|
শিল্পী নরম্যান
নাবিল
॥
অবৈধ সন্তান বলে
পিতৃ পরিচয় পাননি।
অসহায়
মা-ও কাছে রাখতে পারেননি তাকে।
তাই
বাধ্য হয়েই আশ্রয় নিতে হয় কালিম্পঙের এক অনাথ আশ্রমে।
তবুও
দমেননি নরম্যান হাচিনসন।
স্রেফ
প্রতিভার জোরেই পেয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের শিল্পীর পদ।
এঁকেছেন
রানী এলিজাবেথ সহ বহু বিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি।
সম্প্রতি
মরক্কোয় নিজের বাড়িতে ৭৯ বছর বয়সে মারা গেলেন এই বিখ্যাত শিল্পী।
প্রথম জীবন
সম্পর্কে যেটুকু জানা যায়,
নরম্যানের বাবা স্কটল্যান্ডের এক রাজবংশের সন্তান,
এরিক ডগলাস।
কালিম্পঙে থাকতে এসে কিশোরী পরিচারিকা,
ফ্লোরেন্সের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
তার
জেরেই ১৯৩২-এর ১১ অক্টোবর জন্ম নেন এই প্রতিভাবান শিল্পী।
তবে,
কোনও দিনই বাবার সান্নিধ্য জোটেনি শিশু নরম্যানের।
সেই
থেকেই এরিকের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ছিল তার।
পরে
পরিচয় জানতে পারলেও সাক্ষাৎ করেননি।
বরং,
১৯৮৫ সালে সস্ত্রীক কলকাতায় এসে খুঁজে বার করেন মাকে।
সে দিনের
ছটফটে কিশোরী ফ্লোরেন্স তখন নিঃস্ব,
অসহায় এক বৃদ্ধা।
যুক্ত
ছিলেন কালিম্পিঙের অনাথ আশ্রমের সঙ্গেও।
১৯৮৮
থেকে নিয়ম করে প্রতি বছর আসতেন এ দেশে।
ছোট বেলা থেকেই
নিজের জগতে থাকতে ভালবাসতেন নরম্যান।
সবথেকে
টান ছিল আঁকার দিকে।
এই
ঝোঁকটাই তাকে আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতাসহ বহু বিশিষ্ট মানুষের পৃষ্ঠপোষকতা এনে দেয়।
কিশোর
নরম্যানের ছবির ভক্ত ছলেন খোদ লেডি মাউন্টব্যাটেনও।
নরম্যানের
জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতা।
মাত্র ১৫
বছর বয়সে এই শহরে আসেন তিনি।
১৯৫৯ এ
বিলেত পাড়ি দেয়ার আগে পর্যন্ত কলকাতাই ছিল তার ঘর।
অল্প
বয়সে তিনি একটি লিথোগ্রাফিক প্রেসে শিক্ষানবিশি শুরু করেন।
পরবর্তী
কালে বন্ধু,
মিতো চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবসাও শুরু করেছিলেন।
কলকাতাতেই পরিচয়
গ্লোরিয়া মুদালিয়ারের সঙ্গে।
পরিচয়
থেকে পরিণয়।
১৯৫৫
সালে সংসার শুরু করেন দু'জনে।
নরম্যান-গ্লোরিয়ার প্রথম দুই সন্তান জন্মও এ শহরে।
শুধু
দাম্পত্য জীবনে নয়,
স্ত্রী গ্লোরিয়া জড়িয়ে ছিলেন নরম্যানের শিল্পী জীবনেও।
তার আঁকা
ছবির অনেকগুলোই গ্লোরিয়াকে নিয়ে।
জীবনের
শেষ মুহূর্তেও পাশে ছিলেন গ্লোরিয়াই।
দিব্যি চলছিল
সংসার।
তা হলে
হঠাৎ বিলেত পাড়ি দিলেন কেন?
নরম্যানের
কথায়, 'উপহার
পাওয়া একটি বই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বইটিতে
ইউরোপীয় চিত্রকলায় আঁকা ১০০টি ছবি ছিল।
ব্যস
এর পর থেকে ছবিকেই ধ্যানজ্ঞান করে নিই।'
সেই শুরু।
তবে,
বিলেত পাড়ি
দিয়েও প্রথম দিকে তেমন সুবিধে করতে পারেননি নরম্যান।
শেষ
পর্যন্ত গ্লোরিয়ার একটি প্রতিকৃতিই শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়
নরম্যানকে।
এর পর
আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাকে।
১৯৮০
থেকে নিযুক্ত হন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সঙ্গে।
এই
পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোহিনুর বসানো মুকুট মাথায় রানির এলিজাবেথের ছবি।
এঁকেছেন নেহুরু,
প্রিন্স
ফিলিপের প্রতিকৃতিও।
লিখেছেন আত্মজীবনী,
'আ
হ্যান্ড টু ওবে দ্য ডেমনস আই'।
২০০০
সালে প্রকাশ পাওয়া সেই বইয়ে জীবনের বহু অজানা সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন
নরম্যান।
|