ওপার বাংলার
জঙ্গলমহল থেকে এবার মাওবাদীরা মুর্শিদাবাদে।
গত
মঙ্গলবার দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নওদার দুধসর গ্রামে মাওবাদীরা নৃশংসভাবে খুন
করেছে ২ জনকে।
মৃতদের
নাম মোহর আলী (৫০),
সাইদুল শেখ
(৪৫)।
সাইদুল
সি পি এমের সমর্থক।
মোহর
আর এস পি-র সমর্থক।
এ
ছাড়াও এদিন সকালে মুর্শিদাবাদের ডাকবাংলো মোড়ে বাস থেকে নামিয়ে হাসেম শেখ
নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে খুন করে দুষ্কৃতীরা।
তার
বাড়ি বর্ধমানের কেতুগ্রামে।
পুলিসের চর সন্দেহে মোহর ও সাইদুলকে খুন করা হয়েছে বলে মাওবাদীরা মৃতদেহের
পাশে পোস্টার ফেলে রাখে।
পুলিস
সুপার ভারতলাল মিনা বলেন,
সকাল ১০টা
থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে ওদের খুন করে মাওবাদীরা পিছমোড়া করে বেঁধে,
প্রথমে গুলি,
পরে গলার নালি
কেটে দেয়া হয়।
তারা সুস্থ
জীবন পথে বসবাস করছিলেন।
মাঠে
ফসল দেখার কাজ করতেন।
বলা হয়
‘আগলদারি’।
গত
মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ ফসল দেখার কাজ করতে বের হন দুজনে।
সাড়ে
১০টার সময় পটকা ফাটার মতো শব্দ শুনতে পান পাটখেতের কাজ করা চাষীরা।
১১ টা
নাগাদ পাটখেতের মাঝে পড়ে থাকতে দেখা যায় সাইদুল মোহরের মৃতদেহ।
জানা
গেছে,
বাড়ি থেকে বের
হওয়ার পর যখন পাটখেতে যাচ্ছিলেন সাইদুল-মোহররা,
তখনই
মাওবাদীরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় আমতলা-বেলডাঙা রাজ্য সড়ক থেকে ৩
কিলোমিটার ভেতরে দুধসর ও সর্বাঙ্গপুর গ্রামের মাঝে।
ঘন
পাটখেতের মধ্যে বিচার করে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
সিপিএম
জেলা সম্পাদক নৃপেন চৌধুরির অভিযোগ,
আতঙ্ক ছড়াতে
এই খুন।
মৃত
সাইদুর আমাদের সমর্থক।
নওদার
আর এস পি নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক জয়ন্ত বিশ্বাসও বলেন,
এভাবে খুন
নওদায় কোনও দিন হয়নি।
মৃত
মোহরের রয়েছে স্ত্রী ২ ছেলে ও ২ মেয়ে।
সাইদুলের স্ত্রী হাসিনা বিবির অভিযোগ,
আমার স্বামী
তো কোনও অন্যায় করেননি।
তবু
কেন খুন করল ওরা।
গত মঙ্গলবার
সকালে দিনের আলোয় বেসরকারি বাস থেকে নামিয়ে দুষ্কৃতীকারীরা আরও একজন
মুসলমানকে গলা কেটে খুন করেছে হাসেম শেখ নামের ব্যক্তিকে।
হাসেমের বাড়ি বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার মৌগ্রামে।
আর
খুনের ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সালার থানার ডাকবাংলো মোড়ে।
মৌগ্রামেরই নাদন মোল্লা দলবল নিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ।
হাসেম
এদিন বাসে কান্দি আদালতে যাচ্ছিলেন সাক্ষী দিতে।
নাদনের
দল হাসেমকে বাস থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে সবার সামনে রাস্তায় ফেলে গলার নালি
কেটে দেয়।
হাসেমের সঙ্গে ছিল তার ছেলে।