ডি-৮ হচ্ছে একটি অর্থনৈতিক সংস্থা।
এর
লক্ষ্য হল ইসলামি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলোর
অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা,
যাতে ইসলামি দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুতরাং প্রতিবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য আর্থ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ
জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়।
এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালনের গুরুত্ব জোরদার করেছেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন তার ভাষণে বলেন,
জটিল ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ডি-৮ অংশীদারিত্বের
সম্পর্ক এবং উন্নয়ন ও সহযোগিতা তরান্বিতকরণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে
সব
সময় এ বিষয়ে জোরদার করেছে যে,
বাণিজ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বিরাট চালিকাশক্তি।
বাণিজ্য উদ্বুদ্ধকারী ও অনুঘটক হিসেবে সরকারের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বাণিজ্যের সত্যিকার উন্নয়ন বাস্তবায়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হবে।
জোনাথনের এ দৃষ্টিভঙ্গী অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমর্থন
পেয়েছে।
ইরানের নেতা সম্মেলনে প্রস্তাব দিয়েছেন যে,
ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান পুঁজি বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দেয়ার
জন্য ডি-৮ যৌথ পুঁজি বিনিয়োগ তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিশেষ করে জ্বালানি,
বেসামরিক বিমান চলাচল ও
অবকাঠামোসহ
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগ করা হবে।
সম্মেলনে গৃহীত
‘আবুজা
ঘোষণায়’
বলা
হয়,
২০০৮ সালে কুয়ালালামপুর শীর্ষ সম্মেলনে নির্ধারিত ডি-৮ রোড ম্যাপে মনে
করা হয়,
বাণিজ্য,
কৃষি,
খাদ্য নিরাপত্তা,
শিল্প সহযোগিতা,
মাঝারি ও ছোট আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন,
পরিবহন,
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ হবে অগ্রাধিকার উন্নয়ন ক্ষেত্র।
উল্লিখিত ক্ষেত্রের উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে
জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর,
নতুন শক্তিসম্পদের উন্নয়ন,
বিকল্প জ্বালানি এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়,
মাঝারি ও ছোট আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কিছু আর্থিক
সহায়তা দেয়া এবং সুযোগ ও সুবিধাজনক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর তরান্বিত
আর বাণিজ্যিক বিধি-নিষেধ দূর করা।
ডি-৮ হচ্ছে ইসলামি উন্নয়নশীল আটটি দেশের গোষ্ঠী।
এই
৮টি দেশ ইসলামি দেশ অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান।
৮টি
দেশ হল মিসর,
ইরান,
নাইজেরিয়া,
ইন্দোনেশিয়া,
মালয়েশিয়া,
বাংলাদেশ,
তুরস্ক ও পাকিস্তান।
অভিন্ন
ধর্মে বিশ্বাসী ৮টি দেশের সম্পর্ক রক্ষার বিশেষ সংযোগস্থল।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ডি-৮ এর অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তি থাকার পাশাপাশি
অনেক আন্তর্জাতিক সমস্যায় মতৈক্যে পৌঁছা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন,
যদিও বর্তমানে অনেক মানুষ ডি-৮ সম্পর্কে জানেন না,
তবুও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এর অবস্থান উপেক্ষানীয় নয়।
প্রথমত,
এ
৮টি দেশের মোট লোকসংখ্যা ৯০ কোটিরও বেশি।
তা
বিশ্বের মোট লোকসংখ্যার ১৫ শতাংশ।
এর
মধ্যে ইন্দোনেশিয়া,
পাকিস্তান,
বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া এ দেশগুলোর প্রতিটির লোক সংখ্যা ১৫
কোটির
কাছাকাছি।
ডি-৮ এর বিরাট বাজারের সুপ্তশক্তি ও উন্নয়নের অবকাশ রয়েছে।
মালয়েশিয়া বর্তমানে নতুন তেল উৎপাদনকারী দেশ।
তেল
সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এ সংস্থার অবস্থানকে খাটো করে দেখা যায় না।
সদস্য দেশগুলো তাদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করে কার্যকরভাবে অবিচল নীতি ও
ব্যবস্থা অনুসরণ করে,
তাহলে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল।