|
ফতোয়া অবৈধঃ
ফতোয়াবাজদের দৌরাত্ম্য থেকে জাতি মুক্ত
শেখ উল্লাস
॥
‘ধর্ম মানবতার
জন্য, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য নয়’
- এই কথাটি সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘ দিন ধরে
সভা-সেমিনার-গবেষণা-আলোচনা-লেখা-লেখি করে আসছে সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ।
ধর্মের
নামে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ধর্মভীরু ও ধর্মান্ধ বানিয়ে নিজেদের কায়েমী
স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে ফতোয়াবাজ ধর্মব্যবসায়ীরা।
ফলে
ধার্মিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সংখ্যা দিন দিনই কমে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে
হচ্ছে সমাজকে, দুর্নীতিসহ যাবতীয় মিথ্যাচার কায়েম হচ্ছে সর্বত্র।
তথাকথিত
ধর্মবেত্তারা নিজেদের স্বার্থে ধর্মের বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের মনগড়া ব্যাখ্যা
বিশ্লেষণ করছে যার অপর নাম ফতোয়াবাজি।
গত ৮
জুলাই বৃহস্পতিবার ফতোয়ার নামে সংঘটিত সব ধরনের বিচারবহির্ভূত কার্যক্রমকে
অবৈধ ও আইন বহির্ভূত বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
ফতোয়ার
নামে দণ্ডদাতাদের অপরাধী গণ্য করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের
নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এই
ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যবহার-কারীদের কবল থেকে এদেশের ধর্মপ্রাণ
মুসলমানরা এবার মুক্তি পাবে বলে আশা করছে জাতির বিবেকবান মহল।
ধর্মব্যবসায়ী ও ফতোয়াবাজদের দৌরাত্ম্য থেকে জাতিকে মুক্ত করা না গেলে এদেশের
অসাম্প্রদায়িক, উদার ও প্রকৃত ধার্মিক জনগোষ্ঠীর ভিতকে শক্তিশালী করা কখনো
সম্ভব হবে না।
আদালতের রায়ের
বিস্তারিত বিবরণঃ হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি গোবিন্দ
চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
এতে বলা
হয়েছে, ফতোয়ার নামে যেকোনো ধরনের শাস্তি ঘোষণা সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনের
পক্ষে সাংঘর্ষিক।
ফতোয়ার
নামে এ ধরনের শাস্তি যারা ঘোষণা করবেন, তাদেরসহ যারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে
সম্পৃক্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে অপরাধের সহযোগী হিসেবে একই
ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ফতোয়াবাজির
ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থে আইন ও
সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট
(ব্লাষ্ট), ব্র্যাক, নারীপক্ষ ও নিজেরা করি - এই পাঁচ সংগঠন এবং সুপ্রীম
কোর্টের তিন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক, কে এম হাফিজুল আলম ও এম
ইমরানুল হাই পৃথক তিনটি রিট করেছিলেন।
এর মধ্যে
গত বছর একটি এবং চলতি বছর দুটি রিট করা হয়।
এর মধ্যে
একটি রিট হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোর্রা মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
যে
ঘটনাটি ছিল এরকম, গত ২১ মে জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার পূর্বপাড়ায় আওয়ামী
লীগের কিছু নেতার সহযোগিতায় এলাকার তিন ইমাম এক তরুণীকে ১০১ দোর্রা মারার
ফতোয়া দেন।
দোর্রা
মারার পরদিন তা পত্র-পত্রিকায় ও জনসমক্ষে উঠে আসে।
বিচার
বহির্ভূত এই শাস্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী
ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক, এ্যডভোকেট কে এম হাফিজুল আলম ও ইমরানুল হাই
জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে শুনানী শেষে ওই দিন রুল জারি করা হয়।
ভিক্টিম
ও তার মাকে হাইকোর্টে এনে তাদের জবানবন্দি নেন আদালত।
এর আগে ২০০১
সালের ১ জানুয়ারি বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুল আরা
সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে সব ধরনের ফতোয়াবাজিকে
অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
ফতোয়াকে
একটি আইনী মতামত হিসেবে বর্ণনা করে রায়ে বলা হয়েছিল, সংবিধান অনুযায়ী কেবল
আদালতই এ ধরণের মতামত দিতে পারে।
ওই রায়ে
অননুমোদিত কর্তৃপক্ষের জারি করা সব ধরনের ফতোয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করে
আইন প্রনয়ণ করতে সংসদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল।
এছাড়া
রায়ে সব স্কুল ও মাদ্রাসায় মুসলিম পারিবারিক আইন ও অধ্যাদেশ পাঠ বাধ্যতামূলক
করার জন্যও সব মসজিদের ইমামকে জুমার নামাজের দিন এ অধ্যাদেশ সম্পর্কে আলোচনা
করার নির্দেশ দানের সুপারিশ করা হয়েছিল।
কিন্তু জাতির
দুর্ভাগ্য ও দুঃখজনক দিকটি হলো দীর্ঘ ১০ বছর হতে চল্লো হাইকোর্টের সেই
সুপারিশ বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
অধিকন্তু ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপি-জামাত জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন
থাকাকালে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদসহ যাবতীয় অনাচার অনিয়ম তুঙ্গে উঠতে সহায়তা
করেছে যার পিছনে কাজ করে ছিল ফতোয়াবাজি।
বর্তমানে
যুদ্ধাপরাধীসহ বড় বড় সকল অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বিচার প্রক্রিয়া আবার শুরু
হয়েছে।
ধর্মীয়
অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে জামাতের শীর্ষস্থানীয়
নেতাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
যা
একটি শুভ উদ্যোগ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিবেকবান মহল।
জামাতের এই নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে।
দেখা
যাচ্ছে যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে তারাই পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করছে,
ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েছে, ফতোয়াবাজি করে নিজেদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ
আদায়ের জন্য।
সময়
এসেছে এই ফতোয়াবাজি ধর্মব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থেকে মোহাম্মদী ইসলাম রক্ষা
করে দেশবাসীকে মুক্ত করতে।
সরকারকে এখন এগুতে হবে অত্যন্ত সতর্কতা ও আন্তরিকতার সাথে।
আমরা হিন্দু বা
মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।
এটি কোন
আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তব কথা।
সংলাপ
॥
‘মা
প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ রেখে
দিয়েছেন যে মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই।’
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর এ-দুঃসাহসিক উক্তি বাঙালির জাতীয় চেতনা শাণিতকরণে
মাইলফলকের ভূমিকা আজও পালন করে যাচ্ছে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার (১৯৪৭) পরপরই দেশের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে,
না
বাংলা হবে এ বিতর্ক সৃষ্টি হলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো
বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তাঁর এ ভূমিকার ফলে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত
হয়।
জন্ম,
পেয়ারা গ্রাম,
চব্বিশ পরগনা,
পশ্চিমবঙ্গ,
১০
জুলাই ১৮৮৫।
ভাষাবিদ,
ভাষাবিজ্ঞানী,
গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
১৯০৪-এ হাওড়া জেলা স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাস।
বিভিন্ন ভাষার প্রতি উৎসাহ এবং একাধিক ভাষা শিক্ষার সূত্রপাত এই বয়সেই
হয়েছিল।
১৯০৬-এ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ.এ. পাস।
১৯০৮-১৯০৯-এ যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা।
১৯০৯-১৯১০-এ কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যয়ন ও সংস্কৃতে অনার্সসহ বি.এ.পাস।
১৯১২-তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম. এ. পাস।
১৯১১-১৯১৫-তে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (৪ সেপ্টেম্বর
১৯১১) সম্পাদক।
১৯১৩-তে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা লাভের
জন্য ভারত সরকারের বৃত্তি লাভ,
কিন্তু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ছাড়পত্রের অভাবে বিদেশ যাত্রায় ব্যর্থ।
১৯১৪-তে বি.এল.পাস।
১৯১৫-এর মার্চ মাস পর্যন্ত সীতাকুন্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক।
একই
বছর আল আসলাম পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
১৯১৫-১৯১৯-এ চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাটে আইন ব্যবসা।
স্থানীয় পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত।
১৯১৭-তে দ্বিতীয় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি।
১৯১৮-১৯২১ পর্যন্ত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও সমিতির মুখপাত্র
‘বঙ্গীয়
মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক।
১৯১৯-১৯২১ পর্যন্ত ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শরৎকুমার লাহিড়ী গবেষণা সহায়ক পদে দায়িত্ব
পালন।
১৯২১-এর ২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে
যোগদান।
একই
সঙ্গে সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক (১৯২৫ পর্যন্ত)।
১৯২৬-এর ১৯ জানুয়ারি ঢাকায়
‘মুসলিম
সাহিত্য সমাজ’
কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা সভার সভাপতি।
১৯২৬-১৯২৮ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন অধ্যাপক।
১৯২৩-এর ২২ ও ২৩-এ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শান্তি নিকেতনের সমাবর্তন উৎসবে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান।
১৯২৬-১৯২৮ পর্যন্ত প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক ভাষা,
প্রাচীন ফার্সি,
তিব্বতি,
বিভিন্ন আধুনিক ভারতীয় ভাষা অধ্যয়ন ও পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন,
উপরন্তু ডিপ্লোমা-ফোন সনদপত্র লাভ।
১৯২৭-১৯২৮- এ সরবনে পাঠরত অবস্থাতেই এক অবকাশে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ
বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক,
সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা অধ্যয়ন।
১৯২৮-এর আগস্ট মাসে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং প্রাক্তন কর্মস্থলে যোগদান।
একই
বছরের অক্টোবর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিখিল বঙ্গ মুসলিম যুবক
সম্মেলনে সভাপতিত্ব।
১৯৩৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ পৃথক হলে বাংলা বিভাগের
অধ্যক্ষ ও রিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
১৯৪০-১৯৪৪ পর্যন্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট।
১৯৪১-এ হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত প্রাচ্যবিদ্যা সম্মেলনে ভাষাতত্ত্ব
শাখার সভাপতি,
এবং
ফিলোসপি এন্ড ইন্ডিয়ান লিঙ্গুইসটিক্স নামক প্রবন্ধ পাঠ।
১৯৪২-এ ঢাকায়
‘সোভিয়েত
সুহৃদ সমিতি’
কর্তৃক আয়োজিত
‘সোভিয়েত
মেলা’
নামক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন।
১৯৫৩-১৯৫৫ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ফরাসি
ভাষার খন্ডকালীন অধ্যাপক।
১৯৪৪-এ বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করার পর বগুড়ায়
আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের পদে যোগদান।
১৯৪৫-এ জয়পুরে অনুষ্ঠিত পি.ই.এন. আয়োজিত নিখিল ভারত লেখক সম্মেলনে যোগদান।
১৯৪৮-এ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি।
একই
বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক
হিসেবে বাংলা বিভাগে পুনরায় যোগদান।
১৯৫৫-এর ১ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের
অধ্যক্ষপদে যোগদান এবং ১৯৫৮-এর ডিসেম্বরে অবসর গ্রহণ।
১৯৫৮-এর নভেম্বর মাসে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত
‘ইন্টারন্যাশনাল
সেমিনার অন ট্রেডিশনাল কালচার ইন সাউথ-ইস্ট এশিয়া’-তে
ইউনেস্কো মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান ও সেমিনারের চেয়ারম্যান নিযুক্ত।
১৯৫৯-১৯৬০-এ করাচিতে অবস্থিত উর্দু উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত উর্দু-অভিধান
প্রকল্পের সম্পাদক নিযুক্ত এবং এক বছরকাল সেখানে অবস্থান।
১৯৬০-এর ১ জুলাই
‘পূর্ব
পাকিস্তানি আদর্শ অভিধান’
প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমীতে যোগদান।
১৯৬১-১৯৬৪-তে বাংলা একাডেমীর ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক।
একই
সময়ে পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি।
১৯৬৩-তে
‘পূর্ব
পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান’
প্রকল্পের প্রথম অংশ
‘পূর্ব
পাকিস্তানি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’
প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত।
১৯৬৩-১৯৬৪-তে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামি
বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য।
একই
সময়ে ঢাকার ইসলামিক একাডেমীর কার্যনির্বাহক সভার সদস্য।
১৯৬২-১৯৬৭ পর্যন্ত বাংলা কলেজের সাংগঠনিক সংসদ ও ব্যবস্থাপক সংসদের সভাপতি।
১৯৬৩-তে বাংলা একাডেমী কর্তৃক গঠিত বাংলা পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির
সভাপতি।
এই
কমিটি কর্তৃক উদ্ভাবিত তারিখ যুক্তিসম্মত ও সহজে অনুসরণযোগ্য।
রচনাকর্ম-গবেষণা: প্রায় চল্লিশ (৪০)টি।
১৯৬৭-তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইমেরিটাস প্রফেসর পদ লাভ।
তৎকালীন পাকিস্তান সরকার-কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রাইড অব পারফরম্যান্স,
১৯৬৭-তে ফরাসি সরকার কর্তৃক নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স
পদক প্রদান।
আদমজী,
দাউদ প্রভৃতি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী সভাপতিরূপে দায়িত্ব পালন।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সম্পাদনা তাঁর জীবনের প্রধান একটি কাজ।
তিনি প্রাচ্যের অন্যতম ভাষাবিজ্ঞানী।
একজন খাঁটি বাঙালি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
ধর্মীয় অনুভূতি অপেক্ষা জাতীয় অনুভূতিকে অধিক গুরুত্ব প্রদান।
বাঙালি জাতির কাছে চিরস্মরণীয় ছিলেন-আছেন-থাকবেন।
ডি-৮
সম্মেলন
সংলাপ
॥
ডি-৮
দেশগুলোর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন গত ৮ জুলাই নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় অনুষ্ঠিত
হয়েছে।
সংস্থার
নতুন
চেয়ারম্যান দেশ হিসেবে নাইজেরিয়া
‘ডি-৮
দেশগুলোর পুঁজি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা তরান্বিত করা’
এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নিশ্চিত করেছে,
যাতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আর্থ-বাণিজ্যিক পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং
বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা যায়।
সম্মেলন শেষে
‘আবুজা
ঘোষণা’
গৃহীত হয়েছে।
ডি-৮
হচ্ছে একটি অর্থনৈতিক সংস্থা।
এর
লক্ষ্য হল ইসলামি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলোর
অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা,
যাতে
ইসলামি দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুতরাং প্রতিবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য আর্থ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ
জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়।
এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালনের গুরুত্ব জোরদার করেছেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন তার ভাষণে বলেন,
জটিল
ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ডি-৮ অংশীদারিত্বের সম্পর্ক
এবং উন্নয়ন ও সহযোগিতা তরান্বিতকরণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে
সব
সময় এ বিষয়ে জোরদার করেছে যে,
বাণিজ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বিরাট চালিকাশক্তি।
বাণিজ্য উদ্বুদ্ধকারী ও অনুঘটক হিসেবে সরকারের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বাণিজ্যের সত্যিকার উন্নয়ন বাস্তবায়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হবে।
জোনাথনের এ দৃষ্টিভঙ্গী অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমর্থন পেয়েছে।
ইরানের নেতা সম্মেলনে প্রস্তাব দিয়েছেন যে,
ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান পুঁজি বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দেয়ার
জন্য ডি-৮ যৌথ পুঁজি বিনিয়োগ তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিশেষ
করে জ্বালানি,
বেসামরিক বিমান চলাচল ও
অবকাঠামোসহ
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগ করা হবে।
সম্মেলনে গৃহীত
‘আবুজা
ঘোষণায়’
বলা
হয়,
২০০৮
সালে কুয়ালালামপুর শীর্ষ সম্মেলনে নির্ধারিত ডি-৮ রোড ম্যাপে মনে করা হয়,
বাণিজ্য,
কৃষি,
খাদ্য
নিরাপত্তা,
শিল্প
সহযোগিতা,
মাঝারি ও ছোট আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন,
পরিবহন,
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ হবে অগ্রাধিকার উন্নয়ন ক্ষেত্র।
উল্লিখিত ক্ষেত্রের উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে
জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর,
নতুন
শক্তিসম্পদের উন্নয়ন,
বিকল্প জ্বালানি এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়,
মাঝারি ও ছোট আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা
দেয়া এবং সুযোগ ও সুবিধাজনক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর তরান্বিত আর
বাণিজ্যিক বিধি-নিষেধ দূর করা।
ডি-৮
হচ্ছে ইসলামি উন্নয়নশীল আটটি দেশের গোষ্ঠী।
এই
৮টি দেশ ইসলামি দেশ অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান।
৮টি
দেশ হল মিসর,
ইরান,
নাইজেরিয়া,
ইন্দোনেশিয়া,
মালয়েশিয়া,
বাংলাদেশ,
তুরস্ক ও পাকিস্তান।
অভিন্ন
ধর্মে বিশ্বাসী ৮টি দেশের সম্পর্ক রক্ষার বিশেষ সংযোগস্থল।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ডি-৮ এর অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তি থাকার পাশাপাশি অনেক
আন্তর্জাতিক সমস্যায় মতৈক্যে পৌঁছা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন,
যদিও
বর্তমানে অনেক মানুষ ডি-৮ সম্পর্কে জানেন না,
তবুও
আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এর অবস্থান উপেক্ষানীয় নয়।
প্রথমত,
এ ৮টি
দেশের মোট লোকসংখ্যা ৯০ কোটিরও বেশি।
তা
বিশ্বের মোট লোকসংখ্যার ১৫ শতাংশ।
এর
মধ্যে ইন্দোনেশিয়া,
পাকিস্তান,
বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া এ দেশগুলোর প্রতিটির লোক সংখ্যা ১৫
কোটির
কাছাকাছি।
ডি-৮
এর বিরাট বাজারের সুপ্তশক্তি ও উন্নয়নের অবকাশ রয়েছে।
মালয়েশিয়া বর্তমানে নতুন তেল উৎপাদনকারী দেশ।
তেল
সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এ সংস্থার অবস্থানকে খাটো করে দেখা যায় না।
সদস্য
দেশগুলো তাদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করে কার্যকরভাবে অবিচল নীতি ও ব্যবস্থা
অনুসরণ করে,
তাহলে
তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল।
অদ্ভুত
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
সাদি
॥
সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী জোট ডাক দিয়েছিল লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে
এক সমাবেশের।
জাতীয়তাবাদের স্পষ্ট গর্জন শুনেছে ব্রিটেনের বাঙালিরা।
জাতীয়তাবাদীরা জমায়েত হয়েছিলেন গত ১৪ জুন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই।
অমানবিক কর্মকান্ডে ছেয়ে গেছে সারা বাংলাদেশ।
কিছু পত্রিকার পাতায় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এরকম খবর ছাপা হয়েছে।
বিরোধীদলের তাদের নিজস্ব ইস্যু নিয়ে মাঠে নামার অধিকার আছে।
খুব
স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির লন্ডন শাখা তাদের সে বারতা
পৌঁছাতে কোনোই বাঁধা থাকার কথা নয়।
কিন্তু সে বার্তা শুনবে কারা?
বাংলাদেশের অভিবাসী মানুষ নাকি শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ।
সমাবেশ হবে।
বর্তমান সরকারের
‘অগণতান্ত্রিক
আর অমানবিক’
কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ওই দেশের বাঙালিদের জাগিয়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য হবে
এটাই তো স্বাভাবিক।
প্রয়োজনে হাজার মানুষের সমাবেশের কথাগুলো যাবে বাংলাদেশের হাইকমিশনে।
স্মারকলিপি যাবে হাইকমিশনারের কাছেই।
কিন্তু এক অদ্ভুত সংস্কৃতি ওখানে কাজ করে।
‘জাতীয়তাবাদীদের
সমাবেশ শেষ হয়েছে ডাউনিং স্ট্রিটে।
কার
বিরুদ্ধে ওই সমাবেশ?
ব্রিটেনের সরকারের বিরুদ্ধে?
