিল। পরের বার জেতে আর্জেন্টিনা। ১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপ জেতে ইতালি। পশ্চিম জার্মানিকে ফাইনালে হারায় ৩-২ গোলে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ডিয়েগো ম্যারাডোনার। তার হাত ধরে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। চার বছর পর তাদের হাতে আবার উঠতে পারতো ট্রফি। কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে ম্যারাডোনার দল ০-১ গোলে হেরে যায়। ১৯৯৪ সালে শিরোপা জিতে ব্রাজিল। চার বছর পর স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা পুরো মাত্রায় কাজে লাগায় ফ্রান্স। জিনেদিন জিদানের 'ম্যাজিকে' প্রথমবারের মতো ট্রফি জেতে তারা। ২০০২ সালে এশিয়ায় আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ব্রাজিল। জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো জিতে নেয় শিরোপা। ২০০৬ সালেও শিরোপা জিততে যাচ্ছিল জিদানের ফ্রান্স। কিন্তু টাইব্রেকারে ৩-৫ গোলে ইতালির কাছে হেরে যায় তারা। ফুটবল চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় যোগ হলো এবার স্পেনের নাম। রোববার সকার সিটি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন প্রথমবারের মতো জিতে নেয় বিশ্বকাপ।
ক্যানসারের বিরুদ্ধে গবেষণা অব্যাহত
ঈশা ॥
ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান! অন্তত তেমনটাই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এমন একটি ওষুধ তারা আবিষ্কার করেছেন, যা ক্যানসারে ক্ষতিগ্রস্থ কোষ বা টিউমারকে সংকুচিত করে দিয়ে তার বিস্তার ঠেকিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। তা সে স্তনের ক্যানসারই হোক বা অগ্ন্যাশয় আর জরায়ুর ক্যানসারই হোক। রোগীর শরীরে ওই ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দিলে সাফল্য মিলবে বলে দাবি করেছেন ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা। এর আবিষ্কর্তা তথা মিডলসেকস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রে আইলেস এ কথা জানিয়ে বলেন, খুব বেশি হলে পাঁচ বছর। তার মধ্যেই এই ওষুধ বাজারে চলে আসবে। ডেইলী মেল জানিয়েছে, মার্কিন সংস্থা সেলডেক্স থেরাপটিকসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এই জীবনদায়ী ওষুধ। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন করে বেড়ে উঠবে। যা স্তন, জরায়ুসহ দেহের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হওয়া টিউমার ধ্বংস করে দেবে। এমনকি ভালো মাত্রায় উপকার পাবেন অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ভোগা রোগীরাও। অধ্যাপক আইলেস জানান, এই ওষুধ শুধু ওই টিউমারকে সংকুচিত করবে না, পাশাপাশি আরোগ্যের দিকেও রোগীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যদি কেমোথেরাপি বা অস্ত্রোপচারের সাহায্য নেন, তাহলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন রোগী। বিভিন্ন শ্রেণীর এই ওষুধ দিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা ইতোমধ্যেই করা হয়েছে। তাতে খুব 'ভালো ফল' মিলেছে। প্রাথমিকভাবে মানব শরীরেও এর কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত ৬০ জন পুরুষ ও মহিলা ক্যানসার রোগীর দেহে এর প্রয়োগ করা হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির নজির
ইমরান ॥
এক গুলিতে রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষ
সংলাপ ॥
ফেরার আততায়ীর লাগাতার খোঁজ এবং তাকে কেন্দ্র করে রুদ্ধশ্বাস নাটকের যবনিকা পড়ল একেবারে সাদামাটাভাবে। ব্রিটিশ পুলিশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই অভিযানে খরচও মাত্র একটি গুলি। গত এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ দাগি রাউল মোয়াটকে খুঁজছিল। রাউল জেল থেকে বেরিয়েই খুন করে তার এক সময়ের প্রেমিকার নতুন প্রেমিককে। আহত করে সেই প্রেমিকা এবং এক পুলিশকে। তারপর থেকে 'চেজ' করতে থাকে পুলিশ। তাড়া করতে করতে শেষ অবধি উত্তর পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেলের কাছে রথবেরি গ্রামে এই 'চেজ সিন' ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছায়। সেখানেই জাল গুটিয়ে আনে পুলিশ। সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ রথবেরির উপকণ্ঠে নদীর তীরে রাউলের খোঁজ মেলে। নর্থামব্রিয়া পুলিশের চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মার্ক ডেনেট জানিয়েছে, পুলিশ দেখে, নদীর তীরে ছবির সঙ্গে মিল আছে এমন একজন দাঁড়িয়ে আছে। আততায়ী সেই সময় সশস্ত্র ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। লোক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বেরুতে বারণ করে দেয়া হয়। শুরু হয় দর কষাকষি। কিন্তু বেশ কয়েক ঘন্টা কথাবার্তা চালিয়েও রাউলকে তারা পথে আনতে পারেননি। মার্ক আরও জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত রাউলকে গুলি করা হয়। তার শরীরে গুলি লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। কোনও পুলিশ আহত হয়নি।
বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে পাঁচশ কোটি
সংলাপ ॥
বিশ্বব্যাপী গণমানুষের হাতে থাকা প্রযুক্তি পণ্যের মধ্যে মোবাইল ফোন প্রধানতম। দিন দিন বেড়েই চলছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। নানা প্রযুক্তি সেবা থেকে উন্নয়নশীল দেশসমূহ পিছিয়ে থাকলেও ভিন্নতা রয়েছে মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে। ওয়্যারলেস ইন্টেলিজেন্স - এর মতে, বিশ্বব্যাপী গত আঠারো মাসে একশ কোটির বেশি মোবাইল ফোন সংযোগ নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে। দ্রুততম এই অগ্রগতির ফলে বিশ্বে বর্তমানে মোবাইল ফোন সংযোগের পরিমাণ পাঁচশ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। অনেক অঞ্চলে পেনিট্রেশন শতভাগ অতিক্রম করেছে, যেখানে মাথাপিছু একাধিক সংযোগও রয়েছে। বেন উড নামের একজন মোবাইল ফোন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, 'বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত কনস্যূমার ডিভাইস - এর মধ্যে মোবাইল ফোন প্রধানতম। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে যখন প্রথম মোবাইল ফোনের কোম্পানী বিক্রয়ের প্রত্যাশা করেছিল। বর্তমান যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ তরুণ- তরুণী, শিশু এমনকি অনেক পোষা প্রাণীদেরও মোবাইল ফোন আছে। শুধু যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর তিন কোটি মোবাইল ফোন বিক্রী হয়। এই সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলছে। ২০০৮ সালের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী প্রায় চারশ কোটি মোবাইল ফোন সংযোগ ছিল। ওয়্যারলেস ইন্টেলিজেন্স এর মতে, ২০১২ সালের মাঝামাঝি এই সংখ্যা বেড়ে ছয়শ কোটিতে পৌঁছবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভারত এবং চীনসহ এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর পরিমাণ বাড়ছে দ্রুত হারে। চলতি বছরের জুন মাসের শেষে গ্লোবাল মোাবইল ফোন সংযোগর প্রায় ৪৭ ভাগ এই অঞ্চলের। সংযোগের প্রায় ৪৭ ভাগ এই অঞ্চলের। উড আরো বলেন, 'পাঁচশ কোটি ফোন মানে পিসি ব্যবহারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। মোবাইল ফোন বর্তমানে আমাদের সমাজের সংস্কৃতির অন্যতম একটি অংশ হয়ে উঠেছে। ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক হাজার কোটি মোবাইল ফোন বিক্রি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নকিয়া বিক্রি করেছে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি মোবাইল ফোন।' পশ্চিম ইউরোপে মোবাইল ফোন পেনেট্রিশনের পরিমাণ ১৩০ ভাগে পৌঁছেছে।
শিল্পী নরম্যান
নাবিল ॥
অবৈধ সন্তান বলে পিতৃ পরিচয় পাননি। অসহায় মা-ও কাছে রাখতে পারেননি তাকে। তাই বাধ্য হয়েই আশ্রয় নিতে হয় কালিম্পঙের এক অনাথ আশ্রমে। তবুও দমেননি নরম্যান হাচিনসন। স্রেফ প্রতিভার জোরেই পেয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের শিল্পীর পদ। এঁকেছেন রানী এলিজাবেথ সহ বহু বিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি। সম্প্রতি মরক্কোয় নিজের বাড়িতে ৭৯ বছর বয়সে মারা গেলেন এই বিখ্যাত শিল্পী। প্রথম জীবন সম্পর্কে যেটুকু জানা যায়, নরম্যানের বাবা স্কটল্যান্ডের এক রাজবংশের সন্তান, এরিক ডগলাস। কালিম্পঙে থাকতে এসে কিশোরী পরিচারিকা, ফ্লোরেন্সের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার জেরেই ১৯৩২-এর ১১ অক্টোবর জন্ম নেন এই প্রতিভাবান শিল্পী। তবে, কোনও দিনই বাবার সান্নিধ্য জোটেনি শিশু নরম্যানের। সেই থেকেই এরিকের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ছিল তার। পরে পরিচয় জানতে পারলেও সাক্ষাৎ করেননি। বরং, ১৯৮৫ সালে সস্ত্রীক কলকাতায় এসে খুঁজে বার করেন মাকে। সে দিনের ছটফটে কিশোরী ফ্লোরেন্স তখন নিঃস্ব, অসহায় এক বৃদ্ধা। যুক্ত ছিলেন কালিম্পিঙের অনাথ আশ্রমের সঙ্গেও। ১৯৮৮ থেকে নিয়ম করে প্রতি বছর আসতেন এ দেশে। ছোট বেলা থেকেই নিজের জগতে থাকতে ভালবাসতেন নরম্যান। সবথেকে টান ছিল আঁকার দিকে। এই ঝোঁকটাই তাকে আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতাসহ বহু বিশিষ্ট মানুষের পৃষ্ঠপোষকতা এনে দেয়। কিশোর নরম্যানের ছবির ভক্ত ছলেন খোদ লেডি মাউন্টব্যাটেনও। নরম্যানের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এই শহরে আসেন তিনি। ১৯৫৯ এ বিলেত পাড়ি দেয়ার আগে পর্যন্ত কলকাতাই ছিল তার ঘর। অল্প বয়সে তিনি একটি লিথোগ্রাফিক প্রেসে শিক্ষানবিশি শুরু করেন। পরবর্তী কালে বন্ধু, মিতো চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। কলকাতাতেই পরিচয় গ্লোরিয়া মুদালিয়ারের সঙ্গে। পরিচয় থেকে পরিণয়। ১৯৫৫ সালে সংসার শুরু করেন দু'জনে। নরম্যান-গ্লোরিয়ার প্রথম দুই সন্তান জন্মও এ শহরে। শুধু দাম্পত্য জীবনে নয়, স্ত্রী গ্লোরিয়া জড়িয়ে ছিলেন নরম্যানের শিল্পী জীবনেও। তার আঁকা ছবির অনেকগুলোই গ্লোরিয়াকে নিয়ে। জীবনের শেষ মুহূর্তেও পাশে ছিলেন গ্লোরিয়াই। দিব্যি চলছিল সংসার। তা হলে হঠাৎ বিলেত পাড়ি দিলেন কেন? নরম্যানের কথায়, 'উপহার পাওয়া একটি বই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বইটিতে ইউরোপীয় চিত্রকলায় আঁকা ১০০টি ছবি ছিল। ব্যস এর পর থেকে ছবিকেই ধ্যানজ্ঞান করে নিই।' সেই শুরু। তবে, বিলেত পাড়ি দিয়েও প্রথম দিকে তেমন সুবিধে করতে পারেননি নরম্যান। শেষ পর্যন্ত গ্লোরিয়ার একটি প্রতিকৃতিই শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয় নরম্যানকে। এর পর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাকে। ১৯৮০ থেকে নিযুক্ত হন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সঙ্গে। এই পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোহিনুর বসানো মুকুট মাথায় রানির এলিজাবেথের ছবি। এঁকেছেন নেহুরু, প্রিন্স ফিলিপের প্রতিকৃতিও। লিখেছেন আত্মজীবনী, 'আ হ্যান্ড টু ওবে দ্য ডেমনস আই'। ২০০০ সালে প্রকাশ পাওয়া সেই বইয়ে জীবনের বহু অজানা সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন নরম্যান।
প্রথম আত্মপ্রতিকৃতি
সংলাপ ॥
ছবি আঁকার প্রতি টান ছেলেবেলা থেকেই। বাবা-মায়ের প্রশ্রয়ে পারিবারিক কাজ ছেড়ে ছবি আঁকাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন যুবকটি। নানান ধরনের ফরমায়েশি কাজের মধ্যে থেকেও যুবকটি নিজের আঁকার একটা টান অনুভব করতেন। ক্যানভাসের পাশে একটা বড় আয়না টাঙিয়ে মাঝে মাঝে দেখতেন, তুলি হাতে নিজেকে কেমন লাগে। ব্যাপারটা বন্ধুবান্ধবদের বললে তারা বিদ্রুপ করতেন। বলতেন সময়ের অপচয়। কিন্তু সেই যুবক তার ভাবনাটিকে মন থেকে মুছে ফেলতে চাননি। সময় পেলেই নিজের আঁকার অনুশীলন করে গেছেন। একটা অদ্ভুত তৃপ্তি পেতেন সেই শিল্পী। অন্যান্য অনুরোধি ছবির মতো ক্রেতা বা দর্শকদের খুশি করার জন্য নয়, নিজেকে খুশি করার জন্য তার স্বপ্রতিকৃতি আঁকতে ইচ্ছে করে। মুখে বিরক্তি নয়। নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা, ভালবাসার রূপ ফুটিয়ে তুলতে চান সেই ছবিতে। চিন্তাশীল, ভাববিহ্বল শিল্পীর রূপটাই তিনি দেখাতে চান ক্যানভাসে। ধনী ক্রেতার চাহিদা মতো নিজেকে বদলে ফেলতে চান না শিল্পী। তার ধর্মের প্রতি আগ্রহ, শিল্পের প্রতি ভালবাসা সব কিছু তিনি ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে একদিন নিজেই রঙ তুলি নিয়ে ক্যানভাসের সামনে উপস্থিত। এত দিন যা এঁকেছেন সবই স্কেচ, তেল রঙে আঁকতে ভরসা পাননি। নিজের প্রতি বিশ্বাস আর আত্মশক্তিতে ভর করে সমস্ত সমালোচনা, বিদ্রুপ বাঁ হাতে সরিয়ে এঁকে ফেললেন স্বপ্রতিকৃতি। সবাইকে দেখাতে চাইলেন - 'দেখ, এই আমি, আসল আমি।' নিজের মুখাবয়বের সঙ্গে যোগ করে দিলেন যিশুর দীর্ঘ কোঁচকানো আলুলায়িত কেশরাজি। বলতে চাইলেন, আমার হৃদয় ধর্মের প্রতি সমর্থিত। শিল্পীর ভক্তিভাবনা আর ধর্মচিন্তার অভিনব বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে দিলেন ছবিতে। তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি, এই আত্মচিত্রটা খুলে দিয়েছিল চিত্রশিল্পের এক অনন্য দিক। ১৪৯৮ সারে আঁকা সেই ছবিটিই বিশ্বের প্রথম প্রতিকৃতি। শুধু নিজের প্রতি বিশ্বাস আজও তাকে শিল্পের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। |
|
|||||||||||||||||
|
|
|
|
|||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||