মহিলাদের সমানাধিকার নিয়ে ১৯৯৫ সালের বেজিঙ ঘোষণাপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ
দলিল।
সেখানে ওই বছরের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেমন বিশ্বে মহিলাদের শোচনীয়
অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল,
সেভাবে করণীয় কাজের একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছিল।
বিশ্বে মহিলাদের মধ্যে আশা জেগেছিলো যে,
নারী-পুরুষের সামাজিক,
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফারাক কিছুটা হলেও ঘুচবে।
বেজিঙে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে যে দলিল তৈরি
হয়েছিল তা কতটা কার্যকর হয়েছে সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করে দেখার জন্য এ
বছরের গোড়ার দিকে মহিলাদের অবস্থা সম্পর্কিত জাতিসঙ্ঘে বৈঠক বসেছিল।
তাতে দেখা যাচ্ছে বেজিঙ ঘোষণাপত্রের রূপায়ন অসম পর্যায়ে রয়ে গেছে,
অনেক ভুলভ্রান্তিও ঘটেছে।
ঘোষণা ও বাস্তবের মধ্যে অনেক ফারাক রয়ে গেছে।
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য,
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ ও অধিকার,
বেতন ও মজুরির ক্ষেত্রে সমতা,
নারীর উপর অত্যাচার,
শোষণের অবসান ইত্যাদি নিয়ে লম্বা-চওড়া কথা কম বলা হয়নি।
কিন্তু বাস্তবে তার রূপায়ন কতটা এ ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘের একটি রিপোর্টে বলা
হয়েছে,
বিশ্বে মহিলারা পুরুষের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম আয় করেন।
বিশ্বে মহিলা ও বালিকাদের মধ্যে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ হিংসাত্মক আচরণের শিকার
হন।
রাজনৈতিক দলগুলিতে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যা বেশি।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিকুলতার মুখে পড়তে
হচ্ছে মহিলাদের।
একবিংশ শতাব্দীতে দ্বিতীয় শতকেও
‘পরিবারের
মর্যাদা রক্ষার’
নামে বাংলাদেশে অনেক কন্যাকে হত্যা করা হচ্ছে।
কন্যাভ্রুণ হত্যা এখনও বন্ধ হয়নি।
পরিবারের মধ্যেও মহিলারা নিগৃহীত হচ্ছেন।
মহিলাদের খাটো করে দেখার অভ্যাস দূর করার জন্য মহিলাদেরও পাশাপাশি সজাগ
হওয়া উচিত।
কারণ ছোটবেলা থেকে তাদের মনে এমন বদ্ধমূল ধারণা তৈরি করা হয় যাতে মহিলারা
তাদের প্রতি বৈষম্যগুলি সহজে টের পান না।
তারা অনেক সময় এই বৈষম্যগুলিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন,
মেনে নেন।
নয়া
উদারনীতির যুগেও ভোগবাদী ব্যবস্থায় নারীকে আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় পণ্য করে
তোলার অপপ্রয়াস চলছে।
এসবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে না তুললে মহিলাদের ন্যায্য ইস্যুগুলি
নিয়ে সংবেদনশীলতা তৈরি হবে না।
পাশাপাশি মহিলাদের ইস্যুগুলি নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদেরও উৎসাহিত করতে
হবে।
তাই
গোটা বিশ্বে এখন মহিলাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে যে,
জাতিসংঘ বোধ হয় আর তাদের ব্যাপারে চিন্তিত নয়।
যেমন জাতিসংঘের সহস্রাব্দ ঘোষণায় নারী ও শিশুদের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর
জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছিল আমরা তার কতটা রূপায়ন করতে পেরেছি?
এরই
মধ্যে ভালো খবর হলো কিছুদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক সর্বসম্মত
প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে
‘ইউনাইটেড
নেশন্স উইমেন’।
এই
নবগঠিত সংস্থার আওতায় থাকবে জাতিসংঘের মহিলা বিষয়ক চারটি সংস্থা।
এর
ফলে সমন্বয় ও কর্মতৎপরতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।