এ
প্রশ্ন আসতেই পারে।
তা
না হলে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাবে কেন এ স্মারকলিপি।
একটি দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিচার কি
করবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের প্রশাসন?
কি
অদ্ভুত আমাদের রাজনীতির যুক্তি! দেশ আছে,
রাজপথ আছে,
আন্দোলনের পথ আছে।
দলীয় সমর্থকদের চাঙ্গা করার আছে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু।
কিন্তু কেন ডাউনিং স্ট্রিট যাওয়া?
সরকারের অমানবিক আচরণের দোহাই তুলে নিজের দলের সমর্থকদের চাঙ্গা না করে
ভিন্ন রাষ্ট্রকে অবহিত করার কী মানে থাকতে পারে?
ডাউনিং স্ট্রিট কিংবা ব্রিটেনের প্রশাসন কি জানে না কিভাবে চল্ছে বাংলাদেশ।
তাহলে কি বর্তমান সরকারের অনুযোগ কিংবা অভিযোগ এবং অন্য অর্থে ডাউনিং
স্ট্রিটের কর্তাব্যক্তিদের কাছে বিচারের অনুরোধ।
এসব
করার মধ্য দিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব কোনই হেরফের হবে না এটা
প্রবাসী বাঙালিদের জানা।
কিন্তু মাঝখান দিয়ে যে কাজটি করতে পারলো তারা,
তাহলো ডাউনিং স্ট্রিট কিংবা ব্রিটেনের বাংলাদেশের প্রভু হয়ে থাকার বা ওই
দলটা বিদেশীদের সেবা দাসত্বের মানসিকতায় আবারো শান দেয়া হলো।
খুব
স্বাভাবিকভাবেই এর মধ্য দিয়েই উঠে আসে আমাদের দেশীয় রাজনীতির চরিত্র
দেউলিয়াত্ব।
একটু ভিন্নভাবে বলা যায় কী নির্লজ্জ আর অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার
করে রাজনীতিকরা করে নিতে চায় ক্ষমতার পালাবদল।
ফুটে ওঠে দলগুলোর রাজনীতিবিদদের পরাধীন মানসিকতা,
যা
দিয়ে তারা আমাদের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব বিদেশীদের লিজ দিয়ে ক্ষমতার
স্বাদ নিতে চায়! এই দেউলিয়াত্বের কারণেই বাঙালিদের হজম করতে হয়েছে ওয়ান
ইলেভেন।
সহ্য করতে হয়েছে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের
হম্বিতম্বি।
ঢাকায়
আসছে ‘সোনার
তরী’
জয়ন্ত
॥
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের দেড়শো বছর উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন
‘সোনার
তরী’
আগামী
৭ আগস্ট কলকাতা থেকে ঢাকায় আসবে।
ভারতের রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক
বিনিময় কর্মসূচি উপলক্ষে এই আয়োজন।
পরের
দিন ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান হবে।
সেখানে উপিস্থত থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মমতা
ছাড়াও ভারতীয় প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব
মুখোপাধ্যায়ের।
ওই
বিশেষ ট্রেনের যাত্রী হিসাবে বিশিষ্ট জনদের আমন্ত্রণ জানাবে ভারতের রেল।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে,
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই দু’দেশের
মধ্যে ট্রেন চলাচল সম্প্রসারণের প্রয়াস।
কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ভারতের
রেলমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তখনই
রবি ঠাকুরের সার্ধ শতবর্ষের স্মরণে অভিনব রেল যাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়
হাসিনা-মমতার।
কূটনীতিবিদরা মনে করছেন,
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করতে হাসিনা-মমতার
ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চাইছে।
বেশ
কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে
ভারতের কয়েকজন রাজনীতিবিদকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন হাসিনা।
নিমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন মমতাও।
মমতা ঢাকায় আসবেন ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী হিসাবে।
জানা গিয়েছে,
কবিগুরুর স্মরণে ৮ আগেস্টর অনুষ্ঠানে দু’দেশের
অংশগ্রহণ হবে আধাআধি।
অর্থাৎ ২ ঘণ্টার কর্মসূচি হলে,
এক
ঘণ্টা করে ভারত এবং বাংলাদেশের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করবেন।
শিলংয়ে রবির স্মৃতি রইলো না
মাসুম
॥
সমগ্র বিশ্বে যখন রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে,
তখনই তাঁর প্রিয় ভারতের শিলংয়ের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হল।
এই
বাড়িতে বসেই বেশ কয়েকটি সমাদৃত লেখা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।
সেসবের তোয়াক্কা না করেই সিধলি হাউসের বর্তমান মালিক বাড়িটিকে ধূলিসাৎ করে
দিয়েছেন।
১৯২৭ সালে যখন শেষবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ শিলংয়ে আসেন,
তখনও তিনি এখানেই উঠেছিলেন।
সেসব এখন ইতিহাস।
গত
কয়েকদিন ধরেই বাড়িটি ভেঙে ফেলার কাজ চালিয়েছেন বর্তমান মালিক ফিলিপ পালা।
সম্পর্কে আবার তিনি জলসম্পদ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভিনসেণ্ট পালার
আত্মীয়।
উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ তিন বার শিলং গিয়েছিলেন।
শেষবার গিয়েছিলেন ১৯২৭ সালের মে-জুন মাসে।
তাঁর সমাদৃত উপন্যাস যোগাযোগ’
এখানে বসেই লেখা।
‘সুসময়’
ও
‘দেবদারু’র
মতো কয়েকটি কবিতারও সাক্ষী ছিল এই বাড়িটি।
বাড়িটির একসময়ের মালিক ছিলেন লুই যোসেফ ডালিনগ্রাদ নামে এক ইতালীয় ব্যক্তি।
তাঁরই অতিথি হয়ে বাড়িটিতে ছিলেন কবি।
পরবর্তীকালে অসমের গোয়ালপাড়া জেলার সিধলির রাজ পরিবার বাড়িটি কেনে।
সিধলি’র
রানী,
রাজা অজিত নারায়ণের স্ত্রী মঞ্জুলা দেবী এই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন।
পরে
এখানেই তিনি নিজের ছেলের স্মৃতিতে
‘জয়ন্ত
অ্যাকাডেমি অব ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিকাল মিউজিক,
ডান
অ্যান্ড আর্ট’
গড়ে
তোলেন।
ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে আসেন মঞ্জুলা দেবী।
পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই তিনি বাড়িটি কিনে
নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর
পরে বারকয়েক বাড়িটি হাতবদল হয়েছে।
গত
কয়েকদিনে পুরানো কাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য ভারতের সাংবাদিকরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল
সাংমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে,
ওখানে এমন কোনও ঐতিহাসিক বাড়ি আদৌ আছে বলে তাঁর জানা নেই! তিনি বলেন,
সাধারণত বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলোকে
চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু এই বাড়িটির ব্যাপারে তেমন কিছু করা হয়নি।
তবে
সাংমা আশ্বাস দেন যে বাড়িটিকে চিহ্নিত করার ব্যাপারে আগের কোনও সরকার কোনও
পদক্ষেপ নিয়েছিল কিনা তা তিনি জানার চেষ্টা করবেন।
পাশাপাশি,
সাংমা একথাও জানান যে সাধারণত কোনও বাড়ি ভেঙে ফেলার আগে সেই বাড়িটির
বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নগর বিষয়ক দপ্তরে জানাতে হয়।
এই
বাড়িটির ব্যাপারে নিয়ম মেনে তেমনটা করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
কাশ্মীরে গৃহযুদ্ধ নামলো ভারতীয় সেনা
ইমরান
॥
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে বুধবার কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।
রাজ্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্যই সেনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত।
কাশ্মীরের কারফিউ কবলিত এলাকায় হিংসা মোকাবিলায় প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে
কাজ করবে সেনাবাহিনী।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী এম এম পাল্লাম রাজু
জানিয়েছেন,
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেই একমাত্র সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা
হবে।
কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করে সেনাবাহিনী।
গত
সপ্তাহে মঙ্গলবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের
বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা রাতেই কথা বলেন
কেন্দ্রের সঙ্গে।
কাশ্মীরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা পাঠানোর জন্য কেন্দ্রের
কাছে আবেদন করেন তিনি।
এর
পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে বুধবার সকালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট
কমিটির বৈঠক বসে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকেই কাশ্মীরে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র পি চিদাম্বরম,
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি,
ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কে মেনন,
স্বরাষ্ট্র সচিব কে পিল্লাই এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় কাশ্মীরে মোতায়েন করা হলেও সেনাবাহিনী একটি নির্দিষ্ট
চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
জনবহুল এলাকায় সেনা পাঠানো হবে না।
বিশৃঙ্খলা এবং হিংসা সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করার জন্যই সেনাবাহিনীকে
ব্যবহার করা হবে।
উপত্যকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি না ফেরা পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে
বলে জানা গেছে।
বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব জি কে পিল্লাই পরিস্থিতি
খতিয়ে দেখতে শ্রীনগর যাবেন।
সেই
মতো এদিন শ্রীনগরে যান পিল্লাই।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।
উপত্যকায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার সব রকমের সহযোগিতা করবেন
বলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই পিল্লাই সিআরপিএফ,
সেনাবাহিনী,
রাজ্য পুলিশের আধিকারিক এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক
করেন।
এর
আগেই পিল্লাই রাজ্য পুলিশের প্রধান কুলদীপ খোদা এবং সেনাবাহিনীর ১৫নং
বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জি এস মারওয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা বুধবার টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীকে কাশ্মীর
উপত্যকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবিস্তার জানান।
ওমর
আব্দুল্লা টেলিফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী
এ কে অ্যান্টনির সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন।
এদিকে সেনাবাহিনী ফ্ল্যাগ মার্চ করলেও ওই বুধবার কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায়
রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় জনতা।
বহু
জায়গায় সেনাবাহিনীর ফ্ল্যাগ মার্চের সময়েই মসজিদগুলোর ভেতরে জড়ো হওয়া জনতা
নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এদিনও বারমুলা জেলায় উত্তেজিত জনতা
নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে।
সোপোর,
ছানকান,
অসপীর,
অমরগড়,
সিমেট ব্রিজ,
খাজা বাগ,
পুরানো বারমুলা শহর,
পালহাল্লান এবং জামিয়া কাদিম এলাকা শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আবার বাতমালো,
ছাত্তাবাল,
রামবাগ এলাকায় মানুষ সকালেই মসজিদের ভিতরে ঢুকে যান।
সেখান থেকেই স্লোগান দেন।
বুদগাম জেলার নওগাম এলাকায় বিক্ষোভ দেখায় জনতা।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল জেএসব্রার জানিয়েছেন,
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কারফিউ জারি আছে।
আমরা এখানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছি।
আমাদের প্রয়োজন পড়লেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা পুলিশ,
সিআরপিএফ এবং প্রশাসনকে সাহায্য করতে নেমে পড়তে পারবো,
জানিয়েছেন ব্রার।
কাশ্মীরে সেনা মোতায়েনের সমালোচনা করেছে কাশ্মীর রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল
পিডিপি।
রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে পিডিপি-র মুখপাত্র জানিয়েছেন,
রাজ্য সরকার মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারে না।
এখন
নিরস্ত্র মানুষদের মোকাবিলা করার জন্য সেনা নামাচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্তী নটরাজন কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর
উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,
কাশ্মীরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পিছনে সীমান্তপারের পাকিস্তানের
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত আছে! স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে কেন্দ্র ও রাজ্য
সরকার যে পদক্ষেপ নেবে কংগ্রেস তাকে সমর্থন জানাবে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে,
জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছেন তিনি।
এতে
কংগ্রেস প্রবল উদ্বিগ্ন।
রাজ্যে সোনিয়া গান্ধীর দল ওমরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে জোট সরকারে আছে।
আবার,
ওমরের বাবা ফারুক আবদুল্লা কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের শরিক মন্ত্রী।
কাশীরে গত কয়েকদিনের ঘটনায় পরিস্থিতি যেভাবে প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে
যাচ্ছে,
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার দায় কংগ্রেসকেই নিতে হবে।
ওমরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা তখন ধামাচাপা পড়ে যাবে।
এমনটাই কংগ্রেস হাইকমান্ডের আশঙ্কা।
গত
সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরামন্ত্রী পি চিদাম্বরম
তাঁকে রাজ্যের অগ্নিগর্ভ জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের কাছে যেতে টেলিফোনে অনেক
বোঝান।
তারপরও ওমর মাত্র একবারই বারামুলা জেলায় গিয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে বসে বৈঠক
করে ফিরে যান শ্রীনগরে।
শরিক মুখ্যমন্ত্রীর এহেন উদাসীনতায় কংগ্রেস হাইকমান্ড যার পরনাই বিস্মিত।
তবে
ভারত কেন্দ্র কাশ্মীর উপত্যকায় চলতি অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মোকাবিলায় খুব
বেশিদিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রাখুক,
তাও
চাইছে না কংগ্রেস হাইকমান্ড।
কারণ,
তাতে বিরূপ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে,
বিশেষত,
আন্তর্জাতিক মহলে।
ভারতীয় রাজনীতির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু কাশ্মীর।
তাই
কাশ্মীরের চলতি হিংসার জেরে মোতায়েন করা সেনাকে যত শীঘ্র সম্ভব ব্যারাকে
ফেরাতে হবে বলে গত শুক্রবার কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী,
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং,
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম,
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়,
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কথা হয়েছে।
জানা গেছে,
সোনিয়ার পৌঁরোহিত্যে কংগ্রেস কোর গ্রুপের বৈঠকে চিদাম্বরম দলীয় সভানেত্রী ও
প্রধানমন্ত্রীকে কাশ্মীর পরিস্থতির সর্বশেষ রিপোর্ট দেন।
এদিকে সংবাদ সংস্থার খবর,
শুক্রবার টানা চতুর্থদিন কাশ্মীর উপত্যকায় কার্ফু বহাল ছিল।
তবে
জুম্মাবারের নমাজে যোগ দিতে যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়,
সেজন্য তা কিছুটা শিথিল করা হয়।
এদিনও পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
কট্টরপন্থী হুরিয়তের তিনকর্মী সহ প্রায় দু’ডজন
পাথর নিক্ষেপকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনজনের বিরুদ্ধে যুবকদের খেপিয়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উপত্যকায় চলতি হিংসার পিছনে যে সৈয়দ আলি শাহ্ গিলানির অনুগামীদের মদত
রয়েছে,
টেলিফোনে আড়ি পেতে শোনা এক বার্তায় নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে এটা পরিস্কার হয়ে
গিয়েছে।
ওই
বার্তায় শোনা গিয়েছে,
কট্টরপন্থীদের এক নেতা তার অনুগামীদের হিংসা ছড়িয়ে আরও কিছু মানুষকে শহিদ
করার নির্দেশ পাঠাচ্ছে।
এরপরই ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়।
সাবির আহমেদ ওয়ানি নামে ওই নেতা ধরা পড়েছে।
এর
মধ্যেই এদিন উত্তর কাশীরের সোপোরে জঙ্গিরা তিনটি স্থানে হামলা চালায়।
জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডের ঘায়ে জখম হন দু’জন
পুলিশকর্মী।
তিনটির পিছনেই লস্কর ই তোইবা জড়িত।
বৈঠকে শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে,
ওমর
শ্রীনগরে বসে শুধু মুষ্টিমেয় কমান্ডারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভাবছেন,
তিনি এই গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন।
কিন্তু এতে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যাচ্ছে।
সেনা মোতায়েন করে কাশ্মীর উপত্যকার চলতি গৃহযুদ্ধের জ্বলন্ত পরিস্থিতি
সামাল দেয়া যাবে না।
কাশ্মীরের জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষ,
দোকানদার,
ছোট
ব্যবসায়ী,
অভিভাবকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে ওমরকে বোঝাতে হবে যে,
সমাজের এই অবিরাম পাথর ছোঁড়ার জঙ্গিপনায় রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে।
পযর্টন,
অর্থনীতি ও ব্যবসা লাটে উঠছে,
কাশ্মীরকে এরপর কেউ বাঁচাতে আসবে না।
মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ওমর শক্ত হাতে প্রশাসনের হাল না ধরলে জঙ্গিরা এবং
