|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
||||
|
|
|||||||||||||||||||
|
|
জাতিসংঘের নয়া উদ্যোগ
সংলাপ ॥
মহিলাদের সমানাধিকার নিয়ে ১৯৯৫ সালের বেজিঙ ঘোষণাপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সেখানে ওই বছরের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেমন বিশ্বে মহিলাদের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেভাবে করণীয় কাজের একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছিল। বিশ্বে মহিলাদের মধ্যে আশা জেগেছিলো যে, নারী-পুরুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফারাক কিছুটা হলেও ঘুচবে। বেজিঙে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে যে দলিল তৈরি হয়েছিল তা কতটা কার্যকর হয়েছে সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করে দেখার জন্য এ বছরের গোড়ার দিকে মহিলাদের অবস্থা সম্পর্কিত জাতিসঙ্ঘে বৈঠক বসেছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে বেজিঙ ঘোষণাপত্রের রূপায়ন অসম পর্যায়ে রয়ে গেছে, অনেক ভুলভ্রান্তিও ঘটেছে। ঘোষণা ও বাস্তবের মধ্যে অনেক ফারাক রয়ে গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ ও অধিকার, বেতন ও মজুরির ক্ষেত্রে সমতা, নারীর উপর অত্যাচার, শোষণের অবসান ইত্যাদি নিয়ে লম্বা-চওড়া কথা কম বলা হয়নি। কিন্তু বাস্তবে তার রূপায়ন কতটা এ ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে মহিলারা পুরুষের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম আয় করেন। বিশ্বে মহিলা ও বালিকাদের মধ্যে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ হিংসাত্মক আচরণের শিকার হন। রাজনৈতিক দলগুলিতে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যা বেশি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিকুলতার মুখে পড়তে হচ্ছে মহিলাদের। একবিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় শতকেও ‘পরিবারের মর্যাদা রক্ষার’ নামে বাংলাদেশে অনেক কন্যাকে হত্যা করা হচ্ছে। কন্যাভ্রুণ হত্যা এখনও বন্ধ হয়নি। পরিবারের মধ্যেও মহিলারা নিগৃহীত হচ্ছেন। মহিলাদের খাটো করে দেখার অভ্যাস দূর করার জন্য মহিলাদেরও পাশাপাশি সজাগ হওয়া উচিত। কারণ ছোটবেলা থেকে তাদের মনে এমন বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করা হয় যাতে মহিলারা তাদের প্রতি বৈষম্যগুলি সহজে টের পান না। তারা অনেক সময় এই বৈষম্যগুলিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন, মেনে নেন। নয়া উদারনীতির যুগেও ভোগবাদী ব্যবস্থায় নারীকে আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় পণ্য করে তোলার অপপ্রয়াস চলছে। এসবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে না তুললে মহিলাদের ন্যায্য ইস্যুগুলি নিয়ে সংবেদনশীলতা তৈরি হবে না। পাশাপাশি মহিলাদের ইস্যুগুলি নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদেরও উৎসাহিত করতে হবে। তাই গোটা বিশ্বে এখন মহিলাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, জাতিসংঘ বোধ হয় আর তাদের ব্যাপারে চিন্তিত নয়। যেমন জাতিসংঘের সহস্রাব্দ ঘোষণায় নারী ও শিশুদের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছিল আমরা তার কতটা রূপায়ন করতে পেরেছি? এরই মধ্যে ভালো খবর হলো কিছুদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক সর্বসম্মত প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ইউনাইটেড নেশন্স উইমেন’। এই নবগঠিত সংস্থার আওতায় থাকবে জাতিসংঘের মহিলা বিষয়ক চারটি সংস্থা। এর ফলে সমন্বয় ও কর্মতৎপরতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
মনিপুর স্কুল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার জরুরি
ডাঃ মোস্তফা আবদুর রহিম ॥
প্রায় সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লাখ লোক অধ্যুষিত ঢাকা শহরের একপ্রান্তে মিরপুর অঞ্চল। মনিপুর স্কুল মিরপুর অঞ্চলের তথা ঢাকা শহরের একটি নামকরা স্কুল। এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষয়িত্রী রয়েছে, রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ছাত্র ছাত্রী সম্বলিত শাখাসহ মূল স্কুল। বিভিন্ন ব্যাচে ছুটির সময় সাদা ড্রেস পড়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর নির্গমন মনে হয় স্বচ্ছ জলে হংসযূথ চলছে জোটবদ্ধভাবে। স্কুল পরিবেশ থেকে রাস্তায় নামলেই গোলবাধে। ভাঙা চোরা সংকীর্ণ রাস্তা, বৃষ্টি হলে জমাটবাধা ময়লা পানিতে একাকার হয়ে যায় নির্গমনের প্রতিটি রাস্তা। রিক্সাওয়ালারা দ্বিগুন ভাড়া হাঁকে, শিশুরা পানি মাড়িয়ে এসে বিভিন্ন ধরণের সংক্রামক রোগে ভোগে, নিরবিচ্ছিন্ন লেখাপড়ার পরিবেশে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায়। মনিপুর মূল স্কুল থেকে ১০ নম্বর বা ২ নম্বর মেইন রোড পর্যন্ত আসা একধরণের যুদ্ধ আর বিরক্তির ধকল সইতে হয় অভিভাবকদের প্রতিদিন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাগুলি সরেজমিনে দেখে তড়িৎ সংস্কার করলে ছাত্রছাত্রীদের অসহনীয় কষ্ট লাঘব হবে। ব্যাপারটা জনগুরুত্বপূর্ণ ও অতীব জরুরি।
জামাত জঙ্গী দল জঙ্গী উৎখাতে পাকিস্তান!
সংলাপ ॥
লাহোরে সাম্প্রতিক ভয়াবহ জঙ্গী হামলার পর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে জামাতসহ জঙ্গী গোষ্ঠীর একটি তালিকা তৈরি করে তাদের দেশের মাটি থেকে নির্মূল করা দরকার বলে স্বীকার করল পাকিস্তান। ১৭টি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের একটি তালিকা বানিয়েছে ইসলামাবাদ। লাহোরের বিস্ফোরণে ৪৫ জনের মৃত্যুর তিনদিন বাদে তৈরি হওয়া ওই তালিকায় ২৬/১১’র মুম্বই জঙ্গি হামলার চক্রী হাফিজ মহম্মদ সঈদের নেতৃত্বাধীন জামাত (আগের লস্কর-ই-তোইবা) আছে। পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জামাতসহ সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই এবার জোরদার অভিযান শুরু হবে। এ ব্যাপারে তারা একটি টাস্ক ফোর্স গড়েছে বলেও খবর। এ ব্যাপারে পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী সানাউল্লাহ খান একটি ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলকেও বলেন, আমরা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানের প্ল্যান করছি। সঈদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তিনি পাকিস্তান ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না বলে নির্দেশ জারি হয়েছে। রীতিমতো উপমহাদেশের সব রাষ্ট্রের খুশি হওয়ার মতো খবরই এটা। ভারত তথ্যপ্রমাণ দেয়া সত্ত্বেও সঈদের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার কথা এতদিন মানতেই চায়নি পাকিস্তান। বরং তাকে আড়াল করারই চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়ে সঈদ ও জামাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে সরব হন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম। কিন্তু পাকিস্তান নাম বদলে জঙ্গী তৎপরতা চালিয়ে সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করতে কোনও নতুন নির্দেশ জারি করা হয়নি বা সঈদের বিদেশযাত্রার উপরও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। একমাত্র উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার। সম্প্রতি আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ ও লাহোরের দাতা দরবার নাশকতার পর রীতিমতো চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। বিরোধী নেতা নওয়াজ শরিফও পারস্পারিক দোষারোপ বন্ধ করে জঙ্গি দমনে একযোগে অভিযানের কথা বলেন। তার দলের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব সরকার এদিন জানায়, ১৭টি নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে টাস্ক ফোর্স। ওই সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তোইবা, জয়েশ-ই-মহম্মদ, জামাত, সিপাহ সাহাবা পাকিস্তান, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি ইত্যাদি। প্রতিটি টাস্ক ফোর্সে সিআইডি, স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ও সন্ত্রাসদমন স্কোয়াডের সদস্যরা থাকবেন। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, পাকিস্তানে সক্রিয় সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান। পাকিস্তানের নাম ওই তালিকায় নেই!
মানবতার সামনে মার্কিন স্পেসফাইটার
সংলাপ ॥
এক্স-৩৭বি-র সফল পরীক্ষা এক্স-৩৭বি-ই পৃথিবীর প্রথম স্পেস ফাইটার যা সফলভাবে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আমেরিকা ধীরে ধীরে তৈরি করছিল এই ফাইটার। অ্যাটলাস ৫ রকেটে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। শত্রু রাষ্ট্রের উপগ্রহ এবং বোমারু বিমানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবার ক্ষমতা আছে এই স্পেস ফাইটারের। অভিযান সেরে নিজে নিজেই ভূখন্ডে ফিরে আসতে পারে। কোনও মহাকাশচারীর পক্ষে উপযুক্ত নয় এক্স-৩৭বি। আকাশে এবং মহাশূন্যে নানাধরনের অভিযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালাতে পারে এক্স-৩৭বি। এই স্পেস ফাইটার দিয়ে কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অভিযান চালানো হয়েছে সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে মার্কিন বায়ুসেনা। এক্স-৩৭বি-র উৎক্ষেপণের পর বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে এটি প্রবেশ করেছে। কিন্তু কতদিন বা কত সময়ের জন্য প্রবেশ করেছে তা জানা যায়নি। মহাশূন্য থেকে ফিরে পৃথিবীতে আসার জন্য অটো পাইলট মোডের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই আসবে এই স্পেস ফাইটার। নামার কথা ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেসে কিংবা কাছাকাছি এডওয়ার্ডস এয়ারফোর্স বেসে। আকারে ছোট হলেও আদতে এই স্পেস ফাইটার উচ্চপর্যায়ের মার্কিন সামরিক গোপন হাতিয়ার। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে বারবার বলা হয়েছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যই এই স্পেস ফাইটার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু একবার আসল সত্য বেরিয়ে পড়লে তা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া হতেই পারে। কিছু সামরিক বিশেষজ্ঞ একে বলছেন, ‘প্রথম প্রোটোটাইপ স্পেস ফাইটার’। বস্তুত, এই প্রকল্পের সামরিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট। মহাশূন্যে সাময়িকীকরণ এর সম্ভাবনা এবং ফলে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অন্যান্য উপগ্রহের কাজে বাধাও দিতে পারে এক্স-৩৭বি। অন্যান্য উপগ্রহের কাজ বন্ধ করতে এর রোবোটিক আর্ম আছে। ছড়িয়ে দিতে পারে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। একটি উপগ্রহের স্বাভাবিক কাজকে নষ্ট করে দিতে পারে। নানাধরনের সরঞ্জাম এবং অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এই স্পেস ফাইটার। দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে অনায়াসে। বহির্বিশ্বে এক্স-৩৭বি নিয়ে খুব বেশি তথ্য জানা নেই। জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে নাসা এবং বোয়িং এক কম দামী মহাকাশযান তৈরি করেছিল যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্পেস ফাইটার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আর্থিক কারণে ২০০৪ সালে এই মহাকাশযানটি আর ব্যবহার করা হয়নি। ক্রমশ মার্কিন বায়ুসেনা এটির দখল নেয় এবং এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গোপনে সামরিক প্রকল্পে বদলে ফেলে। এক্স-৩৭বি-তে রকেট চালিত মহাকাশযান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পরই স্পেস প্লেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে। কিন্তু গতিই এর গোপনীয়তা। শব্দের গতির ২৫ গুণ দ্রুতগতিতে এই স্পেসফাইটার ছুটতে পারে। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের থেকে বেশি গতিতে মুক্ত বেগে ভর করে পৃথিবীর বর্হিমণ্ডলে এবং কক্ষপথে পাড়ি দেয় এই মহাকাশযান। এতে রয়েছে সোনার প্যালেস। প্রায় ২৭০ দিন পর্যন্ত মহাশূন্যে অভিযান চালাতে সক্ষম এই মহাকাশযান। সামরিক দিক থেকে স্পেস ফাইটারের কতগুলি বিচার্য বিষয় থাকে। এক, মহাশূন্যে থেকে যুদ্ধ চালানো। দুই, শত্রুর উপগ্রহ এবং মিসাইলের মোকাবিলা করা। বলাই বাহুল্য, এই মহাকাশযানের অত্যন্ত দ্রুতগতি অন্যান্য মাহাকাশযানের থেকে এগিয়ে রয়েছে এক্স-৩৭বি-কে। মহাশূন্যে স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযান এক্স-৩৭বি-র প্রথম সাফল্যের খবর মিলেছে গোটা পৃথিবীর বিমান পরিষেবা, সামরিক ক্ষেত্র এমনকি মিডিয়া থেকেও। অনেক বছর ধরেই আমেরিকা এমন মহাকাশযান তৈরি করতে চাইছিল যা মহাশূন্য এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বারংবার আসা যাওয়া করতে পারে। এক্স-৩৭বি স্পেস ক্রাফট-এর সঙ্গে স্পেস শাট্ল এর ফারাক রয়েছে। প্রথমত ফারাক পরিবহন ক্ষমতা নিয়ে, যেখানে স্পেস শাট্ল প্রায় ৪০ টন ওজনের পণ্য পরিবহণ করতে পারে সেখানে স্পেস প্লেনের বহন ক্ষমতা মাত্র ৫ টন। এক্স-৩৭বি-এর বৈশিষ্ট্য হলো এখানে মহাকাশচারীরা থাকেন না। থাকেন না কোনও চালক। কাজেই, মহাশূন্যে মানুষের উপযোগী পরিবেশ তৈরির দরকার পড়ছে না। কেবিন বন্ধ করারও প্রয়োজন হচ্ছে না। এরো এবং স্পেস এর মধ্যে এক্স-৩৭বি শাট্ল করতে পারে। কম উচ্চতায় পৃথিবীর চারপাশে চক্কর কাটতে পারে, ৩০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর কক্ষপথে পরিক্রমণ করতে পারে। মহাকাশ যুদ্ধে এক্স-৩৭বি আদতে এক নতুন মঞ্চ। কিছু গণমাধ্যম একে ‘ফাইটার স্পেস ক্রাফট’ বলছে। কারণ এই মহাকাশযানে অস্ত্রও বহন করতে পারে। নাগরিক ও সামরিক দু’ক্ষেত্রেই এই মহাকাশযানকে ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অন্য উপগ্রহ ধ্বংস করতে বা অন্য উপগ্রহকে নিজের কবজায় আনতে কিংবা ভূপৃষ্ঠ লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়ার মতো কাজ করতে মহাকাশযানে তড়িৎ চুম্বকীয় অস্ত্র ব্যবহার করতে দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনাও রয়েছে। সাধারণভাবে বলা যেতে পারে, এই মঞ্চ থেকে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কোনও ক্ষেত্রেই একে লক্ষ্য বা নিশানা করা যাবে না। মহাশূন্যে আসা-যাওয়া করতে পারে এমন কোনও স্পেস প্লেনকে নিশানা করার কার্যত কোনও পথই নেই। মহাশূন্যে বাধা খুবই কম থাকায় পৃথিবীতে আঘাত হানা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। মহাশূন্যে কর্তৃত্ব মহাশূন্যে আবিষ্কার ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া ইতিবাচক প্রশ্ন উঠেছে, রাশিয়া চীন এবং পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি আমেরিকার বোঝা উচিত এবং সেই মতো ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মহাকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, অনেক আঞ্চলিক যুদ্ধ। শত্রু রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং নাগরিকদের ধ্বংস করতেই মহাশূন্যের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলি সবই বাস্তব। পৃথিবীর কিছু গণমাধ্যম বলেই ফেলেছে, ‘মহাশূন্যের প্রযুক্তির ব্যবহারের একমাত্র রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’ এপ্রিলের গোড়ায় ওয়াশিংটন ডিসি তে পরমাণু মুক্ত পৃথিবীর ধারণা প্রচার করেছিলেন ওবামা। যদিও ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মহাশূন্যে আমেরিকার পাড়ি দেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন মুলুকের বাসিন্দারা। মানবতার সামনে প্রধান পরমাণু অস্ত্র। আমেরিকার লক্ষ্য, অর্থ ও প্রযুক্তির সাহায্যে এমন এক সামরিক মহাশূন্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে অন্য কোনও দেশ প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে না পারে। মার্কিন মহাশূন্যে ব্যবস্থা রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক ব্যবস্থাকে দূর্বল করবে। রাশিয়ার বায়ুসেনার এক প্রাক্তন কমান্ডার প্রকাশ্যে তার উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়াও আর একটি ইরাক হবে। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় মহাশূন্যে নতুন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রাশিয়ার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তামাম দুনিয়ার কাছে এক আপৎকালীন পরিবেশ নিয়ে আসছে আমেরিকা। মানবিকতার সামনে এক নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে এক্স-৩৭বি।
ভারতে মাওবাদীরা মুসলমান নিধনে
নাবিল ॥
ওপার বাংলার জঙ্গলমহল থেকে এবার মাওবাদীরা মুর্শিদাবাদে। গত মঙ্গলবার দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নওদার দুধসর গ্রামে মাওবাদীরা নৃশংসভাবে খুন করেছে ২ জনকে। মৃতদের নাম মোহর আলী (৫০), সাইদুল শেখ (৪৫)। সাইদুল সি পি এমের সমর্থক। মোহর আর এস পি-র সমর্থক। এ ছাড়াও এদিন সকালে মুর্শিদাবাদের ডাকবাংলো মোড়ে বাস থেকে নামিয়ে হাসেম শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার বাড়ি বর্ধমানের কেতুগ্রামে। পুলিসের চর সন্দেহে মোহর ও সাইদুলকে খুন করা হয়েছে বলে মাওবাদীরা মৃতদেহের পাশে পোস্টার ফেলে রাখে। পুলিস সুপার ভারতলাল মিনা বলেন, সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে ওদের খুন করে মাওবাদীরা পিছমোড়া করে বেঁধে, প্রথমে গুলি, পরে গলার নালি কেটে দেয়া হয়। তারা সুস্থ জীবন পথে বসবাস করছিলেন। মাঠে ফসল দেখার কাজ করতেন। বলা হয় ‘আগলদারি’। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ ফসল দেখার কাজ করতে বের হন দুজনে। সাড়ে ১০টার সময় পটকা ফাটার মতো শব্দ শুনতে পান পাটখেতের কাজ করা চাষীরা। ১১ টা নাগাদ পাটখেতের মাঝে পড়ে থাকতে দেখা যায় সাইদুল মোহরের মৃতদেহ। জানা গেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর যখন পাটখেতে যাচ্ছিলেন সাইদুল-মোহররা, তখনই মাওবাদীরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় আমতলা-বেলডাঙা রাজ্য সড়ক থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে দুধসর ও সর্বাঙ্গপুর গ্রামের মাঝে। ঘন পাটখেতের মধ্যে বিচার করে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সিপিএম জেলা সম্পাদক নৃপেন চৌধুরির অভিযোগ, আতঙ্ক ছড়াতে এই খুন। মৃত সাইদুর আমাদের সমর্থক। নওদার আর এস পি নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক জয়ন্ত বিশ্বাসও বলেন, এভাবে খুন নওদায় কোনও দিন হয়নি। মৃত মোহরের রয়েছে স্ত্রী ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। সাইদুলের স্ত্রী হাসিনা বিবির অভিযোগ, আমার স্বামী তো কোনও অন্যায় করেননি। তবু কেন খুন করল ওরা। গত মঙ্গলবার সকালে দিনের আলোয় বেসরকারি বাস থেকে নামিয়ে দুষ্কৃতীকারীরা আরও একজন মুসলমানকে গলা কেটে খুন করেছে হাসেম শেখ নামের ব্যক্তিকে। হাসেমের বাড়ি বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার মৌগ্রামে। আর খুনের ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সালার থানার ডাকবাংলো মোড়ে। মৌগ্রামেরই নাদন মোল্লা দলবল নিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ। হাসেম এদিন বাসে কান্দি আদালতে যাচ্ছিলেন সাক্ষী দিতে। নাদনের দল হাসেমকে বাস থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে সবার সামনে রাস্তায় ফেলে গলার নালি কেটে দেয়। হাসেমের সঙ্গে ছিল তার ছেলে।
এক গুলিতে রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষ
সংলাপ ॥
ফেরার আততায়ীর লাগাতার খোঁজ এবং তাকে কেন্দ্র করে রুদ্ধশ্বাস নাটকের যবনিকা পড়ল একেবারে সাদামাটাভাবে। ব্রিটিশ পুলিশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই অভিযানে খরচও মাত্র একটি গুলি। গত এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ দাগি রাউল মোয়াটকে খুঁজছিল। রাউল জেল থেকে বেরিয়েই খুন করে তার এক সময়ের প্রেমিকার নতুন প্রেমিককে। আহত করে সেই প্রেমিকা এবং এক পুলিশকে। তারপর থেকে ‘চেজ’ করতে থাকে পুলিশ। তাড়া করতে করতে শেষ অবধি উত্তর পূর্ব ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেলের কাছে রথবেরি গ্রামে এই ‘চেজ সিন’ ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছায়। সেখানেই জাল গুটিয়ে আনে পুলিশ। সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ রথবেরির উপকণ্ঠে নদীর তীরে রাউলের খোঁজ মেলে। নর্থামব্রিয়া পুলিশের চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মার্ক ডেনেট জানিয়েছে, পুলিশ দেখে, নদীর তীরে ছবির সঙ্গে মিল আছে এমন একজন দাঁড়িয়ে আছে। আততায়ী সেই সময় সশস্ত্র ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। লোক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বেরুতে বারণ করে দেয়া হয়। শুরু হয় দর কষাকষি। কিন্তু বেশ কয়েক ঘন্টা কথাবার্তা চালিয়েও রাউলকে তারা পথে আনতে পারেননি। মার্ক আরও জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত রাউলকে গুলি করা হয়। তার শরীরে গুলি লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। কোনও পুলিশ আহত হয়নি।
চীন-পাকি সন্ত্রাস দমন মহড়া
ইশা ॥
‘মৈত্রী-২০১০’ শীর্ষক চীন ও পাকিস্তানের তৃতীয় সন্ত্রাসদমন মহড়া গত ৯ জুলাই পশ্চিম চীনের নিন সিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ছিনথোংসিয়া অঞ্চলে শেষ হয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের দুটি বিশেষ সেনাদল এ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। ৯ জুলাই সকালে যৌথ সন্ত্রাসদমন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। চীন ও পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় যৌথ সন্ত্রাসদমন মহড়া চালিয়েছে এবং সাফল্য অর্জন করেছে। এ যৌথ মহড়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল মিলিতভাবে চীন ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের সন্ত্রাসী নিশ্চিহ্ন ও সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং জিম্মি উদ্ধার। এবারের সামরিক মহড়ার স্থল সন্ত্রাসদমন বাহিনীর পরিচালনায় একটি জঙ্গী বিমান ও একটি হেলিকপ্টার সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গুলি করে। চীনের পরিদর্শন দলের নেতা, চীনের গণ মুক্তি ফৌজের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ মা সিয়াও থিয়েন মহড়া পরিদর্শন করে সিআরআই সাংবাদিককে বলেছেন, মহড়ার দু’দেশের অফিসার ও সৈনিকরা মিলিতভাবে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো, সন্ত্রাসীদের ওপর আঘাত হানা, জিম্মিদের উদ্ধার ও পলায়নপর সন্ত্রাসীদের পিছু ধাওয়াসহ ছয়টি ক্ষেত্রের ট্রেনিং সম্পন্ন করেছে। চীন ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া দু’দেশের সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ও বিনিময় বৃদ্ধি, দু’দেশের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মিলিতভাবে হুমকি মোকাবিলার পদ্ধতি অন্বেষণের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। মা সিয়াও থিয়েন বলেন, এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী শক্তির হুমকি এখনও দূর করা যায়নি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো ও সন্ত্রাসদমনের সামর্র্থ্য বৃদ্ধি চীন ও পাকিস্তানের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। পাকিস্তানের সামরিক মহড়া পরিচালনা গ্রুপের প্রধান খিজার বলেন, দু’দেশের যৌথ সামরিক মহড়ায় শুধু দু’দেশের সন্ত্রাসদমনের দৃঢ়সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে তাই নয়, এতে আমাদের দু’দেশের একটি অভিন্ন লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ লক্ষ্য হল কোনো সন্ত্রাসীকে টিকে থাকার সুযোগ না দেয়া এবং সীমান্ত অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করা। চীন ও পাকিস্তান এ সন্ত্রাসীদমন মহড়ায় অভিজ্ঞ অফিসার ও সৈন্য পাঠিয়েছে। চীনের সৈনিক ছেন মিং বলেন, আমার মতে সামরিক মহড়ায় পাকিস্তানের বাহিনীর সন্ত্রাসদমনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। তাদের ট্রেনিং অনেকটা বাস্তব যুদ্ধের মত, এটা আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। যেমন পাকিস্তানের সামরিক মহড়ার একটি ট্রেনিং আইটেম হল একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে রক্ষা করা। এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য দলের প্রত্যেকের কর্তব্য সুষ্পষ্ট, তাদের পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় ভাল এবং তাদের আকস্মিক অবস্থা মোকাবিলার সামর্থ্য বেশি। পাকিস্তানের পরিদর্শন নেতা ওয়াহিদ আরশাদ চৌধুরি বলেন, যৌথ মহড়া সফল হয়েছে, এতে দু’দেশের সন্ত্রাসদমন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দৃঢ়সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবারের মহড়া চীন ও পাকিস্তানের সামরিক মহড়ার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করেছে। জানা গেছে, ২০০২ সাল থেকে চীন ইতোমধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ এবং পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে সন্ত্রাসদমন বিষয়ে ট্রেনিং ও মহড়া চালাচ্ছে।
