|
|
cÖ ev n
ভারতের বিরুদ্ধে লড়বে তালিবান
ভারত
যুদ্ধের দিকে পা বাড়ালে পাকিস্তানি সেনার পক্ষ নেবে তালিবান।
যুদ্ধের বাজারে তারা শয়ে শয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি ছেড়ে দেবে।
যারা
পাক সেনাবাহিনীর কাঁধে কাঁধ রেখে ভারতকে পর্যুদস্ত করার চক্রান্তে শামিল হবে।
একটি
অঘোষিত জায়গা থেকে
'দি
নিউজ'
নামের
একটি সংবাদপত্র দপ্তরে ফোন করে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের
প্রধান বাইতুল্লা মেহসুদ ঘোষণা করেছেন,
কয়েক
শ'
সশস্ত্র জঙ্গি আমাদের আছে।
তারা
যুদ্ধের জন্য তৈরি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তারাও বসে থাকবে না।
পাক
বাহিনীর সঙ্গেই ঝাঁপিয়ে পড়বে তালিবান
'ফিদায়ে'
বাহিনীও।
বাইতুল্লা বলেন,
ভারত
হামলা করলে তা রোখার জন্য ইতিমধ্যেই জঙ্গিদের কাছে আত্মঘাতী জ্যাকেট ও
বিস্ফোরকপূর্ণ গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জীবন
তুচ্ছ করে ভারতের আক্রমণ আটকাতে তারা পিছপা হবে না।
সত্যিকারের জেহাদ বলতে যা বোঝায় তার সময় উপস্থিত হয়েছে।
এমন
সময়টার জন্যই তালিবান এতদিন প্রতীক্ষা করেছে।
বেনজির ভুট্টো হত্যার চক্রান্তকারী হিসেবে কুখ্যাত মেহসুদ আরও বলেছেন,
পাক-আফগান সীমান্ত তারাই রক্ষা করবে।
বাইতুল্লা দেশ-জাতি ও সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে,
পশ্চিম সীমান্ত এলাকা রক্ষা করার বিষয়ে উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
সীমান্তে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার সশস্ত্র জঙ্গি মোতায়েন করা হয়ে গিয়েছে তার।
তিনি
আরও বলেন,
পাক
সেনার নেতৃত্বেই তালিবানরা লড়তে প্রস্তুত।
তবে
তালিবানের জন্য আলাদা একটা ময়দান বা নির্দিষ্ট কোনও টার্গেট দিয়ে দিলে ভালো
হয় বলে মনে করেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে,
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর মার্কিন সেনা ও যৌথবাহিনীর অভিযানের
ফলে বেশ খানিকটা চাপের মধ্যে রয়েছে তালিবান জঙ্গিরা।
ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা ফাঁকতালে মূলস্রোতে ফিরতে উদ্যোগী
হয়েছে।
পাক
সেনার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে ভারত-পাক সীমান্তে লড়তে পারলে যে তারা আর শুধুমাত্র
জঙ্গি হিসেবে কোণঠাসা হয়ে থাকবে না,
বরং
দেশের প্রয়োজনে প্রাণ দিতে প্রস্তুত হিসাবে আলাদা ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারবে
তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
সেজন্যই তারা আগ বাড়িয়ে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে পাক সরকারকে।
যুদ্ধ
পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বাইতুল্লা বলেন,
পাকিস্তান এখন পরমাণু শক্তিধর দেশ।
এটাকে
ক্ষমতাধর দেশগুলি মেনে নিতে পারছে না।
কী
করে পাকিস্তানের কোমর ভেঙে দেয়া যায় তা নিয়ে আজ অনেক শত্রুই ভাবছে।
আমাদের জেহাদ এদের বিরুদ্ধেই।
পাকিস্তানকে চাপ আমেরিকার
পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়িয়ে আমেরিকা মুম্বইয়ের হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলল।
পাক
সেনাপ্রধান জেনারেল আসফাক কিয়ানি ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আই এস আইয়ের ডিরেক্টর
জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ সুজা পাশার সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন সেনার
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন রীতিমতো চাপ দেওয়ার
সুরে বলেন,
শুধু
মুম্বই নাশকতার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না।
এখনও
পর্যন্ত যাদের ধরা হয়েছে,
তাদের
বিরুদ্ধে পুরোদমে,
স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে দিক পাকিস্তান।
মুলেনের সমপ্রতির এক বৈঠক সম্পর্কে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের তরফে দেওয়া
এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।
এর
পাশাপাশি পাক সফররত ইন্টারপোল প্রধান রোনাল্ড কে নোবলও ইসলামাবাদে বলেছেন,
পাকিস্তান মুম্বই হামলার তদন্তে ভারতকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।
কূটনীতিক মহলের অভিমত,
এই
কথা জানিয়ে কার্যত পাকিস্তানকে চাপেই ফেলে দিল ইন্টারপোল।
এছাড়া
আরও একটি রিপোর্টে পাকিস্তানের অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
নয়াদিল্লির খবর,
প্রথম
সারির ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত প্রথম সারির প্রকাশনা সংস্থা
'স্ট্র্যাটফোর'-এর
এক রিপোর্টে বলা হয়েছে,
ভারত
পাকিস্তানকে সে দেশের জঙ্গি ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করে দিতে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত
সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
তাতে
আরও বলা হয়েছে,
ভারত
মার্কিন প্রশাসন মারফত ইসলামাবাদকে জানিয়ে দিয়েছে,
পাক
ভূখণ্ডে সক্রিয় যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ভারতে বারবার আঘাত হানছে,
তাদের
বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হল।
যদিও
ইসলামাবাদ মুম্বই হামলার কোনও দায়ই নিতে নারাজ।
রিপোর্টে এরপর বলা হয়েছে,
আমরা
যতদূর জানি,
পাকিস্তান ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।
অর্থাৎ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে।
তাছাড়া ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিতে
মাসখানেক সময়ও বের করে নিয়েছে।
এদিকে
মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা এফ বি আই মুম্বই হামলার তদন্ত শেষ করে যে রিপোর্ট
দিয়েছে,
তাতে
আই এস আই ছাড়া পাক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি অংশের জড়িত থাকার প্রমাণের কথা বলা
হয়েছে।
পাকিস্তান মুখে অস্বীকার করলেও লন্ডনের দি টাইমস এর এক রিপোর্টেও নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক আই এস আইয়ের এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে,
আই এস
আই-ই মুম্বই হামলার জড়িত লস্কর-ই-তোইবাকে তৈরি করেছে।
অবশ্য
লস্করকে সৃষ্টি করলেও এখন আর ওই ঘাতক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আই এস আইয়ের হাতে নেই।
এই
জেহাদিরা এখন জম্মু-কাশ্মীরে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
আমরা
ওদের মদত দিচ্ছি।
নওয়াজ
শরিফের ডিগবাজি
ঠিক ৫
দিনের মাথায় ডিগবাজি খেলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
জারদারিকে প্যাঁচে ফেলতে গিয়ে ভোলবদল নিজেরই! ১৯ ডিসেম্বর শরিফ বলেছিলেন, 'মুম্বই
সন্ত্রাসে একমাত্র ধৃত জঙ্গি কাসব পাকিস্তানের নাগরিক'।
২৪
ডিসেম্বর বললেন,
'প্রমাণ
নেই।
এ বার
ভুয়া অভিযোগ তুলে উত্তেজনা ছড়ানো বন্ধ করুক ভারত।'
সমপ্রতি পাক চ্যানেলে দাবি করেছিলেন,
'ফরিদকোটে
আজমল কাসবের বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
তার
বাবা-মাকে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।'
২৫
ডিসেম্বর বললেন,
'মুম্বই
সন্ত্রাসে পাক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে ভারত তা
ইসলামাবাদকে দিক।
তিনি
নিজে জারদারিকে বলবেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে!’
এ
দিকে,
কাসবকে মানতে নারাজ পাকিস্তানের কাছেই ফের আইনি সহায়তা দাবি করল ওই জঙ্গি।
কাসবকে পুলিশ হেফাজতে রাখার মেয়াদ ৬ জানুয়ারি অবধি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে তাকে প্রকাশ্য কোর্টে আনা যাচ্ছে না বলে পুলিশ হেফাজতেই
আসেন ম্যাজিস্ট্রেট।
তার
কাছেই আইনি সাহায্যের জন্য পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের আর্জি জানায়
কাসব।
এই
নিয়ে সে দ্বিতীয়বার নিজেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে দাবি করল।
কয়েকদিন আগে সরকারিভাবে তার চিঠি ভারতে পাকিস্তানি দূতের হাতে তুলে দেওয়া
হলেও সেটিকে
'যথেষ্ট
প্রমাণ'
বলে
মানতে নারাজ ইসলামাবাদ।
এ
বিষয়ে বিবৃতিও দেয়া হবে বলে জানিয়েছে জারদারি সরকার।
ধৃত
জঙ্গির বিরুদ্ধে ২৫ ডিসেম্বর আরেকটি মামলা করেছে মুম্বই পুলিশ।
নাশকতার জন্য পুলিশের স্কোডা গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলা।
এ
দিকে,
কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইসলামাবাদের মিথ্যের মুখোশ খুলে দিতে টিভিতে
কাসবের জবানবন্দী সমপ্রচারের কথা ভাবছে দিল্লি।
টিভির
পর্দায় কাসব নিজেই শোনাবে তার কথা।
দেখানো হবে গোটা বিশ্বে।
২২
ডিসেম্বর এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ভারতের গোয়েন্দা ও স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রক কর্তারা।
হলে
তা হবে অভিনব।
পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করতে দিল্লি কূটনৈতিক কৌশলের পথে
হাঁটলেও ইসলামাবাদ কিন্তু যুদ্ধের জিগির ছাড়ছে না।
প্রধানমন্ত্রী গিলানি,
সেনাপ্রধান আশফাক পারভেজ কিয়ানির পর এ বার স্বয়ং প্রেসিডেন্ট জারদারির হুমকি,
'ভারত
যেন পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতাকে তুচ্ছ না করে।
আক্রান্ত হলে উপযুক্ত জবাব দিতে তৈরি পাক ফৌজ।'
লস্কর-এ-তৈবার ধর্মীয় ও দাতব্য সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার ওপর রাষ্ট্রপুঞ্জের
নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কড়া নিন্দা করেছেন ইমরান খান।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে ব্যাপক আন্দোলন।
প্রধানমন্ত্রী গিলানির দাবি,
মুম্বই সন্ত্রাসে পাকিস্তানকে জবরদস্তি বলির পাঁঠা করতে চাইছে দিল্লি।
ওয়াশিংটনের মুখপাত্র শন ম্যাককরম্যাক বলেন,
ভারত
ও পাকিস্তানের নিজস্ব সমস্যা তারাই কূটনৈতিকভাবে মিটিয়ে নিতে পারবে বলে
আমেরিকা আশাবাদী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্বে কাশ্মীর নিয়ে বারাক ওবামার মন্তব্য ঝড়
তুলেছিল উপমহাদেশে।
বিদায়ী বুশ বা শপথের আগে ওবামা কেউই ঠিক এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি
নন।
দিল্লি চায় না বলে ভারত-পাক সমস্যায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব শিকেয় তুলেছে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মুম্বই সন্ত্রাসের নিন্দা করে ভারত-পাক আলোচনায় সমর্থন জানিয়েছে চীন।
সামনে
১৬টি চ্যালেঞ্জ
সরকারের সামনে ১৬টি চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জগুলো হলো বিশ্বমন্দা মোকাবেলায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি,
উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন,
বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি,
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী অব্যাহত রাখা,
করের
ভিত্তি সমপ্রসারণ,
বাজেটে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা,
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া,
বিনিয়োগ বা রাজস্বনীতি প্রণয়ন,
জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলে বরাদ্দ অব্যাহত রাখা,
আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ,
জ্বালানি তেলের সাশ্রয়ী অর্থ বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ,
লোকসান কমাতে সরকার ও ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,
টাকার
হার যৌক্তিক পর্যায়ে রক্ষা,
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে সংস্কার অব্যাহত রাখা,
পুঁজিবাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে
রাখা।
অর্থ
উপদেষ্টা তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা উল্লেখ করে আগামী সরকারের জন্য এই চ্যালেঞ্জ
রেখে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।
চলতি
অর্থবছরের অর্থনীতির ওপর বিশ্বমন্দার কোন প্রভাব পড়বে না।
তবে
বিশ্বমন্দা দীর্ঘমেয়াদি হলে অর্থাৎ ২০০৯ সালের ডিসেম্বর কিংবা ২০১০ সালের
মাঝামাঝি পর্যায় পর্যন্ত বিরাজ করলে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে
পারে।
প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।
এজন্য
বর্তমান সরকারের মতো আগামী সরকারকে বিশ্বমন্দাবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
তবে
আমরা লক্ষ্য করছি যে,
দুই
প্রধান রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই নতুন সরকারের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের কথা
কম-বেশি রয়েছে।
নানামুখী সমস্যা সত্ত্বেও জি ডি পি-র প্রবৃদ্ধি,
মূল্যস্ফীতিসহ প্রায় সব অর্থনৈতিক সূচক বর্তমান অনির্বাচিত সরকার ভাল
অবস্থাতেই রেখে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা।
যেসব
উন্নয়ন কৌশল ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে নির্বাচিত সরকার এসেও সেগুলো
অব্যাহত রাখবে বলেই প্রত্যাশা তার।
গত
দুই বছরে বিনিয়োগ,
মূল্যস্ফীতি,
রাজস্ব প্রাপ্তি,
আমদানি-রফতানি আয়,
রেমিট্যান্স,
বৈদেশিক সাহায্য,
খাদ্য
উৎপাদনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অবস্থা এবং খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা,
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন
সংস্কার কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
সব
ক্ষেত্রেই ইতিবাচক অবস্থা অর্জিত হয়েছে।
আগামী
সরকারের সামনে যে ১৬টি চ্যালেঞ্জকে বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেখে যাচ্ছে
তার মোকাবেলা করতে হলে একটি সুষ্ঠু সংসদীয় পরিবেশ প্রয়োজন।
আগামী
সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে
হলে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সেটা করতে হবে।
এজন্য
আগামী সরকারের প্রথম কাজ হবে সংসদকে কার্যকর করা।
আর
সংসদ কার্যকর অবস্থায় থাকলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সহজ হবে।
বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে তাদের সংসদে ভূমিকা পালনের পরিবেশ ও স্বাধীনতা দিতে
হবে।
যেন
বিরোধী দল অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের
সঙ্গে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
তাহলেই সম্ভব হবে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা।
গিনিতে অভ্যুত্থান
জরুরি
অবস্থা প্রত্যাহরের পর বাংলাদেশের জনগণ যখন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক
আবহে ফেরার প্রতীক্ষায় তখন আফ্রিকার দেশ গিনিতে সামরিক অভ্যূত্থান ঘটল।
কেবল
গিনির জনগণ নয়,
সারাবিশ্বের গণতন্ত্রমনা ও শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে সামরিক অভ্যূত্থানও
অনাকাঙ্ক্ষিত।
প্রেসিডেন্ট লানসান কোন্তের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গিনিতে দীর্ঘদিনের অপশাসনের
অবসান হওয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল,
সে
সুযোগ ম্লান করে দিয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায় দেশটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে আরো
অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো বলেই ধারণা করা হয়।
শুধু
তা-ই নয়,
গিনিতে সামরিক অভ্যুত্থানের সুযোগে প্রতিবেশী লাইবেরিয়া,
সিয়েরালিয়ন ও আইভরিকোস্টের সরকার নিজ নিজ দেশে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের
আশঙ্কা করছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের ইতিহাসের ক্ষত নিয়ে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আফ্রিকান
ইউনিয়ন এতদিন যে চেষ্টা চালিয়েছে গিনির অভ্যুত্থানে তা অনেকটাই ব্যর্থতার
পর্যুদস্ত হয়েছে।
লানসান কোন্তের মৃত্যুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে সামরিক অভ্যুত্থানের
সম্ভাবনা আর গুঞ্জনের খবর প্রকাশিত হচ্ছিল।
তরুণ
সেনা কর্মকর্তা মুসা কামারা শেষ পর্যন্ত
'দেশের
স্বার্থে'
সফল
অভ্যুত্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
'ক্যাপ্টেন
মুসা গিনির প্রেসিডেন্ট হলেন,
জাতীয়
কাউন্সিল ঘোষণা'
শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
গিনির
জনগণের একাংশ মুসা কামারার ক্ষমতা দখলকে স্বাগত জানিয়েছে।
ক্যাপ্টেন মুসা কোনো পাল্টা অভিযান বা বিক্ষোভ ছাড়াই তার সেনাবহর নিয়ে ঘুরে
বেরিয়েছেন।
জনগণ
তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
সামরিক শাসকরা দেশ বাঁচানোর নামে ক্ষমতা দখল করেন,
ভূলুন্ঠিত করেন গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে।
তাদের
তোষামোদকারী ও সুবিধাবাদীরা তাদের করুণ পরিণতি ঠেকাতে পারে না।
দীর্ঘদিনের দুঃশাসন শেষে গিনির জনগণ নতুন করে আর দুর্ভাগ্যের চক্রে বন্দি।
গিনির
সামরিক বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের পথ
সুগম করবে কি?
রমনা
পার্কে হিংস্র প্রাণী আটক
ঐতিহাসিক রমনা পার্কে বাঘের মতো হিংস্র বিরল প্রজাতির প্রাণী পাওয়া গেছে।
সমপ্রতি সকালে রমনা পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পিডব্লিউডি কর্তৃপক্ষ
প্রাতঃভ্রমণে আসা সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় প্রাণীটিকে আটক করে।
এটিকে
রমনা পার্কের ভেতরে পিডব্লিউডির অফিস হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে
বাঘসদৃশ বিরল প্রজাতির এ প্রাণীটি আটকের পর রমনা পার্ক এলাকায় চাঞ্চলের
সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্য শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়।
রমনা
পার্কের কার্য সহকারী ইনচার্জ শামসুল ইসলাম জানান,
সকালে
পার্কের মালিরা একটি গাছের গোড়ায় প্রাণীটি দেখতে পান।
তারা
প্রাণীটিকে বাঘ ভেবে ভয় পেয়ে যান।
পরে
পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা প্রাণীটি দেখাতে যান।
প্রাণীটি গাছের গোড়ায় গুটিশুটি মেরে ছিল।
পার্কের ভেতরে বাঘ পাওয়া গেছে এ খবর পার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসা লোকজনের মধ্যে
ছড়িয়ে পড়লে তারা ভিড় জমান।
লোকজন
দেখে প্রাণীটি হঠাৎ করেই তেড়ে আসে এবং এক পর্যায়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
রমনা
পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রাণীটিকে আটকের চেষ্টা করে।
তারাও
প্রাণীটির পিছু ছুটতে শুরু করে।
এক
পর্যায়ে প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়লে জাল দিয়ে আটক করা হয়।
পরে
খাঁচায় বন্দি করে প্রাণীটি রমনা পার্কের ভেতরে পিডব্লিউডি'র
অফিসে রাখা হয়।
টাকার
খেলা!
সমপ্রতি দাতাদের তালিকা প্রকাশ করেছে উইলিয়াম জে ক্লিন্টন ফাউন্ডেশন।
যারা
এক থেকে পাঁচ লক্ষ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন- সেই তালিকায় একটি নাম ভারতের অমর সিং।
সরকার
তোলা-ফেলার অর্থময় নেতা।
খুব
কম দিয়ে থাকলে,
ভারতীয় টাকায় চার কোটি আশি লক্ষ।
সর্বোচ্চ হতে পারে চব্বিশ কোটি।
ভারতের আইন,
বছরে
২ লক্ষ ডলারের (এক কোটি টাকার একটু বেশি) বেশি বিদেশে
'দান'
করতে
হলে ভারত সরকারি অনুমতি প্রয়োজন।
অমর
সিং তেমন কোনও অনুমতি নেননি।
সরকার-রক্ষকের এই ব্যাপারটা কী করে সামলানো যাবে,
চিন্তায় কংগ্রেস নেতারা।
অমর
সিং বলেছেন,
বেশি
চিন্তার দরকার নেই,
হয়ত
তার নামে দিয়েছেন কিছু শিল্পপতি! হয়ত! তার নামে! তার নাম বা কথা এত দামি হয়ে
যায় কী করে?
আয়কর
ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর নিশ্চয় খোঁজ করতে বাধ্য,
কারা
দিলেন?
কেন
দিলেন?
কেন
দেন?
রাজ্যসভায় দাঁড়ানোর সময় নিজের সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন অমর সিং- ৩৫ কোটি।
ব্যবসাসূত্রে সাদা টাকা! কালো থাকলে কত,
তা
ভাল জানেন তারা যাদের জানার কথা।
তা,
ওই
ঘোষিত ৩৫ কোটি থেকে চার কোটি আশি লক্ষ (কম করে) দিলেন না কেন অমর সিং?
খবর
ছড়িয়েছে,
গত
সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় গিয়ে হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি,
উদ্দেশ্য নাকি পরমাণু চুক্তিতে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থন নিশ্চিত করা।
সত্যি
হলে,
আর
দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, 'আন্তর্জাতিক'
হয়ে
যাচ্ছেন।
তবে,
যা
নিশ্চিত,
তার
'নামে'
চার
কোটি আশি লক্ষ থেকে চব্বিশ কোটি টাকা ক্লিন্টন ফাউন্ডেশন-এ জমা পড়েছে।
খতিয়ে
দেখে,
ভারতের লোকসভা ভোটের আগেই জানিয়ে দিক এটাই ভারতবাসী চায়।
দাম্ভিক মাথা হেঁট
বাগদাদে ১৫ ডিসেম্বর বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে এক সাংবাদিক মুন্তাজর আল জাইদি
