প্রধানমন্ত্রী,
লোকসভার
অধ্যক্ষকে পাশে বসিয়ে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন,
তার দলই তাকে
মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
৭১ সাল
থেকে বারবার তাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য তিনি দলের কাছে কৃতজ্ঞ।
২১
আগষ্ট দিল্লিতে তিনমূর্তি ভবনের নেহ মিউজিয়ামের সভাকক্ষে তার লেখা বই
'কিপিং
দ্য ফেথঃ মেমোয়ার্স অফ এ পার্লামেন্টারিয়ান'
প্রকাশ করেন
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোকসভার অধ্যক্ষ মীরা কুমার।
দর্শকাসনে ছিলেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী।
সোমনাথবাবুর লেখা বই নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠলেও তিনি কিন্তু আজ
তার বক্তব্যে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতাই জানিয়েছেন বারবার।
শুধু
উল্লেখ করেন,
এখন দল তাকে
অনুপযুক্ত মনে করেছেন।
জ্যোতি
বসুকে তার রাজনৈতিক গুরু বলে সম্বোধন করে তিনি বলেন,
১৯৭১ সালে তার
ও প্রমোদ দাশগুপ্তর কথাতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন।
সামনে
বসে থাকা সোনিয়া গান্ধীর দিকে তাকিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গে সোমনাথবাবু
বলেন তিনি ছিলেন ভাল অর্থে দুর্গা।
যখন
আমি সংসদে প্রথম এসেছিলাম তখন লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন।
তিনি
লোকসভায় সত্যিই ভালো অর্থে দুর্গা ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তার বক্তব্যে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংসদীয়
জীবনে তার দেশ ও জাতির প্রতি অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,
যুবক থাকার
সময় সোমনাথবাবুর বাবা এন সি চ্যাটার্জির কাছ থেকে গ্র্যাজুয়েশনের
সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম অমৃতসর কলেজ থেকে।
তার পর
থেকেই বন্ধুত্ব তৈরি হয় সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
আজ সেই
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বই প্রকাশের অনুষ্ঠান আজ আমার কাছে এক ঐতিহাসিক
মুহূর্ত।
লোকসভার অধ্যক্ষ মীরা কুমার বলেন,
ইতোমধ্যেই এই
বইটি কিনে লোকসভায় তার টেবিলে রেখে দিয়েছেন রেফারেন্স হিসেবে।
তিনি
বলেন,
যেভাবে
সোমনাথবাবু অধ্যক্ষ থাকাকালীন
'হাউস'
পরিচালনা
করেছেন,
তা সংসদীয়
ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
তার
পরে আমি সেই দায়িত্ব পাওয়ায় আমাকে সবসময় বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
যাতে
এই চেয়ারের সুনাম রাখতে পারি।
প্রাক্তন অধ্যক্ষ বলরাম জাখর,
করণ সিং,
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী গুরশরণ কাউর,
সোনিয়া
গান্ধীর মতো ভি ভি আই পি- দের সঙ্গে কলকাতা,
শান্তিনিকেতন
থেকে আসা বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে ঠাসা অডিটোরিয়াম সি পি এমের
কাউকে দেখা যায়নি।
ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চ্যাটার্জি ব্যতিক্রম।
তার
বক্তব্য,
ব্যক্তিগত
সম্পর্কের জেরেই এসেছি।
সোমনাথবাবু মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন,
শান্তিনিকেতনে
তার বাবা-মায়ের নামে গড়ে তোলা সমাজ কল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত ট্রাস্টের
জন্যই এই বই থেকে পাওয়া অর্থের সবটাই খরচ হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ক্রেতাদের অনুরোধে নিজেরই বইয়ের ওপর সইও করেন সোমনাথ।