লন্ডনে রক্ষণশীলতার কবলে বাঙালি শিল্পী
সংলাপ ॥
বাঙালি সমাজের রক্ষণশীলতা ও কঠোর অনুশাসনের খবর আবার নতুন করে জানল বিশ্ববাসী। বিশ্ববিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’-এর সঙ্গে সহপাঠী ‘পদ্মা পাতিল’ চরিত্রে অভিনয় করে সুনাম কুড়ানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফসান আজাদ (২২) হত্যা চেষ্টার খবর গত কয়েক দিন ধরে ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিক এবং লন্ডনে বসবাস করছেন। কেউ কেউ আবার সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা ‘অনার কিলিং’ এর আশঙ্কাও করছেন। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা আফসান আজাদের দূরের কেই নন, বাবা ও ভাই। ডেইলি মেইল, ম্যানচেস্টার ইভিনিং নিউজ, সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি পত্রিকায় খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। আফসান আজাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্লগাররাও। তারা ব্রিটিশ পুলিশের তথ্যকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা পরিবারগুলোতে বছরে ১০ থেকে ১৫টি অনার কিলিং হয়ে থাকে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, আফসান আজাদের সঙ্গে একটি ছেলের সম্পর্ক থেকেই ওই পরিবারে সমস্যার শুরু। আফসানের বাবা আবদুল আজাদ (৫৪) ও ভাই (২৮) কোনোভাবেই ওই সম্পর্ক মানতে পারছিলেন না। অনেক দিন ধরেই চলছিল অশান্তি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে আফসান পুলিশের কাছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও মারধরের অভিযোগ আনেন। আর এ অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেলেও এ মাসেই আবার তাদের আদালতে হাজির হতে হবে। এদিকে আফসান আজাদ লন্ডনেই তার এক বন্ধুর বাড়িতে থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আরো বলা হচ্ছে, লন্ডনে পাড়ি জমানো দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোতে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে আফসানের জন্ম হলেও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাঙালি সমাজের রক্ষণশীল অনুশাসন মেনে চলতে জোর করছিলেন। অন্যদিকে আফসান চাইছিলেন সাধারণ ব্রিটিশ নারীর মতো স্বাধীন জীবনযাপন করতে। হ্যারি পটারে অভিনয় করতে আফসানকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তার বন্ধুরা। তিনি অডিশনে অংশ নিয়েছিলেন নিছক খেয়ালেরবশে। বলিউডের ছবির পোকা হলেও আফসান সুযোগ পেলে বাংলা ছবিতেও অভিনয় করতে চান। তবে পেশা হিসেবে অভিনয়ের চেয়ে সাংবাদিকতাই তার বেশি পছন্দের।
আফগানিস্তানে গণ-মানুষ মরছে!
বীমা ॥
আফগানিস্তানে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় আরো ছয় জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। দেশটিতে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর জোট ইসাফ কাবুলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে তিন জন এবং দক্ষিণাঞ্চলে তালেবানদের হামলায় দুই জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে অপর এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে অপর এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসাফ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনী তালেবানদের উপর হামলার নামে ৬ জন বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার করেছে। কাবুলের দক্ষিণে জানি খেল জেলায় গত বৃহস্পতিবার বিদেশী সেনাদের গুলিতে ওই ৬ বেসামরিক আফগান নিহত ও অপর বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে কাবুলে ন্যাটো বাহিনীর জোট ইসাফ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে। বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কারণে বিবৃতিতে ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে দুই জন জার্মান সেনা আহত হয়েছে। |
|
|||||||||||||||||
|
|
|
|
|||||||||||||||||
|
|
|||||||||||||||||||