সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী জোট ডাক দিয়েছিল লন্ডনের আলতাব আলী
পার্কে এক সমাবেশের।
জাতীয়তাবাদের স্পষ্ট গর্জন শুনেছে ব্রিটেনের বাঙালিরা।
জাতীয়তাবাদীরা জমায়েত হয়েছিলেন গত ১৪ জুন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই।
অমানবিক কর্মকান্ডে ছেয়ে গেছে সারা বাংলাদেশ।
কিছু পত্রিকার পাতায় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এরকম খবর ছাপা হয়েছে।
বিরোধীদলের তাদের নিজস্ব ইস্যু নিয়ে মাঠে নামার অধিকার আছে।
খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির লন্ডন শাখা তাদের সে
বারতা পৌঁছাতে কোনোই বাঁধা থাকার কথা নয়।
কিন্তু সে বার্তা শুনবে কারা?
বাংলাদেশের অভিবাসী মানুষ নাকি শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ।
সমাবেশ হবে।
বর্তমান সরকারের
‘অগণতান্ত্রিক
আর অমানবিক’
কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ওই দেশের বাঙালিদের জাগিয়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য
হবে এটাই তো স্বাভাবিক।
প্রয়োজনে হাজার মানুষের সমাবেশের কথাগুলো যাবে বাংলাদেশের হাইকমিশনে।
স্মারকলিপি যাবে হাইকমিশনারের কাছেই।
কিন্তু এক অদ্ভুত সংস্কৃতি ওখানে কাজ করে।
‘জাতীয়তাবাদীদের
সমাবেশ শেষ হয়েছে ডাউনিং স্ট্রিটে।
কার বিরুদ্ধে ওই সমাবেশ?
ব্রিটেনের সরকারের বিরুদ্ধে?
এ প্রশ্ন আসতেই পারে।
তা না হলে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাবে কেন এ স্মারকলিপি।
একটি দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিচার
কি করবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের প্রশাসন?
কি অদ্ভুত আমাদের রাজনীতির যুক্তি! দেশ আছে,
রাজপথ আছে,
আন্দোলনের পথ আছে।
দলীয় সমর্থকদের চাঙ্গা করার আছে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু।
কিন্তু কেন ডাউনিং স্ট্রিট যাওয়া?
সরকারের অমানবিক আচরণের দোহাই তুলে নিজের দলের সমর্থকদের চাঙ্গা না করে
ভিন্ন রাষ্ট্রকে অবহিত করার কী মানে থাকতে পারে?
ডাউনিং স্ট্রিট কিংবা ব্রিটেনের প্রশাসন কি জানে না কিভাবে চল্ছে
বাংলাদেশ।
তাহলে কি বর্তমান সরকারের অনুযোগ কিংবা অভিযোগ এবং অন্য অর্থে ডাউনিং
স্ট্রিটের কর্তাব্যক্তিদের কাছে বিচারের অনুরোধ।
এসব করার মধ্য দিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব কোনই হেরফের
হবে না এটা প্রবাসী বাঙালিদের জানা।
কিন্তু মাঝখান দিয়ে যে কাজটি করতে পারলো তারা,
তাহলো ডাউনিং স্ট্রিট কিংবা ব্রিটেনের বাংলাদেশের প্রভু হয়ে থাকার বা
ওই দলটা বিদেশীদের সেবা দাসত্বের মানসিকতায় আবারো শান দেয়া হলো।
খুব স্বাভাবিকভাবেই এর মধ্য দিয়েই উঠে আসে আমাদের দেশীয় রাজনীতির
চরিত্র দেউলিয়াত্ব।
একটু ভিন্নভাবে বলা যায় কী নির্লজ্জ আর অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে
ব্যবহার করে রাজনীতিকরা করে নিতে চায় ক্ষমতার পালাবদল।
ফুটে ওঠে দলগুলোর রাজনীতিবিদদের পরাধীন মানসিকতা,
যা দিয়ে তারা আমাদের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব বিদেশীদের লিজ দিয়ে
ক্ষমতার স্বাদ নিতে চায়! এই দেউলিয়াত্বের কারণেই বাঙালিদের হজম করতে
হয়েছে ওয়ান ইলেভেন।
সহ্য করতে হয়েছে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর
রাষ্ট্রদূতদের হম্বিতম্বি।