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-মালিকির পাশেই উপবিষ্ট আমেরিকার বিদায়ী
প্রেসিডেন্ট বুশকে মাত্র ২০ ফুট দূর থেকে পর পর একজোড়া জুতো ছুঁড়লেন।
কিন্তু বুশ মাথা নিচু করে নেওয়ার ফলে জুতো তার মুখে লাগেনি বটে,
তবে
সারা পৃথিবীর কাছে তার দাম্ভিক মাথা হেঁট হয়েছে।
যুদ্ধ
করে আফগানিস্তানকে ধ্বংস করেছেন।
ইরাকে
রাসায়নিক অস্ত্র ভাণ্ডার আছে - এই অভিযোগে ইরাকের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে
নিরীহ শিশু-নারী-পুরুষ নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছেন।
কিন্তু কোনও লুকানো অস্ত্রের সন্ধান পাননি।
অবশেষে সাদ্দাম হুসেনকে ফাঁসি দিয়েও তার দাম্ভিক মাথা নত হয়নি।
মাত্র
একজোড়া জুতোই তার সমস্ত দর্প চূর্ণ করে মাটিতে মিশিয়ে দিল।
কাপুরুষ বুশের সাজা পাওনা ছিল।
তা
তিনি ঠিক সময়েই পেয়েছেন।
বুশকে
জুতো ছুঁড়ে ইরাকের যুদ্ধে নিহত নির্যাতিত মানুষের সঙ্গে বীর শহিদ সাদ্দাম
হুসেনকে প্রকৃত সম্মান জানালেন বীর সাংবাদিক মুন্তাজের।
তবু
এমন শাস্তির পরও তার কাপুরুষোচিত আস্ফালন পৃথিবীর সভ্য মানুষের লজ্জা।
যদিও
সেই মূল্যবান অনুভূতি বুশের মধ্যে কোনওদিন ছিল না,
আজও
নেই।
জেনে
রাখা ভালো
আপনি
কি জানেন,
মহাকাশ গবেষণার জন্য পৃথিবী থেকে ৩২০ কি.মি. দূরে যে স্থায়ী আন্তর্জাতিক
স্পেস স্টেশন বসানো হয়েছে,
তাতে
প্রতি ৬ মাস অন্তর মহাকাশ প্রযুক্তিবিদ বা অ্যাস্ট্রোনাট বদল করা হয়।
এই
নতুন লোক নিয়ে যাওয়া ও পুরনোদের ফিরিয়ে আনার কাজটি করে ডিসকভারি শাট্ল
মহাকাশ ফেরিযান।
শুধু
যাত্রী নয়,
প্রতি
ট্রিপে নিয়ে যেতে হয় ৬ জনের ৬ মাসের উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য,
পানীয়,
ওষুধ
ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র এবং নানা যন্ত্রপাতির কিটব্যাগ।
মহাকাশ স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে প্রায়ই স্টেশনের বাইরে এসে স্পেস ওয়াক
করে নানা খুঁটিনটি যন্ত্রের সারাইয়ের প্রয়োজনে যন্ত্রপাতির কিট নিয়ে যেতে হয়।
হাইডেমারি নামের এক মহিলা মহাকাশযাত্রী ওই রকমের একটি কিটব্যাগ নিয়ে মহাকাশ
স্টেশনের বাইরে কিছু কাজ করছিলেন।
একটি
রোলারের ওপর গ্রিজের পরত মুছবার সময় তার গ্রিজ-মাথা পিচ্ছিল হাত থেকে
কিটব্যাগটি হঠাৎই ছেড়ে যায় এবং তার অসহায় চোখের সামনে সেটি দ্রুত মহাকাশের
অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।
প্রায়
৩৫ কিলোগ্রাম ওজনের নানা ছোটখাটো যন্ত্র ও মালমশলাসহ কিটব্যাগটি এ পর্যন্ত
মহাকাশে খোয়া যাওয়া বস্তুর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় ও ওজনে ভারি ছিল।
তবে,
এই
মহাকাশে পদচারণাকারী মহিলাই প্রথম নন,
তার
মতো আরও অনেকের হাত থেকে নানা আকার-প্রকারের বস্তু মহাকাশের কালো,
হিম,
মহাশূন্যতায় হারিয়ে গেছে।
হাতে
বিশাল আকারের গ্লাভস পরে ভারশূন্য অবস্থায় স্পেস ওয়াক করতে গিয়ে গত দু-তিন
বছরে এরকম ভাবেই ২০-২৫ বার কয়েক হাজার জিনিস হাতছাড়া করে হারিয়েছেন তারা।
সেগুলো মহাশূন্যের কোথায় কীভাবে আছে,
তা
নাসার গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের প্রযুক্তিবিদরা হদিশ করতে পারেননি।
২০০৬
সালে স্পেস স্টেশনের বাইরে কাজ করার সময় জো টানার নামের এক মহাকাশচারীর কিছু
নাটবোল্ট ও ওয়াশারে ভর্তি একটি ব্যাগ হাত ফসকে পড়ে যায়।
ক্যামেরার ফোকাস রেঞ্জের বাইরে চলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত মহাকাশ স্টেশনে চালু
থাকা ডিজিটাল ক্যামেরায় তার ধারাবাহিক পতনের ছবি ওঠে।
২০০৬-এর জুলাই মাসে পিয়ার্স সেলার্স ও মাইকেল ফোসাম- দুজনে মিলে মহাকাশ ফেরির
বাইরের দেওয়ালে কিছু বিদ্যুৎবাহী তার জোড়ার কাজ করছিলেন।
হঠাৎই
তাদের স্পেস স্যুটে আটকানো একটি হ্যাঙার থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা স্প্যাচুলা ও
প্লাস খুলে মহাকাশে সমাধি লাভ করে।
২০০১-এর মার্চে জিম ভস যখন স্পেস স্টেশনের বাইরে কয়েকটি যন্ত্র বসাবার কাজ
করছিলেন,
তখন
স্পেস স্টেশনের গা থেকে তার ফুটপ্যাডে বাঁধা মোটা রজ্জুর ফাঁস খুলে তার
ফুটপ্যাডটি মহাকাশে ধাঁ হয়ে যায়।
পায়ের
নিচে থেকে ফুটপ্যাড সরে যাওয়ায় জিম ভস শূন্যে ঝুলতে থাকেন কিন্তু পড়ে যাননি।
কারণ
তার সঙ্গে থাকা জরুরিকালীন বিকল্প লাইফ বেল্ট কোনও রকমে তাকে স্টেশনে ফিরিয়ে
আনে।
এই
ঘটনার ফলে জিম এমন 'ট্রমায়'
আক্রান্ত হন যে,
তার
চিকিৎসার জন্য তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হয়।
মহাকাশে ঘুরতে থাকা এরকম হাজার প্রক্ষিপ্ত বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে মহাকাশ
ফেরি 'ডিসকভারি'র
পৃথিবী থেকে স্পেস স্টেশনের যাতায়াতের কক্ষপথ বদল করতে হয়।
একইভাবে মহাকাশচারী জেরি রস ১৯৯৮ সালে ডিসেম্বর মাসে স্পেস স্টেশনের বাইরে
দুটি খারাপ হয়ে যাওয়া যন্ত্র বদলে নতুন যন্ত্র লাগানোর সময় পুরনো দুটি
যন্ত্রই তার কন্টেনার থেকে খুলে পড়ে মহাশূন্যে বিলীন হয়।
পৃথিবী থেকে অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে নানা কক্ষপথে ঘুরছে।
এইসব
উপগ্রহের অনেকগুলিরই জীবনের ও কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা অকেজো হয়ে
গেলেও পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে চলেছে।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা,
এত
উপগ্রহের সঙ্গে আরও নতুন উপগ্রহ নিয়মিত পাঠাতে থাকলে সব মিলে পৃথিবীর কক্ষপথে
‘ট্রাফিক
জ্যাম’
হতে
পারে।
তখন
এই জ্যাম এড়িয়ে গ্রহান্তরে মহাকাশযান পাঠাবার পথ পাওয়া মুশকিল হবে।
তার
ওপর মহাকাশ স্টেশন থেকে পড়ে যাওয়া হাজার হাজার যন্ত্রপাতি পৃথিবী ও
মঙ্গলগ্রহের মাঝখানে গ্রহাণুপুঞ্জ?
বা
অ্যাস্টারয়েড বেল্টের মতো একত্রে মিলে একটা বলয় গড়ে তুলবে।
তখন
দূর মহাকাশ থেকে শনির মতো পৃথিবীকেও একটা রিং বা বলয়বেষ্টিত দেখা যাবে।
নির্বাচনের
পর কাশ্মীর
২০০২-এর
মতোই ছবি বেরিয়ে এল জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনে।
পি ডি
পি-কংগ্রেস নয়,
এবার
সম্ভবত সরকার গড়তে চলেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেসের জোট।
৮৭
আসনের বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য চাই ৪৪ আসন।
ধারেকাছে নেই কোনও দল।
২৮
আসন পেয়ে গত বিধানসভায় ভোটে ন্যাশনাল কনফারেন্স ছিল একক বৃহত্তম দল।
এবারও
তা-ই।
আসন
সংখ্যাও ২৮।
এবার
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে সরকারে আসতে চায় দল,
দলনেতা ওমর আবদুল্লা তা একরকম পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
কংগ্রেসের দিক থেকেও একই ইঙ্গিত।
দিল্লিতে শলাপরামর্শে বসেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
কংগ্রেসের আসন এবার ১৭।
গত
বিধানসভায় ছিল ২০।
দ্বিতীয় থেকে এবার তৃতীয় স্থানে চলে গেছে কংগ্রেস,
তবু
সরকার গড়ার চাবিকাঠি তাদের হাতেই।
কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স- দুয়ে মিলে আসন দাঁড়াচ্ছে ৪৫।
২১টি
আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পি ডি পি,
গতবার
আসন ছিল ১৬।
আগের
বার ন্যাশনাল কনফারেন্সকে হটিয়ে পি ডি পি-র সঙ্গে জোট সরকার গড়েছিল কংগ্রেস।
অমরনাথ বিতর্কের জেরে ছ'বছর
পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগেই ছিন্ন হয়েছে সেই জোট।
রক্তক্ষয়ী সেই বিতর্ক কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে জম্মু অঞ্চলের।