তাদের পাকিস্তানি মদতদাতা,
পৃষ্ঠপোষক আই এস আই কাশ্মীর উপত্যকার রাজনীতি ও সমাজ জীবনে আরো জাঁকিয়ে
বসবে,
সেই
বিপদের আশঙ্কার কথাও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলোয় কংগ্রেস কোর
গ্রুপের বৈঠকে উঠেছে বলে জানা গেল।
জনশক্তি রপ্তানিতে ধস
শাওন
॥
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
চলতি
বছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি আরো নিম্নগতি হতে পারে।
মন্দা
ও রাজনৈতিক কারণে গত এক বছরে যে পরিমাণ বাংলাদেশী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন ওই
পরিমাণ বিদেশে যায়নি।
এর
প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রেমিট্যান্সের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে,
গত
অর্থবছরের জুলাই-মে’র
তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
(জুলাই-জুন)
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গত
মে (এগারো) মাসে ছিল ১৫ শতাংশ।
জুলাই-মার্চ (নয়) মাসে এ হার ছিল ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
সূত্র জানায়,
একমাসের ব্যবধানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চার ব্যাংকেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ
কমেছে প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার।
জুনে ব্যাংক চারটিতে এসেছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ডলার,
একই
অবস্থা বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর।
মে
মাসে ১৩ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আনলেও জুনে এসেছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ
ডলার।
গত
১২ মাসে (জুলাই-জুন) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ প্রায় ১১শ’
কোটি মার্কিন ডলার।
গত
অর্থ বছরের শেষে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও গত মাসে
(জুন) কিছুটা ভাটা পড়েছে।
গত
মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৮৭ কোটি মার্কিন ডলার।
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিক কম রপ্তানি হওয়া,
কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়া এবং সর্বোপরি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে না পাঠানোর
কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের
কর্মকর্তারা জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে,
২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরের মোট ১২ মাসে রেমিটেন্স এসেছে ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ ডলার
এবং ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন
ডলার।
গত
অর্থ বছর ও এর আগের অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার
রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিমাসের মতো গত মাসেও সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স সংগ্রহ করেছে ইসলামি ব্যাংক।
ব্যাংকটি গত মাসে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স সংগ্রহ
করেছে।
এর
পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক।
ব্যাংকটি গত জুন মাসে রেমিটেন্স সরবরাহ করেছে প্রায় ১১ কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক এক কর্মকর্তা বলেন,
মধ্যপ্রাচ্য থেকে নানা কারণে শ্রমিক ফিরে আসছে।
যে
হারে ফিরে আসছে,
সেই
হারে যাচ্ছে না।
এর
ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিটেন্স প্রবাহের হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়,
জুনে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৮৭ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার।
গত
বছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলার।
চলতি বছরের মে মাসে ছিল ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এপ্রিলে ছিল ৯২ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
মার্চে ছিল ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
গত
মাসেও সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিটেন্স এসেছে ইসলামি
ব্যাংকের মাধ্যমে।
সূত্র জানায়,
গত
অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে,
যার
পরিমাণ ৬৬৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
এর
মধ্যে বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে,
যার
পরিমাণ ৩১৫ কোটি ১১ লাখ ডলার।
তারপর এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যার পরিমাণ ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশে থেকে এসেছে ৩৪৫ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
যার
মধ্যে বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
এর
পরিমাণ ১৩২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
পরের অবস্থানে রয়েছে,
যুক্তরাজ্য,
সেখান থেকে এসেছে ৭৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া,
সেখান থেকে এসেছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
অন্য এক সূত্র জানায়,
২০০৭ ও ২০০৮ সালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ ছিল
যথাক্রমে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ জন এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন।
২০০৯ সালে তার পরিমাণ কমে এসে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৮ জনে।
মাত্র ১ বছরেই এর পরিমাণ কমেছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন।
এছাড়া চলতি বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৩৪
হাজার ১৯৭ জন।
|