শিলংয়ে রবির স্মৃতি রইলো না

 

মাসুম

 

সমগ্র বিশ্বে যখন রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, তখনই তাঁর প্রিয় ভারতের শিলংয়ের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হল এই বাড়িতে বসেই বেশ কয়েকটি সমাদৃত লেখা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ সেসবের তোয়াক্কা না করেই সিধলি হাউসের বর্তমান মালিক বাড়িটিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন ১৯২৭ সালে যখন শেষবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ শিলংয়ে আসেন, তখনও তিনি এখানেই উঠেছিলেন সেসব এখন ইতিহাস

গত কয়েকদিন ধরেই বাড়িটি ভেঙে ফেলার কাজ চালিয়েছেন বর্তমান মালিক ফিলিপ পালা সম্পর্কে আবার তিনি জলসম্পদ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভিনসেণ্ট পালার আত্মীয়

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তিন বার শিলং গিয়েছিলেন শেষবার গিয়েছিলেন ১৯২৭ সালের মে-জুন মাসে তাঁর সমাদৃত উপন্যাস যোগাযোগ এখানে বসেই লেখাসুসময় দেবদারুর মতো কয়েকটি কবিতারও সাক্ষী ছিল এই বাড়িটি

বাড়িটির একসময়ের মালিক ছিলেন লুই যোসেফ ডালিনগ্রাদ নামে এক ইতালীয় ব্যক্তি তাঁরই অতিথি হয়ে বাড়িটিতে ছিলেন কবি পরবর্তীকালে অসমের গোয়ালপাড়া জেলার সিধলির রাজ পরিবার বাড়িটি কেনে সিধলির রানী, রাজা অজিত নারায়ণের স্ত্রী মঞ্জুলা দেবী এই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন পরে এখানেই তিনি নিজের ছেলের স্মৃতিতে জয়ন্ত অ্যাকাডেমি অব ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিকাল মিউজিক, ডান অ্যান্ড আর্ট গড়ে তোলেন ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে আসেন মঞ্জুলা দেবী পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই তিনি বাড়িটি কিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এর পরে বারকয়েক বাড়িটি হাতবদল হয়েছে গত কয়েকদিনে পুরানো কাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে

বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য ভারতের সাংবাদিকরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, ওখানে এমন কোনও ঐতিহাসিক বাড়ি আদৌ আছে বলে তাঁর জানা নেই! তিনি বলেন, সাধারণত বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু এই বাড়িটির ব্যাপারে তেমন কিছু করা হয়নি তবে সাংমা আশ্বাস দেন যে বাড়িটিকে চিহ্নিত করার ব্যাপারে আগের কোনও সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছিল কিনা তা তিনি জানার চেষ্টা করবেন

পাশাপাশি, সাংমা একথাও জানান যে সাধারণত কোনও বাড়ি ভেঙে ফেলার আগে সেই বাড়িটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নগর বিষয়ক দপ্তরে জানাতে হয় এই বাড়িটির ব্যাপারে নিয়ম মেনে তেমনটা করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে