ছবি আঁকার
প্রতি টান ছেলেবেলা থেকেই।
বাবা-মায়ের প্রশ্রয়ে পারিবারিক কাজ ছেড়ে ছবি আঁকাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন
যুবকটি।
নানান
ধরনের ফরমায়েশি কাজের মধ্যে থেকেও যুবকটি নিজের আঁকার একটা টান অনুভব করতেন।
ক্যানভাসের পাশে একটা বড় আয়না টাঙিয়ে মাঝে মাঝে দেখতেন,
তুলি হাতে
নিজেকে কেমন লাগে।
ব্যাপারটা বন্ধুবান্ধবদের বললে তারা বিদ্রুপ করতেন।
বলতেন
সময়ের অপচয়।
কিন্তু
সেই যুবক তার ভাবনাটিকে মন থেকে মুছে ফেলতে চাননি।
সময়
পেলেই নিজের আঁকার অনুশীলন করে গেছেন।
একটা
অদ্ভুত তৃপ্তি পেতেন সেই শিল্পী।
অন্যান্য অনুরোধি ছবির মতো ক্রেতা বা দর্শকদের খুশি করার জন্য নয়,
নিজেকে খুশি
করার জন্য তার স্বপ্রতিকৃতি আঁকতে ইচ্ছে করে।
মুখে
বিরক্তি নয়।
নিজের
কাজের প্রতি নিষ্ঠা,
ভালবাসার রূপ
ফুটিয়ে তুলতে চান সেই ছবিতে।
চিন্তাশীল,
ভাববিহ্বল
শিল্পীর রূপটাই তিনি দেখাতে চান ক্যানভাসে।
ধনী
ক্রেতার চাহিদা মতো নিজেকে বদলে ফেলতে চান না শিল্পী।
তার
ধর্মের প্রতি আগ্রহ,
শিল্পের প্রতি
ভালবাসা সব কিছু তিনি ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে একদিন নিজেই রঙ তুলি নিয়ে
ক্যানভাসের সামনে উপস্থিত।
এত দিন
যা এঁকেছেন সবই স্কেচ,
তেল রঙে আঁকতে
ভরসা পাননি।
নিজের
প্রতি বিশ্বাস আর আত্মশক্তিতে ভর করে সমস্ত সমালোচনা,
বিদ্রুপ বাঁ
হাতে সরিয়ে এঁকে ফেললেন স্বপ্রতিকৃতি।
সবাইকে
দেখাতে চাইলেন -
'দেখ,
এই আমি,
আসল আমি।'
নিজের
মুখাবয়বের সঙ্গে যোগ করে দিলেন যিশুর দীর্ঘ কোঁচকানো আলুলায়িত কেশরাজি।
বলতে
চাইলেন,
আমার হৃদয়
ধর্মের প্রতি সমর্থিত।
শিল্পীর ভক্তিভাবনা আর ধর্মচিন্তার অভিনব বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে দিলেন ছবিতে।
তিনি
নিজেও বুঝতে পারেননি,
এই
আত্মচিত্রটা খুলে দিয়েছিল চিত্রশিল্পের এক অনন্য দিক।
১৪৯৮
সারে আঁকা সেই ছবিটিই বিশ্বের প্রথম প্রতিকৃতি।
শুধু
নিজের প্রতি বিশ্বাস আজও তাকে শিল্পের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।