সন্ত্রাস নিয়ে মার্কিনী ভণ্ডামি

 

সংলাপ

 

গত সপ্তাহে ইরাকের বিভিন্নস্থানে ইরাকী সরকারী বাহিনীর উপরে এবং অন্যত্র আক্রমণের ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ মার্কিন 'কমব্যাট' সেনা ইরাক থেকে সরতে শুরু করার পর মঙ্গলবার মার্কিন সেনাসংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল ২০০৩ সালের পর থেকে এই প্রথম ইরাকে মার্কিন সেনা ৫০ হাজারের নিচে নামলো আর তার পরের দিনেই এই আক্রমণ ফলে স্বাভাবিকভাবে মার্কিন ও ইরাক প্রশাসনের দুর্ভাবনা বেড়েছে কারণ ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ইরাক থেকে প্রত্যক্ষ সমরে যুক্ত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেবে সে কাজ শুরুও হয়ে গেছে ইরাকী সেনাদের সাহায্য করা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য মার্কিন সাধারণ সেনা থাকবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি সরে যাওয়ার কর্মসূচী রয়েছে অনেকে বলছেন সাত বছরের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলো মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা অবশ্য সেভাবে বিষয়টি হাজির করতে চান না হোয়াইট হাউস চায় মার্কিন নাগরিকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দু'মাস আগে ওবামা তার কথা রেখেছেন আগামী সপ্তাহে এসব নিয়ে ওবামা জবরদস্ত ভাষণ দিবেন বলে শোনা যাচ্ছে হয়তো ইরাক ফেরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তার মোলাকাতও করিয়ে দেয়া হবে

৩১ আগস্ট থেকে ইরাকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা থাকবে এই সংখ্যা বেড়ে ৭০ হাজারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে এদের সঙ্গে থাকবে ফৌজি বিমান, হেলিকপ্টার এই মার্কিন সেনারা ইরাকে আরো ১৬ মাস থাকবে যাই হোক ইরাকের ভবিষ্যৎ যে বিপদসঙ্কুল থেকে যাচ্ছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে কারণ মার্কিন সেনাদের একটা বড় অংশ সরে যাওয়ার পর সেখানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা পূরণ করার মতো ক্ষমতা বর্তমান ইরাক প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কলহ করতেই ব্যস্ত ৩ কোটি সাধারণ ইরাকী আবার অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের মুখে পড়বেন দেশের নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা নির্বাচনের ৫ মাস বাদেও সরকার গঠন নিয়ে এতো বেশি কলহে মত্ত যে সেই শূন্যতার সুযোগ নেবে উগ্রপন্থী শক্তিগুলো বলাইবাহুল্য, ২০০৩ সালে ইরাকে একতরফাভাবে মার্কিনী আক্রমণের ফলে ভীষণ সুবিধা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলোর পশ্চিম এশিয়ায় তারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পেরেছে বোঝাই যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নামে মার্কিন প্রশাসন আসলে সন্ত্রাসবাদকেই মদদ দিয়েছে এবং দিচ্ছে এই সত্য এখন আরো বেশি মাত্রায় অনুভব করা যাচ্ছে

মার্কিনীদের ইরাক আক্রমণ আসলে সন্ত্রাসবাদীদের কাছে বিরাট উপহার কারণ, মার্কিন সেনাদের আক্রমণ ও অত্যাচারে বিপর্যস্ত সাধারণ ইরাকীরা নিশ্চয় মার্কিনীদের সমর্থন করবেন না মার্কিন সেনাদের ইরাক ছাড়া নিয়ে ইরাকে নীরবতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার নেমে এসেছে ২০০৩ সাল থেকে আমেরিকা নানাভাবে ইরাককে বিপর্যস্ত করেছে একটি আধুনিক সভ্য দেশকে থেঁতলে দিলো আদিপত্যবাদী শক্তিগুলো ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করেছিল এক ভয়ঙ্কর ধরনের মিথ্যা তথ্যকে ঘিরে, ইরাকের হাতে নাকি গণ-বিধ্বংসী সমরাস্ত্র আছে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ আক্রমণের আগে 'মুক্তি ও স্বাধীনতার' স্লোগান দিয়েছিলেন ওই স্লোগানের আড়ালে ইরাকে একবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা করা হলো এক নয়া উপনিবেশের ইরাকে এখন বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকবে মার্কিনী চক্রান্তের পরিণামে ইরাকে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ৫০ লক্ষ ইরাকী শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন ইরাককে শোচনীয় অবস্থায় রেখে ওবামা এখন 'মহান' সাজতে চাইছেন