সুযোগ
বুঝে জম্মুতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বি জে পি।
ভোটে
আদায় করে নিয়েছে তার ফল।
আসন
এবার ১১।
এ
রাজ্যে কখনই এর আগে দুই অঙ্কে পৌঁছয়নি বি জে পি।
গতবার
ছিল ১।
জম্মু-কাশ্মীরের ভোটে এবার ভোটারদের যোগদান ছিল নজর কাড়ার মতো।
জঙ্গি
উপদ্রব শুরু হওয়ার পর এত ভোট পড়েনি রাজ্যে।
হিংসাত্মক ঘটনাও তুলনামূলকভাবে কমই ছিল।
ফলাফলে লক্ষ্য করার বিষয়,
বড়
নেতাদের এবার বিমুখ করেন ভোটাররা।
পারিবারিক আসন গান্ডেরবালে গত নির্বাচনে হারতে হয়েছিল ফারুক-পুত্র ওমর
আবদুল্লাকে।
এবার
অন্য আসনে দাঁড়ানোর পরামর্শে আমল না দিয়ে গোঁ ধরেই এখানে প্রার্থী হন ওমর।
জিতলেন স্বচ্ছন্দেই।
লোকসভায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেক হয়ে গেলেও রাজ্য রাজনীতির প্রথম পরীক্ষায়
এবারই পাস করলেন এই তরুণ নেতা।
দুই
ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে গান্ডেরবালে মানুষের অভিনন্দন-উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন ওমর।
বাবা
ফারুক আবদুল্লা জিতেছেন শ্রীনগর জেলার হজরতবাল এবং সোনেওয়ার- দুটি কেন্দ্রেই।
বস্তুত শ্রীনগরের আটটি কেন্দ্রই এবার গেছে ন্যাশনাল কনফারেন্সের দখলে।
পি ডি
পি-র পিতা-পুত্রী মুফতি মহম্মদ সইদ এবং মেহবুবা মুফতি,
দু'জনই
জয়ী।
কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ জয়ী ভাদেরওয়া কেন্দ্রে।
সি পি
এম নেতা ইউসুফ তারিগামি আবারও জিতেছেন কুলগাঁও কেন্দ্রে।
তাকে
হারাতে মরিয়া ছিলেন সৈয়দ আলি জিলানির মতো কট্টর নেতারা।
পি ডি
পি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে তারিগামির মন্তব্য,
কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ধর্ম নিরপেক্ষতার জয় হল।
প্যান্থারস পার্টি পেয়েছে ৩টি আসন।
৪টি
আসনে জয়ী নির্দল প্রার্থীরা।
ওমর
তাকিয়ে আছে এদের সমর্থনের দিকেও।
একটি
করে আসন পেয়েছে ছোট দল ডি পি এন,
পি ডি
এফ।
ক্ষমতায় আসছে ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং কংগ্রেসের সমর্থনেই,
এটা
সম্ভবত এখন শুধুই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে?
দলের
নেতৃত্ব ছেলের হাতেই সঁপে দিয়েছিলেন ফারুক আবদুল্লা।
কিন্তু বিধানসভার ভোট আসতে এবার ফারুককে শুধু প্রার্থী করা নয়,
দলের
সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তুলে ধরে ন্যাশনাল কনফারেন্স।
ফল
বেরোনোর পর কিন্তু বাবা-ছেলে কেউই খোলসা করে বলছেন না,
মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন।
ওমরের
উত্তর,
সেটা
সবার সঙ্গে কথা বলে ঠিক হবে।
সিদ্ধান্ত নেবে
'হাইকমান্ড'।
আমি
পছন্দ করব সংসদে থাকতেই।
ওমর
তরুণ নেতা।
ফারুকের মুখ সামনে রেখেই ভোট উতরোনের ছক কয়েছিল ন্যাশনাল কনফারেন্স।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা,
কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়ে গেলেই ওমরের নাম চূড়ান্ত করে ফেলা হতে পারে।
ওমর
নিজে মনে করেন,
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হতে কোনও অসুবিধে নেই।
বরং
সেটাই হবে স্বাভাবিক ব্যাপার।
রাজ্যের সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে তা হলে সরকারে।
বি জে
পি বা পি ডি পি-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন ওমর,
ফারুক
দু'জনই।
রাজ্যের কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স,
দু'তরফ
থেকেই এ ব্যাপারে সদর্থক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক বসে কংগ্রেস কোর কমিটির।
সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন প্রণব মুখার্জি,
এ কে
অ্যান্টনি,
|